Posts

আরব-ভারত সহযোগিতা মঞ্চের বৈঠক

আরব-ভারত সহযোগিতা মঞ্চের পদস্থ আধিকারিকদের তৃতীয় বৈঠকটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই বৈঠকের সহ-সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রকের বাণিজ্যিক দূতাবাস, পাসপোর্ট এবং ভিসা ও প্রবাসী ভারতীয় বিষয়ক সচিব শ্রী সঞ্জয় ভট্টাচার্য এবং মিশরের সহকারী বিদেশ মন্ত্রী তথা রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবু আল-খির এবং আরব রাষ্ট্রসমূহের লীগে মিশরের স্থায়ী প্রতিনিধি সহ আরব দেশগুলি, ভারত এবং আরব রাষ্ট্রসমূহের লীগের সাধারণ সচিবালয়ের পদস্থ আধিকারিকগণ এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। পদস্থ আধিআকরিকগণ আরব বিশ্ব ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক এবং সভ্যতার সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং উভয় পক্ষকে একত্রে আবদ্ধ করার জন্য বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের অবদানকে তুলে ধরেন। তারা আরব-ভারত সহযোগিতার সুদৃঢ় ভিত্তি এবং দুর্দান্ত সম্ভাবনা এবং আরব-ভারত সম্পর্ককে প্রশস্ত দিগন্তের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যে ভূমিকা নিতে পারে তার প্রশংসা করেছে। পদস্থ আধিকারিকগণ উভয় পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা এবং সমন্বয় ব্যবস্থা মজবুত করার গুরুত্বকে জোর দিয়ে, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সুরক্ষা বজায় রাখতে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক উদ্বে...

পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা অব্যাহত রয়েছে

পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা ও বৈষম্যমূলক আচরণ একইভাবে অব্যাহত রয়েছে। ১৯৪৭ সালে নতুন দেশ হিসেবে পাকিস্তান অস্তিত্ব লাভের অব্যবহিত পরেই এই আচরণ শুরু হয়েছিল এবং কিন্তু গত শতাব্দীর আশির দশকে তা তীব্রতর হয়ে ওঠে। প্রাথমিকভাবে নৃশংস আচরণ বেশিরভাগ হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন এবং খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে এগুলি শিয়া, আহমদিয়া, মুহাজির, হাজারাস, সেরাইকিস এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী অন্যান্য অনুরূপ সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধেও ছড়িয়ে পড়ে। এই নৃশংসতা ও বৈষম্যমূলক আচরণ অপহরণ, খুন, গণহত্যা, বলপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন, হিংসার হুমকি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ধর্মনিন্দার অভিযোগে হত্যায় রূপান্তরিত হয়েছে। মতাদর্শগতভাবে বিশ্বাসের ভিত্তিই সাধারণভাবে এই সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার পিছনে প্রেরণাদায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। আহমদিয়াদের ইতিমধ্যে ধর্মদ্রোহী হিসাবে ঘোষণা করা হলেও পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নি জনগোষ্ঠী এবং শিয়া সংখ্যালঘুদের মধ্যে গভীর ধর্মীয় বিভাজন রয়েছে। নৃশংসতার যে অব্যাহত রয়েছে তার সাম্প্রতিকতম ঘটনায় প্রমাণিত হয় যেখানে বালুচ...

পাকিস্তানে রাজনৈতিক ছলচাতুরি অব্যহত

পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে গঠিত সরকার বিরোধী জোট - পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট – পিডিএম, লাহোরের মিনার-এ-পাকিস্তানে, ২০২০ সালে তাদের প্রথম বিক্ষোভের পর্ব সমাপ্ত করেছে এবং ইমরান খানের নেতৃত্বে তেহরি-এ ইনসাফ সরকারের পতনের জন্য তা 'চূড়ান্ত আঘাত' বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে লাহোর ‘জলসা’ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং পিএমএল-এন দলের দুর্গ হিসাবে পরিচিত পাঞ্জাবেও বিশেষ সাফল্য পায় নি। পিডিএম বিক্ষোভের দ্বিতীয় পর্বে ইসলামাবাদে লং মার্চের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পিডিএমের মনোবলে ঘাটতি রয়েছে। পিডিএমের অনেক সদস্যই জাতীয় ও প্রাদেশিক সভা থেকে পদত্যাগের ধারণার বিরোধিতা করেছেন। লাহোর জলসার পরে এটাই পিডিএমের পরবর্তী পদক্ষেপ বলে মনে করা হয়েছিল। জমায়ত-এ উলেমা-এ ইসলামি (ফ)-তে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং মৌলানা ফজল-উর-রেহমান বিরোধী কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এনআরও প্রসঙ্গ ব্যতীত যে কোনও বিষয়ে পিডিএমের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে উল্লেখ ক’রে পাকিস্তান সরকার তার পাল্টা কৌশল জোরদার করেছে। ইসলামাবাদে আয়ের জ্ঞাত উৎস বহির্ভূত সম্পদ সংক্রান্ত পি...

