ইংল্যান্ড ২০১৯এর আই সি সি বিশ্বকাপ বিজয়ী
আই সি সি বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯এর আয়োজক এবং প্রবল দাবীদার এবং ইংল্যান্ড দীর্ঘ ৪৪ বছর প্রতীক্ষার পর রবিবার রাতে লর্ডসের শ্বাসরুদ্ধকারী ফাইনাল ম্যাচের সুপার ওভারে নিউজিল্যন্ডের বিরুদ্ধে প্রথমবার জয় লাভ করে। যথার্থভাবেই এই জয়ের নেতৃত্ব দেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়ার বেন স্ট্রক।
নির্ধারিত ৫০ ওভার ক’রে খেলার পর দু’ দলের রান ২৪১এ সমান সমান থাকে; তারপর ম্যাচ নির্ধারণকারী সুপার ওভারে বেন স্ট্রোক এবং জস বাটলার ১৫ রান তুলে নিউজিল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ১৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন।
জবাবে, নিউজিল্যান্ডের জিম্মি নীশাম এবং মার্টিন গুপ্তিল তাদের স্কোর আবার ইংল্যান্ডের স্কোরের সমান সমান করে দেন। কিন্তু ইনিংসে অধিক বাউন্ডারি করার দরুন ইংল্যান্ড জয়ী বলে ঘোষিত হয়। ইংল্যাডের ৫০ ওভারে ছিল ২২টি বাউন্ডারি আর নিউজিল্যান্ডের ছিল ১৪টি।
বিজয়ী দলের পক্ষে বিশ্বকাপের নবাগত জোফ্রা আর্চার অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিতভাবে ছটি বল করেন এবং বিরোধী ব্যাটসম্যানদের বেশি রান করার সুযোগ দেন নি।
সাত সপ্তাহের নাটকীয় এবং আবেগেভরা প্রতিযোগিতা এই জয়ের মধ্যে দিয়ে সমাপ্ত হয়। এই ফলাফলে পেতে ৪৮টি ম্যাচ খেলা হয়। ইংল্যান্ড ১৯৭৯, ১৯৮৭ এবং ১৯৯২এর ফাইনালে পরাজিত হবার পর চতুর্থবারের ফাইনালে শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করে।
নিউ জিল্যান্ডের কাছে , অস্ট্রেলিয়ার সমান আট বার আই সি সি বিশ্ব কাপে সেমিফাইনালে কোয়ালিফাই করার পর এই পরাজয় ছিল খুবই মর্মান্তিক। এই প্রক্রিয়ায় তারা এবারের প্রতিযোগিতার অন্য এক প্রবল দাবীদার ভারতকে সেমি ফাইনালে পরাজিত করে।
নিউজিল্যন্ড প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৪১ রান তোলে। তারপর ব্যাট করতে নেমে এক সময় ইংল্যান্ডের অবস্থা ছিল চার উইকেট হারিয়ে ২৩ ওভার ১ বলে মাত্র ৮৬ রান। ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্ট্রোক্সের অপরাজিত ৮৪ এবং জোস বার্টলার ৬০বলে অনবদ্য ৫৯রান এই চ্যালেঞ্জকে আরো জোরদার করে তোলে।
নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ওপেনিং ব্যাটসম্যান হেনরি নিকোলস এবং উইকেট কিপার-ব্যাটসম্যান টম ল্যাথামের দ্রুত ৪৭রান তাদের মোট রানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করে। ইংল্যান্ডের পক্ষে ফাস্ট বোলার চেরিস ওকস এবং লিয়াম প্লাঙ্কেট তিনটি করে উইকেট নেন।
মজার ব্যাপার হল প্রতিযোগিতার টপ স্কোরার ৬৪৮ রান সহ ভারতের রোহিত শর্মা এবং ৬৪৭ রান সহ দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার একটি বিশ্ব কাপেই সচীন তেন্দুলকারের সর্বকালের রেকর্ড ভাঙ্গার মত অবস্থায় প্রায় পৌঁছে গিয়েছিল। তবে উভয়েই তাদের পরাজিত নিজ নিজ সেমিফাইলের খেলায় খুব খারাপভাবে আউট হন। তাই আর সেটি হয়ে ওঠে নি।
তবে শর্মা একটি বিশ্ব কাপে ৫টি শতরান করার রেকর্ড করেন। ফাস্ট বোলার মিটশেল স্টার্ক ২০১৯এর আই সি সি বিশ্ব কাপে ২৯টি উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ারই পেসবোলার গ্লেন ম্যাকগ্র্যাথের ২৮টি উইকেটের রেকর্ড ভঙ্গ করেন।
এর আগে দুটি প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন দল ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া সেমি ফাইনালে পরাজিত হয়। পাঁচ বারের বিজয়ী অস্ট্রেলিয়াকে ইংল্যান্ড আট উইকেটে পরাজিত করে।
তার একদিন আগে নিউজিল্যান্ড অনায়াসে প্রতিযোগিতার অন্য এক দাবীদার ভারতকে হারিয়ে দেয়। দুবারের বিজয়ী ভারত মজবুত নিউজিল্যান্ডের সামনে তেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে নি এবং ১৮ রানে পরাজিত হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে এই ম্যাচও শেষ হয় সংরক্ষিত দিনে।
লীগ পর্যায়ের যে ছ’টি দল বেরিয়ে যায় তার মধ্যে পাকিস্তান ছিল মনে রাখার মত, অন্যদিকে আফগানিস্তান যেখানেই খেলেছে সকলের মন জয় করেছে। পাকিস্তানের সন্তোষের বিষয় হবে যে তারা ফাইনালে ওঠা দুটি দল নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড উভয়কেই পরাজিত করতে সক্ষম হয়। তারা নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে এবং ইংল্যান্ডকে ১৬ রানে পরাজিত করে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিসের এবারের বিশ্ব কাপ খেলা দেখে তাদের সমর্থক এবং ক্রিকেট প্রেমীরা খুশী হতে পারে নি বলেই মনে হয়।
যাইহোক সব মিলিয়ে বলা যায় প্রতিযোগিতার চারটি সেরা দল সেমি ফাইনালে খেলে এবং তার মধ্যে থেকে দুটি দল ফাইনালে ওঠে। দুর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুন্যের পরিচয় দিয়ে ইংল্যান্ড বর্ণাঢ্য লর্ডসের ময়দানে বিশ্ব কাপ ট্রফি অর্জন করে। ক্রিকেটের আধ্যাত্মিক ধাত্রীভূমি ইংল্যান্ডে এক সর্নালী সন্ধায় অত্যন্ত রোমাঞ্চকরভাবে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। (মূল রচনাঃ রাহুল ব্যানার্জী)
Comments
Post a Comment