Posts

Showing posts from February, 2020

এ সপ্তাহে সংসদ

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারমণের সংসদে ২০২০-২১’এর সাধারণ বাজেট পেশ ও তা নিয়ে আলোচনা পর্ব শেষ হবার পর ইতিমধ্যে উভয় সভায় আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম সম্পন্ন হল। বেশ কয়েকটি বিরোধী দলের সদস্য নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় সোচ্চার হওয়ায় উভয় সভায় উত্তেজনার পারদ প্রায়ই চরমে ওঠে। এদিকে সরকার পক্ষ সভার অধ্যক্ষের অনুমতি ক্রমে সব বিষয় নিয়ে আলোচনায় রাজী আছে বলে অবস্থান স্পষ্ট করেছে। চলতি বাজেট অধিবেশনে ৪২ টি বিল ও সাতটি আর্থিক বিষয় আলোচ্য বিষয়সূচিতে অন্তর্ভুক্ত।  নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন-CAA ও জাতীয় জনসংখ্যা রেজিস্টার-NPR সহ বেশ কিছু ইস্যুতে বিরোধী পক্ষের প্রবল আপত্তি ও হৈ হট্টগোলের জেরে রাজ্য সভার কাজ সময়ে সময়ে বেশ কিছুক্ষণের জন্যে মুলতুবি করে দিতে হয়। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই সহকারী চেয়ারম্যান হরিবংশ সংসদের উভয় সভার যৌথ অধিবেশনে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদ সূচক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করেন। ইতিমধ্যে সভার নেতা থাওয়ার চাঁদ গেহলত আলোচনা শুরু করার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে বিরোধীদের সহযোগিতার অনুরোধ জানান। তবে বিরোধী সদস্যরা তাঁর এই আবেদনে কর্ণপাত না কোরে CAA ,NPR ও আর...

উৎপাদন ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার 

বিশ্বের আর্থিক মন্দা পরিস্থিতির ফলে ভারতের অর্থনীতি চাপের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এ বছর জানুয়ারি মাসে দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রের ঘুরে দাঁড়ানো ভারতীয় অর্থনীতির বর্তমান পটভূমিকায় নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বাণিজ্য ও আর্থিক গবেষণা সংস্থা IHS Markit-এর সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস PMI সূচক জানুয়ারি মাসে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫.৩ পয়েন্ট হয়েছে। যা গত ডিসেম্বরে ছিল ৫২.৭ পয়েন্ট। এটি গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভারতীয় অর্থনীতির ক্ষেত্রে এ এক ইতিবাচক দিক। IHS Markit, বিশ্বব্যাপী ৪০টিরও বেশি অর্থনীতির ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচকের সমীক্ষা চালায়। PMI অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করে। উল্লেখ্য, PMI সুচকাংক ৫০-এর ওপরে হলে তা অর্থনীতির প্রসারের ইঙ্গিত দেয়। গ্রাহক পণ্য উপশাখা পুনরায় গতি বৃদ্ধি হয়েছে; অন্যদিকে মধ্যবর্তী পণ্য বিকাশ হার বজায় রেখেছে। মূলধনী পণ্যে গতি এসেছে। ফলে অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সম্ভাব্য নবীকরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বহির্বিশ্বের বাজারে চাহিদা বাড়ায় বিক্রিও বেড়েছে লক্ষ্যণীয় হারে। এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকাতে বিক্রয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৮-র নভেম্বরে...

ব্রেক্সিট, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতের ওপর তার প্রভাব

ব্রিটেন ২০১৬’য় ব্রেক্সিটের বিষয়ে গৃহীত গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুসারে ৩১শে জানুয়ারি ২০২০ ইউরোপীয় ইউনিয়ন – ইইউ থেকে সরে দাঁড়ানোর ফলে উভয়ের মধ্যে দীর্ঘ ৪৭ বছরের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটল। ব্রিটেন ১৯৭৩ সালে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিল। অন্যদিকে লিসবন চুক্তির ৫০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিয়মানুসারে ইইউ থেকে সরে আসা প্রথম সদস্য দেশও হল ব্রিটেন। একভাবে না হলেও বেক্সিটের প্রভাব ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ের ওপরেই পড়বে। ব্রেক্সিটের সমর্থকরা মনে করেন, এর ফলে ব্রাসেলসের প্রভাবমুক্ত হয়ে ব্রিটেনের জাতীয় শক্তি পুণঃঅর্জিত হবে, দেশ আরো মজবুত হবে এবং বিশ্বজনীন ব্রিটেন হয়ে ওঠার পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে। তবে এটা স্পষ্ট যে এই সফর সহজ হবে না। ব্রিটেনকে নতুন করে বিভিন্ন দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার অর্জন করতে হবে এবং বাণিজ্যিক চুক্তি করার উদ্যোগ নিতে হবে। ইইউ’এর থেকে সরে আসার প্রভাব শ্রমিকের যোগান, মূলধন এবং পরিষেবা সর্বক্ষেত্রের ওপরেই পড়বে। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্রিটেনের বৃহত্তম আমদানি ও রপ্তানি বাজার হওয়ায়, ব্রেক্সিটের পর বাণিজ্য সংক্রান্ত এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসছে যার জন্য প্রয়োজন নতুন করে চ...

