এ সপ্তাহে সংসদে

সংসদের উচ্চ কক্ষ রাজ্য সভার চলতি অধিবেশনে ইলেক্ট্রনিক সিগারেট নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিল ২০১৯ গৃহীত হয়েছে এবং বিশেষ সুরক্ষা গোষ্ঠী (সংশোধনী) বিল, ২০১৯ এবং দাদরা ও নগর হাভেলি, দমন ও দিউ কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল সংযুক্তিকরণ বিল ২০১৯ উচ্চ কক্ষে উত্থাপন করা হয়েছে।

নিম্ন কক্ষ লোকসভায় তুমূল বিতর্কের পর কর আইন সংশোধনী বিল, ২০১৯ গৃহীত হয় । এই বিলের মাধ্যমে কর্পোরেট কর অনেকটা হ্রাস করার সংস্থান রাখা হয়েছে। বিতর্কের সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতা রমণ বলেন যে কর্ম সংস্থান সৃষ্টি এবং বিকাশ হার বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন চলতি চীন-মার্কিন বাণিজ্য লড়াইয়ের মধ্যে চীনের বিকল্প হিসেবে বহু জাতিক কোম্পানীগুলির কাছে ভারতকে প্রতিযোগিতা মূলক গন্তব্য করে তোলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তিনি বলেন, পয়লা অক্টোবরের পর অন্তর্ভুক্ত ম্যানুফ্যাকচারিং সংস্থায় বিনিয়োগকারী কোনো কোম্পানী কোনো রকম ছাড়ের সুবিধা গ্রহণ না করা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ হারে কর দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে এবং ২০২৩ এর ৩১শে মার্চের আগে উৎপাদন শুরু করতে পারে। শিল্পের কর্ণধারগণ এই কর হ্রাসের প্রশংসা করেছেন।

উচ্চ কক্ষ রাজ্য সভা ধ্বনি ভোটে ইলেক্ট্রনিক সিগারেট নিষিদ্ধকরণ বিল ২০১৯ পাস করে। এতে দেশে বৈদ্যুতিন সিগারেটের উৎপাদন, মজুত এবং বিজ্ঞাপণ নিষদ্ধ করা হয়েছে। যাতে নিকোটিন এবং অন্য রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে এবং যা শ্বাস গ্রহণের জন্য বাস্প সৃষ্টি করতে পারে তাকে ইলেক্ট্রনিক সিগারেট বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য এক বছরের কারাবাস এবং দশ লক্ষ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানার সংস্থান রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রী ড. হর্ষবর্ধন বিতর্কের জবাব দিয়ে মন্তব্য করেন সরকারের এই পদক্ষেপ থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যে সব চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা সময় মত দূর করার বিষয়ে ভারত কতটা আগ্রহী তা উপলব্ধি করা যায়।

সংসদের উচ্চ কক্ষে বিশেষ সুরক্ষা সংশোধনী বিল ২০১৯ও গৃহীত হয়েছে। গত সপ্তাহে নিম্ন কক্ষে এই বিলটি পাস হয়। এই বিলে কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সবচেয়ে নিকটাত্মীয় এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও পরিবারকে পাঁচ বছরের জন্য এস পি জি সুরক্ষা দেবার প্রস্তাব করা হয়েছে। কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউকে সংযুক্ত করার জন্য লোকসভায় আর একটি বিল পাস হয়। নিম্ন কক্ষে জাহাজ রিসাইক্লিং বিল ২০১৯ও গৃহীত হয়েছে। এতে জাহাজে বিপজ্জনক পদার্থ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং জাহাজের রিসাইক্লিং নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল বা সি এ বি অনুমোদিত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিলটি সংসদে উত্থাপিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি সারা দেশে নাগরিকদের জাতীয় রেজিস্টার এন আর সি ব্যবস্থার পক্ষে মত পোষন করছে তাই ৪ঠা ডিসেম্বর সি এ বির ক্যাবিনেট অনুমোদন তাৎপর্যপূর্ণ। বিলে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আগত হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পারসি এবং খ্রীস্টান শরনার্থীকে নাগরিকত্ব দিতে চাওয়া হয়েছে। এই সংস্থান ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন থেকে অনেকটাই ভিন্ন। ঐ আইনের আওতায় যদি কোনো ব্যক্তির উপযুক্ত ভ্রমণ নথিপত্র না থাকে বা অতিরিক্ত সময় এদেশে থাকেন তবে তাকে অবৈধ অভিবাসী বলে গণ্য করা হয়।

মন্ত্রী সভায় ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা বিলটিও অনুমোদিত হয়েছে এবং সরকার চলতি শীতকালীন অধিবেশনেই বিলটি উত্থাপন করবে। এই বিলে ব্যক্তিগত ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াকরণ, ব্যক্তির সম্মতি, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ, আচরণ বিধি এবং বলবৎ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা স্থির করতে চাওয়া হয়েছে। আর্থিক এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রেকর্ড সহ গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ভারতে সংরক্ষিত রাখতে হবে। বিলটি উত্থাপিত হবার পর বিদেশী কারবারীদের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থান স্থির করা হবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শা সভায় জানান যে ভারতীয় দন্ড বিধি আই পি সি এবং ফৌজদারী নিয়ম বিধি সি আর পি সি তে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পরামর্শ দেবার জন্য সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। উচ্চ সভায় প্রশ্নোত্তরকালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন দেশ থেকে সমস্ত অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর জন্য রাজ্যগুলির প্রতি নির্দেশ জারী করা হয়েছে। (মূল রচনাঃ যোগেশ সুদ)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভৈভব (VAIBHAV) শিখর সম্মেলন ২০২০

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়