পাকিস্তান আবার হাফিজ সঈদকে রেহাই দিল

পাকিস্তানে নিষিদ্ধ জামাৎ-উদ-দাওয়া জঙ্গি সংগঠন-JuD’এর  প্রধান জাফিজ মহম্মদ সঈদ ও অন্যান্য তিনজনকে লাহোরের একটি সন্ত্রাস  দমন আদালতের অগ্রিম জামিন মঞ্জুর করার খবরটি এখন সংবাদের শিরোনামে। তবে পাকিস্তানের এই আচরণে অবাক হবার কিছু নেই। যে মামলায় এই জামানত মঞ্জুর করা হল সেটি  JuD’এর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জন্য বেআইনীভাবে জমি অধিগ্রহণ ও সন্ত্রাসবাদে অর্থ সহায়তার অভিযোগ সংক্রান্ত। 
অভিযুক্তদের প্রত্যেকের দেওয়া ৫০,০০০ টাকা জামিনের পরিবর্তে তাদের অগ্রিম জামানত দেওয়া হল আগামী ৩১’এ আগস্ট পর্যন্ত। অভিযুক্তদের মধ্যে আছে হাফিজ সঈদ, তার ভাই হাফিজ মাসুদ ও লস্কর-এ তৈবা-LeT’এর যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা আমীর হামজা ও মালিক জাফর। হামজা ও জাফরের বিরুদ্ধে JuD’এর  জন্য অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ আছে। অসমর্থিত খবরে প্রকাশ, এক বছর আগে হামজা LeT’ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ‘জয়েশ-এ –মানকাফা’ নামে নিজস্ব জঙ্গি গোষ্ঠী গঠন করে।  
উল্লেখ করার বিষয়, এ মাসের প্রথম সপ্তাহে পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমন বিভাগ-CTD, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি-NSC’র নির্দেশে JuD নেতাদের বিরুদ্ধে লাহোর, গুরজানওয়ালা, ফাইজলাবাদ ও সারগোধা থানায় ২৩ টি FIR  দায়ের করে।এ ছাড়াও এ বছরের মে মাসে সঈদের শালক আবদুল রেহমান মাক্কি ও মহম্মদ সাহাবাদকেও গ্রেপ্তার করা হয়।  
পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমের দেওয়া খবর অনুযায়ী, বিস্তারিত তদন্তের পর  CTD, JuD’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন ট্রাস্টের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদে সহয়াতার জন্য প্রচুর পরিমান অর্থ সংগ্রহে লিপ্ত থাকার প্রমাণ পায়। 
এই সব ঘটনার পরেও  জঙ্গি সংগঠন-JuD’এর  প্রধান জাফিজ মহম্মদ সঈদ ও অন্যান্য তিনজনকে অগ্রিম জামিন মঞ্জুরির বিষয়টিতে  পাকিস্তানের বিভিন্ন আইন বলবৎকারী সংস্থার সন্ত্রাস দমনে আন্তরিকতার অভাব ও সেগুলির মধ্যে তালমিলের অভাবই প্রকট হয়ে উঠেছে। 
তবে পাকিস্তান এর আগেও  এই ধরণের আচরণ করেছে। হাফিজ সঈদকে ১০ মাস গৃহ বন্দী রাখার পর লাহোরের একটি আদালত তাকে ২০১৭’র নভেম্বরে মুক্ত করে দেয়। এর ফলে সঈদের ধারণা হয়েছে যে পাকিস্তান সরকার তার বিশেষ কোনও ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। অপরদিকে সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের আইন বলবৎকারী সংস্থাগুলির এই ধরণের প্রতীকী ব্যবস্থা গ্রহণ সে দেশের প্রচার মাধ্যমে বেশ ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে; যার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান সরকারের  সঙ্কল্পবদ্ধতার প্রমাণ দিতে চাওয়া হয়েছে।
প্রকৃত অর্থে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে পড়েই সন্ত্রাস দমনে এই ধরণের নিছক লোক দেখানো ব্যবস্থা নিয়েছে। গতমাসে আমেরিকার অরল্যান্ডোতে আর্থিক সহায়তা বিষয়ক টাস্ক ফোর্স- FATF’এর পর্যালোচনা বৈঠকে পাকিস্তান সরকারকে সন্ত্রাস দমনে ও জঙ্গি তৎপরতায় আর্থিক মদতদানকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়।  
আসলে সঈদ ও অন্যান্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র গঠনে অনেক ত্রুটি বিচ্যুতি থাকার ফলেই তাদের অগ্রিম জামিন পাবার পথ সুগম হয়। এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, সঈদের পক্ষে নিযুক্ত উকিলের পেশ করা  আবেদনে বলা হয়েছে, CTD ভুল ক্রমে সঈদ ও তার সহযোগীদের লস্কর-এ তৈবা-LeT’এর সদস্য হিসেবে দেখিয়েছে, অথচ ২০০৩’এ লাহোর হাইকোর্টের দেওয়া রায় অনুযায়ী ২০০১’এর ডিসেম্বরেই সে ওই সংগঠন ত্যাগ করে। আর  LeT কে নিষিদ্ধ করা হয় ২০০২’এর জানুয়ারী মাসে। 

 বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান সরকারের পিছনে গোপনে একটি শক্তিশালী  মৌলবাদী চক্র কাজ করছে। আর তাদের সঙ্গে LeT’এর মত নানা জঙ্গি গোষ্ঠীর  যোগসাজশের কারণেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষিত হাফিজ সঈদের মত জঙ্গির বিরুদ্ধে নির্ণায়ক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে  না। এতে সন্ত্রাস দমনে রাষ্ট্র শক্তির অসহায়তারই প্রমাণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।  (মূল রচনাঃ- ডঃ অশোক বেহুরিয়া)

Comments