দেশের অর্থনীতিকে ৫ ট্রিলিয়নে পৌঁছে দিতে সরকারের NIP কর্মসূচির ঘোষণা

কেন্দ্র ১০২ লক্ষ কোটি মূল্যের জাতীয় পরিকাঠামো পাইপ লাইন NIP কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণা, আগামী পাঁচ বছরে ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্তরে আমূল পরিবর্তন আনার সরকারের প্রতিশ্রুতির বিষয়েই ইঙ্গিত দিল। স্বাধীনতার পর, সরকারী অনুদানে একাধিক প্রকল্পের বিকাশ হয়েছে এবং এর ফলে জনগন উপকৃত হয়েছে। NIP কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে ভারতকে ৫ ট্রিলিয়ান অর্থনীতিতে পৌঁছে দিতেও সহায়ক হবে। NIP কর্মসূচি, এই ধরণের উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচির মধ্যে প্রথম প্রকল্প। এই কর্মসূচির ফলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং জীবনধারণের মান উন্নয়নেও সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত বছর স্বাধীনতা দিবসে তাঁর ভাষণে, আগামী পাঁচ বছরে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ১০০ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেছিলেন। এই লক্ষ্যে ২০১৯ সালে অর্থ দপ্তরের সচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়। এই টাস্ক ফোর্স চার মাসের মধ্যে ১০২ লাখ কোটি টাকা মূল্যের কর্মসূচি চিহ্নিত করে। এই কর্মসূচির আওতায় সড়ক পথ থেকে রেলপথ, জ্বালানি, শহরাঞ্চলীয় সেচ ব্যবস্থা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে একাধিক প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত...

উন্নয়ন মুখী কেন্দ্রীয় বাজেট

গতকাল সংসদে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারমণের পেশ করা ২০২০-২১’এর কেন্দ্রীয় বাজেটে ভারতীয় অর্থব্যবস্থার বর্তমান মন্দা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে উন্নয়নমুখী একগুচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হল-জনসাধারণের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে কৃষি ক্ষেত্রের উন্নতির জন্য একাধিক ব্যবস্থা, ও দেশে ব্যবসা অনুকূল পরিবেশকে শক্তিশালী করতে কোম্পানির লভ্যাংশের ওপর ধার্য করের বিলোপ সাধন। আর্থিক ক্ষেত্র বর্তমানে যে সব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, সেগুলির মোকাবিলায় শ্রীমতী সিতারমণ মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধির বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার উল্লেখ করেছেন। এর অঙ্গ হিসেবে পরিচ্ছন্নতা ও জল সংরক্ষণ ক্ষেত্রে সম্পদ সৃজনের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্পের রূপায়ণকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাবার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।  আগামী পাঁচ বছরে রূপায়ণযোগ্য ১০২ লাখ কোটি টাকার ‘জাতীয় পরিকাঠামো পাইপলাইন প্রকল্পের’ অধীন চলতি অর্থ বছরে ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।  বাজেটে ২০১৯-২০’র জন্য আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ আগের তুলনায় ০.৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৩.৮ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এর আগে...

অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্ট-২০২০

সংসদের উভয় সভার যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের অভিভাষণের মধ্য দিয়ে ২০২০-২১ অর্থবর্ষের বাজেট অধিবেশন শুরু হল। এর পরেই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্ট পেশ করলেন। একটি অর্থ বর্ষে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রের অর্জিত সাফল্য ও সীমাবদ্ধতার একটি সামগ্রিক প্রতিফলন হল এই অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্ট। সাম্প্রতিক কালে ভারতীয় অর্থব্যবস্থায় মন্দা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ২০২০’র এই সমীক্ষা রিপোর্ট বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই রিপোর্টে ২০১৯-২০ অর্থ বর্ষে ৫ শতাংশ বিকাশ হার অর্জনের পূর্বাভাষ দেওয়া হয়েছে। তবে শীঘ্রই অর্থব্যবস্থায় তেজী ভাব ফিরে এসে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ৬ থেকে সাড়ে ছয় শতাংশ বিকাশ হার অর্জন করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।  ২০২০’র অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় অর্থব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো শক্তিশালী রয়েছে, এবং এর প্রেক্ষিতে আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ তিন দশমিক তিন শতাংশের মধ্যেই সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ মুদ্রাস্ফীতির হার খুচরো বাজারে চার দশমিক এক শতাংশ ও পাই...