ভারত প্রতিরক্ষা রফতানি শুরু করেছে

ভারতের লক্ষ্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের নিট রফতানিকারক একটি দেশ হিসেবে গড়ে ওঠা। ভারত ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ভারত রফতানি ক্ষেত্রে ২০১৮ অর্থবছরে ৪,৬৮২ কোটি টাকা থেকে ২০১৯ অর্থবছরে তা দ্বিগুণ করে ১০,৭৪৫ কোটি টাকা করতে সক্ষম হয়েছে। আত্ম নির্ভর’ ভারত-এর অধীনে ভারত বিভিন্ন ধরণের প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতাকে বাড়ছে। ‘আকাশ’ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা যার ৯৬ শতাংশেরও বেশি দেশজ। ‘আকাশ’ ২৫ কিলোমিটার পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপনাস্ত্র। এই ক্ষেপনাস্ত্রটি ভারতীয় বিমানবাহিনীতে ২০১৪ সালে এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে ২০১৫ সালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরে এই ‘আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী এবং এয়ারো ইন্ডিয়ায় বেশ কয়েকটি বন্ধু দেশ আগ্রহ দেখায়। মন্ত্রীপরিষদের অনুমোদন, বিভিন্ন দেশের জারি করা আরএফআই/আরএফপিতে অংশ নিতে ভারতীয় উত্পাদনকারীদের সহায়তা করবে। এখনও পর্যন্ত, ভারতীয় প্রতিরক্ষা রফতানীতে সরঞ্জাম বা য...

সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ট সম্পর্ক অব্যহত

পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী একটি আদালত ২৬/১১-র মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ সঈদকে সন্ত্রাসে অর্থ যোগান মামলায় ১৫ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে। সঈদ ইতিমধ্যেই একাধিক সন্ত্রাসবাদী অর্থ যোগান মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এই সর্বশেষ শাস্তির মেয়াদকে যুক্ত করলে তার মোট শাস্তির মেয়াদ ৩৬ বছর। ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ড বাস্তবায়নের মূলে রয়েছে ৭০ বছর বয়সী সাঈদ। সঈদের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-এ-তৈবা - এলইটি বছরের পর বছর ধরে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালিয়ে এসেছে। সঈদের এই শাস্তির বিষয়টি পুরোপুরিভাবে FATF বা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। পাকিস্তান "ধূসর তালিকা" থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে তবে এখন পর্যন্ত সফল হয় নি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এফএটিএফের আসন্ন পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের পরিপ্রেক্ষিতে, পাকিস্তান সন্ত্রাসে অর্থ যোগানকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাকিস্তান অতীতে হাফিজ সাঈদের নেতৃত্বাধীন দলগুলিকেও নিষিদ্ধ করেছিল। তবে, এই জাতীয় গোষ্ঠীগুলি বিভিন্ন নামে নতুনভাবে সক্রিয় হ...

নেপালে রাজনৈতিক বিপর্যয়

পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে,পি,শর্মা ওলির সংসদ ভেঙে দেওয়ার আচমকা প্রস্তাব সে দেশকে এক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। দলের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহলের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির স্বেচ্ছাচারী কাজকর্ম, অপশাসন, কোভিড -১৯ পরিস্থিতির কার্যকর মোকাবিলায় ব্যর্থতা এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাঁর মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকের পরে, শ্রী ওলি, রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারীর কাছে প্রতিনিধিসভা ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং ২০২১-এর ৩০শেএপ্রিল এবং ২০ মে সংসদে নতুন নির্বাচন করার আহ্বান জানান এবং রাষ্ট্রপতি সেই প্রস্তাবে তৎক্ষনাত অনুমোদন দেন। মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, দহল ও মাধব নেপাল গোষ্ঠীর সাত মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। সংসদ ভেঙে দেওয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশের সুপ্রিম কোর্টে তিনটি আবেদন করা হয়েছে। শ্রী দহলের নেতৃত্বে প্রায় ৯০ জন ক্ষমতাসীন দলের সদস্য প্রতিনিধিসভায় তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছেন এমন আশঙ্ক...

ভিয়েতনাম ভারতের ‘পূবে কাজ করার’ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ

ভারত ও ভিয়েতনামের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতি বৃদ্ধি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নুগেইন জুয়ান ফুক ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন। যদিও ভারত ও ভিয়েতনামের শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তবুও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিশেষত দক্ষিণ চীন সমুদ্র এবং ভারত-চীন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় নানান ঘটনাবলীর ফলে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন কৌশলগত মাত্রা যুক্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ভিয়েতনামকে ভারতের ‘পূবে কাজ করার’ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং নতুন দিল্লির ‘ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গির’ এক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন যে ভারত ভিয়েতনামের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে দীর্ঘ মেয়াদী এবং কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে "শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের সাধারণ লক্ষ্য" এবং "আমাদের অংশগ্রহণ এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।" দক্ষিণ চীন সমুদ্রে...