রাষ্ট্রপতি কোবিন্দের ক্রোয়েশিয়া সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি
ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ স্ত্রী সমভিব্যাহারে দক্ষিণ-পূর্ব ইওরোপের ছোট্ট একটি দেশ ক্রোয়েশিয়া সফর করলেন। ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পুরনো ঐতিহাসিক সমীকরণের অংগ, যখন নতুন দিল্লী, অবিভক্ত য়ুগোস্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড, কায়রো এবং জাকার্তার সঙ্গে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অংগ ছিল তখন থেকেই এই সমীকরণ চলে আসে। এই আন্দোলন ১৯৪৫ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত ঠান্ডা লড়াই এর যুগে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মতামত দেয়। কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম ক্রোয়েশিয়া সফর। প্রসঙ্গত ক্রোয়েশিয়ার জন্ম হয় ১৯৯২।
ভারত ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বহু প্রাচীন। রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ১৯২৬ সালে ক্রোয়েশিয়া গিয়েছিলেন। মসলার ব্যবসা ডাব্রোভনিককে গোয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ করে তোলে। জাগ্রেভ বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভারততত্ব বিভাগের দীর্ঘ ছয় দশকের ইতিহাস রয়েছে এবং এক দশক আগে ভারতীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পরিষদের সাম্মানিক হিন্দি চেয়ার সৃষ্টি করা হয়েছে।
ভারত ১৯৯২ সালে সৃষ্ট স্বাধীন ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে অবিলম্বে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ তাঁর সফরকালে জাগ্রেভ বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভারত ক্রোয়েশিয়া সম্পর্কের ওপর বক্তব্য রাখেন। তিনি ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর পূর্বসুরী ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের কথা উল্লেখ করেন, যিনি ১৯৬৫ সালে এই বিশ্ব বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ একটি সম্মানীয় সংস্কৃত চেয়ার চালু করেন এবং হিন্দি চেয়ারের নবীকরণ করেন। দুটি দেশকে ভাষা ইতিহাস এবং সংস্কৃতি শিক্ষার মাধ্যমে পরস্পরের কাছাকাছি নিয়ে আসার জন্য তিনি এই বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রশংসা করেন।
ক্রোয়েশিয়ার ভারতীয় সম্প্রদায়ের সংখ্যা এখনও খুব কম, সেখানে বসবাসরত ভারতীয়দের প্রশংসা করে তিনি বলেন আপনাদের মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়ার জনগণ ভারতকে দেখে এবং এদেশে আপনারা ভারতের ভাবমূর্তি তৈরি করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর সম্মানে আয়োজিত ভোজসভায় গত বছর ফিফা বিশ্ব কাপে ক্রোয়েশিয়ার চমকপ্রদ কর্মকুশলতার কথা তুলে ধরেন। ফিফা ফাইনালে তাদের রানার্স আপ হওয়া ভারতের জনমানসে সুদূর প্রসারী প্রভাব ফেলেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রকের মতে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ভারতীয় বাণিজ্যের পরিমাণ মোটামুটি ভালো। তাই এই সফর বাণিজ্যের নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করবে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের নতুন সম্প্রসারিত ক্ষেত্র হতে পারে বস্ত্র, চর্ম, ওষুধপত্র, কফি, চা, শিল্প, এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।
ভারত-ক্রোয়েশিয়া বাণিজ্য মঞ্চে শ্রী কোবিন্দ বলেন, বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অভিনবত্ব স্থাপন, গবেষণা, স্টার্ট আপ অংশীদারিত্ব ক্ষেত্রে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি মেক ইন ইন্ডিয়া, স্বচ্ছ ভারত, স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়ার মত বিভিন্ন প্রয়াসে ক্রোয়েশিয়ার অংশ গহণের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন আমরা ক্রোয়েশিয়ার কাছে পর্যটন এবং নগর পরিকাঠামোর বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে চাই।
ভারতের রাষ্ট্রপতি ন্ত্রী বলেন নতুন দিল্লী গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ এবং শান্তির মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। সেই কারণেই ভারত বিশ্ব বহুত্ববাদের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শাসন মজবুত করা এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম কানুন পালনের প্রতি অধিক গুরুত্ব দেয়।
জাগ্রেভ বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভাষণ দিয়ে রাষ্ট্রপতি মহাত্মা গান্ধীর এই ধারণার উল্লেখ করেন যে জ্ঞান এবং শিক্ষা হল মানবজাতির একতার উপলব্ধি এবং সত্যের ক্ষমতাকে ঐক্যবদ্ধ করার শক্তি যোগায়। দেশ ২রা অক্টোবর জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সার্ধোশত বর্ষ উদযাপন করবে এবং তখন ক্রোয়েশিয়ার জনগণের উপহার হিসেবে জাগ্রেভে তাঁর আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করা হবে। (মূল রচনাঃ উমু সাল্মা বাভা)
Comments
Post a Comment