Posts

Showing posts from December, 2020

সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ট সম্পর্ক অব্যহত

পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী একটি আদালত ২৬/১১-র মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ সঈদকে সন্ত্রাসে অর্থ যোগান মামলায় ১৫ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে। সঈদ ইতিমধ্যেই একাধিক সন্ত্রাসবাদী অর্থ যোগান মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এই সর্বশেষ শাস্তির মেয়াদকে যুক্ত করলে তার মোট শাস্তির মেয়াদ ৩৬ বছর। ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ড বাস্তবায়নের মূলে রয়েছে ৭০ বছর বয়সী সাঈদ। সঈদের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-এ-তৈবা - এলইটি বছরের পর বছর ধরে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালিয়ে এসেছে। সঈদের এই শাস্তির বিষয়টি পুরোপুরিভাবে FATF বা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। পাকিস্তান "ধূসর তালিকা" থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে তবে এখন পর্যন্ত সফল হয় নি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এফএটিএফের আসন্ন পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের পরিপ্রেক্ষিতে, পাকিস্তান সন্ত্রাসে অর্থ যোগানকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাকিস্তান অতীতে হাফিজ সাঈদের নেতৃত্বাধীন দলগুলিকেও নিষিদ্ধ করেছিল। তবে, এই জাতীয় গোষ্ঠীগুলি বিভিন্ন নামে নতুনভাবে সক্রিয় হ...

নেপালে রাজনৈতিক বিপর্যয়

পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে,পি,শর্মা ওলির সংসদ ভেঙে দেওয়ার আচমকা প্রস্তাব সে দেশকে এক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। দলের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহলের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির স্বেচ্ছাচারী কাজকর্ম, অপশাসন, কোভিড -১৯ পরিস্থিতির কার্যকর মোকাবিলায় ব্যর্থতা এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাঁর মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকের পরে, শ্রী ওলি, রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারীর কাছে প্রতিনিধিসভা ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং ২০২১-এর ৩০শেএপ্রিল এবং ২০ মে সংসদে নতুন নির্বাচন করার আহ্বান জানান এবং রাষ্ট্রপতি সেই প্রস্তাবে তৎক্ষনাত অনুমোদন দেন। মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, দহল ও মাধব নেপাল গোষ্ঠীর সাত মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। সংসদ ভেঙে দেওয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশের সুপ্রিম কোর্টে তিনটি আবেদন করা হয়েছে। শ্রী দহলের নেতৃত্বে প্রায় ৯০ জন ক্ষমতাসীন দলের সদস্য প্রতিনিধিসভায় তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছেন এমন আশঙ্ক...

ভিয়েতনাম ভারতের ‘পূবে কাজ করার’ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ

ভারত ও ভিয়েতনামের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতি বৃদ্ধি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নুগেইন জুয়ান ফুক ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন। যদিও ভারত ও ভিয়েতনামের শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তবুও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিশেষত দক্ষিণ চীন সমুদ্র এবং ভারত-চীন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় নানান ঘটনাবলীর ফলে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন কৌশলগত মাত্রা যুক্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ভিয়েতনামকে ভারতের ‘পূবে কাজ করার’ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং নতুন দিল্লির ‘ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গির’ এক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন যে ভারত ভিয়েতনামের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে দীর্ঘ মেয়াদী এবং কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে "শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের সাধারণ লক্ষ্য" এবং "আমাদের অংশগ্রহণ এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।" দক্ষিণ চীন সমুদ্রে...

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়া লক্ষ্যে

দেশীয় শিল্পক্ষেত্র থেকে ২৭,০০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয়ে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ – ডিএসি অনুমোদন দিয়েছে। এই পদক্ষেপ অবশ্যই সরকারের "মেক ইন ইন্ডিয়া" এবং "আত্মনির্ভর ভারত" উদ্যোগকে উত্সাহ দেবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ১২ই মে আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ১৬ই মে পরবর্তী প্রতিরক্ষা-বিষয়ক সংস্কারের ঘোষণা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি গত ফেব্রুয়ারি মাসে লখনৌএ একাদশ প্রতিরক্ষা এক্সপোর উদ্বোধনে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি বেসরকারী বিনিয়োগকারীদের দেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। এর ফলে দুটি উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব। বিনিয়োগের থেকে যথেষ্ট ভালো ফেরত পাওয়া এবং এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম এই অর্থনীতিকে প্রতিরক্ষা উত্পাদনে স্বাবলম্বী করে তোলা। সরকার যে গুরুত্ব সহকারে প্রতিরক্ষা সংস্কারের চেষ্টা চালাচ্ছে তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।  এই সংস্কারগুলির লক্ষ্য ভারতের বিশাল প্রতিরক্ষা আমদানির ব্যয় হ্রাস করা। উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে জটিল প...

