উৎপাদন ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার 



বিশ্বের আর্থিক মন্দা পরিস্থিতির ফলে ভারতের অর্থনীতি চাপের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এ বছর জানুয়ারি মাসে দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রের ঘুরে দাঁড়ানো ভারতীয় অর্থনীতির বর্তমান পটভূমিকায় নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বাণিজ্য ও আর্থিক গবেষণা সংস্থা IHS Markit-এর সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস PMI সূচক জানুয়ারি মাসে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫.৩ পয়েন্ট হয়েছে। যা গত ডিসেম্বরে ছিল ৫২.৭ পয়েন্ট। এটি গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভারতীয় অর্থনীতির ক্ষেত্রে এ এক ইতিবাচক দিক।

IHS Markit, বিশ্বব্যাপী ৪০টিরও বেশি অর্থনীতির ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচকের সমীক্ষা চালায়। PMI অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করে। উল্লেখ্য, PMI সুচকাংক ৫০-এর ওপরে হলে তা অর্থনীতির প্রসারের ইঙ্গিত দেয়। গ্রাহক পণ্য উপশাখা পুনরায় গতি বৃদ্ধি হয়েছে; অন্যদিকে মধ্যবর্তী পণ্য বিকাশ হার বজায় রেখেছে। মূলধনী পণ্যে গতি এসেছে। ফলে অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সম্ভাব্য নবীকরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বহির্বিশ্বের বাজারে চাহিদা বাড়ায় বিক্রিও বেড়েছে লক্ষ্যণীয় হারে। এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকাতে বিক্রয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৮-র নভেম্বরের পর থেকে রফতানি ক্ষেত্রেও নতুন ভাবে চাহিদা বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই সমীক্ষায়। কিছু সংস্থা ধাতু, টেক্সটাইল এবং খাদ্যের দাম বেশি বলে জানিয়েছে, অন্যরা জানিয়েছে, তামা, প্যাকেজিং উপকরণ এবং রাবারের মূল্য হ্রাস পেয়েছে।

চাহিদা বাড়ার পরে, ভারতীয় পণ্য উত্পাদনকারীরা জানুয়ারিতে উত্পাদন বাড়িয়েছে। PMI তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে সাত বছর ধরে বৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি। যা দীর্ঘমেয়াদী গড় হারের তুলনায় অনেক বেশি।

ভারতের উৎপাদন ক্ষেত্রের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, IHS Markit সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ পলিয়ানা ডি লিমা বলেছেন, চাহিদা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ায় পণ্যের বিক্রিও ঊর্ধ্বগামী। সেই সঙ্গে কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রে, উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানেও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে PMI-এর ফলাফল। ব্যবসা বাড়ানোর আশায় নতুন উদ্যমে কাঁচামাল মজুতেও জোর দিচ্ছে উৎপাদকেরা।

সমীক্ষা অনুযায়ী, উৎপাদন ক্ষেত্রে সাত বছরেরও বেশি সময় পর এত দ্রুত হারে কর্মসংস্থান হয়েছে । এর প্রধান কারণ হল, নতুন নতুন ব্যবসা এবং প্রকল্পের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া।

অর্থনীতিবিদগন মনে করছেন, ২০২০-২১ সালের সাধারণ বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষি পণ্য উৎপাদনের উৎসাহ দিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে জোর দেওয়ায় প্রধান উৎপাদন ক্ষেত্র আরও বৃদ্ধি পাবে যা সামগ্রিক অর্থনীতির চাহিদা চক্রকে ত্বরান্বিত করবে। এছাড়াও PMI সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, বিশ্ব আর্থিক মন্দা পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারতীয় অর্থনীতিতে সহজাত শক্তি এবং নমনীয়তা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল IMF –এর পরিচালন অধিকর্তা ক্রিস্টালিনা জর্জিভা সম্প্রতি জানিয়েছেন, ভারতের অর্থনীতিতে মন্দাভাব নেই। তিনি জানিয়েছেন, গত বছর ভারতীয় অর্থনীতিতে শ্লথগতি ছিল। বর্তমানে চলতি বিশ্ব মন্দা পরিস্থিতিতে IMF ২০২০ সালে আনুমানিক ৫.৮ শতাংশ বিকাশ হার আশা করছে এবং এই হার ২০২১ সালে ৬.৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। IMF এর প্রধান জানিয়েছেন, ভারত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হাতে নিয়েছে যা ভবিষ্যতে দেশের জন্য লাভজনক হবে। বিশ্ব ক্রমশ উপলব্ধি করছে যে, ভারতীয় অর্থনীতির শক্তি এবং অন্তর্নিহিত স্থিতিস্থাপকতা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীল কারণ হিসাবে প্রমাণিত হবে।

( মূল রচনাঃ আদিত্য দাস)





Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?