পিডিএম-এর অগ্রগতি ও ইমরান খানের গলাবাজির মধ্যবর্তী অবস্থায় পাকিস্তান

এগারোটি দলকে নিয়ে গঠিত পাকিস্তান গণতান্ত্রিক আন্দোলন (পিডিএম) জোরদার হওয়ায় এবং ইসলামাবাদে আসন্ন জানুয়ারিতে এই জোটের একটি বড় সমাবেশের আয়োজনের প্রয়াসে, ইমরান খান সরকারকে অস্থির দেখাচ্ছে। অক্টোবর মাসের পর থেকে অনুষ্ঠিত সমাবেশগুলিতে এর প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলি জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভা থেকে সার্বিকভাবে পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করতে থাকায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকার আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এই উদ্বেগের সর্বশেষতম উদাহরণ হ'ল সরকারের এক বরিষ্ঠ মন্ত্রীর অভিযোগ। তিনি অভিযোগ আনেন যে পিডিএম তার সমাবেশগুলি করার জন্য বিদেশী তহবিল পাচ্ছে। টেলিভিশন আলোচনায় অন্যান্য মন্ত্রীরাও যে উৎকন্ঠায় তা ধরা পড়ে যখন তারা তাদের বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিগ্রস্থ এবং স্বার্থপরতার মতো অতি-পরিচিত জরাজীর্ণ অভিযোগ তুলে ধরেন।  সাম্প্রতিক সাক্ষাত্কারে ইমরান খান নিজের দলের পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি কিছু করতে পারেন নি। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি দুর্নীতিবাজ বিরোধী নেতাদের ক্ষমা প্রদর্শন করবেন না এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে এই জনসভা বন্ধ না রাখা হলে, সরকার ১৩ ...

আফগান শান্তি আলোচনা: আশার ঝলক

দীর্ঘ কয়েক মাস বাক্যালাপ চলার পর, আফগান সরকার এবং তালেবানদের মধ্যে বহু প্রত্যাশিত শান্তি আলোচনা একটি নির্দিষ্ট বাঁক নেবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। উভয় পক্ষ আলোচনার পন্থাপদ্ধতির বিষয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছে যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আলোচনা এবং কার্যপদ্ধতি নির্দিষ্টভাবে পরিচালনা সম্ভব হবে। একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে যা হিংসাদীর্ণ দেশটিতে সংঘর্ষ বিরতি সহ আরও একাধিক নির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে। আফগানিস্তানে বিশেষ মার্কিন দূত, জালমে খালিজাদের মতে, ঐ চুক্তির তিন পৃষ্ঠা নথিতে, আফগানিস্তানের ভবিষ্যত রাজনৈতিক প্রশাসনের খসড়া এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ, দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বিত, সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পন্থা ও পদ্ধতিগুলির কথা বলা হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দোহায় মার্কিন-সমর্থিত শান্তি আলোচনা শুরু হয়। তবে উভয়পক্ষের মধ্যে অগণিত পার্থক্যের কারণে এ বিষয়ে নানা ধরণের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। তালেবানরা আফগানিস্তানে আশরাফ গনির নেতৃত্বাধীন সরকারের বৈধতা মেনে নিতে অস্বীকার করছে। অন্যদিকে তালেবানদের উদ্দেশ্য নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তারা আফগান সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচন...

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে ভারতের মজবুত কৌশলগত সম্পর্ক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে দু'দিনের সফর ছিল কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক অবস্থার জন্য ভারতের কৌশলের একটি অংশ। ভারত-আমিরশাহি সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা সামনে উঠে এল আবু ধাবির যুবরাজ তথা কার্যত সেদেশের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মধ্যে আলোচনার সময়। উপসাগরীয় অঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি হ’ল ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। ভারতীয় নাগরিকদের প্রতি প্রযত্নশীল থাকার ক্ষেত্রে ভারতের পক্ষ থেকে আমিরশাহির প্রয়াসের ‘প্রশংসা’ জানানো ছাড়াও, উভয় নেতা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পরে, ডক্টর জয়শঙ্কর আমিরশাহির বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিকাঠামো, জ্বালানি, খাদ্য সুরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা সহ সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও আলোচনা করেন এবং বিভিন্ন বহুপাক্ষিক বিষয়ে সমন্বয় অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে ডক্টর জয়শঙ্করের এটি প্রথম সংযুক্ত আরব...