বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্যে ভারতের যাত্রা
সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে কথা উঠলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অতুলনীয় ভূমিকার প্রসঙ্গ আসবেই। এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন তিনি বলেন, তাঁর দ্বিতীয় সরকার নতুন শক্তি নিয়ে নতুন ভারত গড়ার জন্য এক নতুন যাত্রা শুরু করবে। সংসদের সেন্ট্রাল হলে প্রধানমন্ত্রীর এই বিবৃতির সঙ্গে ২০২২’এর মধ্যে নতুন স্বপ্নের ভারত গড়ে তোলার যে লক্ষ্য তিনি স্থির করেছেন, তা সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই স্বপ্নপূরণের লক্ষ্য আগামী ৩ বছরে সমস্ত ভারতীয় নাগরিককে শুধুমাত্র প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, বাসস্থান ও অন্যান্য অত্যাবশ্যক সুবিধা প্রদানই নয়, এর পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে ভারতকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন শ্লোগানও তুলে ধরেছেন, সংক্ষেপে যাকে তিনি আখ্যা দিয়েছেন NARA বলে। যার মূল ভাবনা হল - জাতীয় উচ্চাকাঙ্খা এবং আঞ্চলিক আকাঙ্খার সম্মিলন। আরো ব্যাপক অর্থে, অদূর ভবিষ্যতে ভারতের একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে ওঠার আকাঙ্খাকেই এটি তুলে ধরে। অত্যাধুনিক জ্ঞান এবং উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে ভারতকে গড়ে তোলা এবং বিশ্ব মঞ্চে ভারতের জোরালো অবস্থানের সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই লক্ষ্য পূরণে ভারতকে উজ্জ্বলা, আয়ুষ্মান ভারত সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। এর মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি আসবে। যার মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে ভারত ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি বিশিষ্ট দেশগুলির অন্তর্ভূক্ত হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে। এর ফলে ভারতের মূল অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নতুন ভারত গঠনের স্বপ্নের একটি দিক যদি অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং বিনিয়োগের প্রসার হয়, তবে অপর গুরুত্বপূর্ণ দিক হল রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং কৌশলগতভাবে ভারতের স্থান আরো মজবুত করা। প্রধানমন্ত্রী বার বার জানিয়েছেন, ১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যবর্তী বছরগুলির মতোই দেশের ইতিহাসে আগামী ৫ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। সে সময় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ দেশকে ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খলমুক্ত করতে একযোগে আন্দোলনে সামিল হন। একই ভাবে সমস্ত সমস্যার মোকাবিলা এবং বিশ্ব দরবারে ভারতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে আজ জনগণকে একই রকম উদ্দীপনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সমস্ত জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলিকে বাস্তবায়িত করতে সঠিক উদ্দেশ্য ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এর পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ – UNSC’তে ভারতের সদস্যপদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মঞ্চে সঠিক প্রেক্ষাপট তৈরি করতে হবে।
এই প্রেক্ষিতে বিশকেকে আয়োজিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা – SCO’র সদস্য দেশগুলির বিদেশ মন্ত্রীদের বৈঠকে রাষ্ট্রসংঘ নিরপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং তা আরো প্রতিনিধিত্বমূলক ও কার্যকর করে তোলার জন্য নতুন দিল্লির আহ্বান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বিগত কয়েক বছর ধরেই ভারত রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রসারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে কিছু দেশ UNSC’র বর্তমান কাঠামোর ভেটো প্রয়োগ সংক্রান্ত ব্যবস্থায় কোনো রকম পরিবর্তনের বিরোধী। এর ফলেই UNSC’র প্রসারের বিষয়টি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অধিকাংশ বিশ্ব নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হৃদ্যতা এবং ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশের প্রেক্ষিতে UNSC’র সংস্কারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বে একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে ভারত, পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যার মোকাবিলা সহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। বিকল্প জ্বালানির ওপর গুরুত্বদানের লক্ষ্যে ভারত আন্তর্জাতিক সৌর জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। নতুন ভারত গঠনের লক্ষ্যে এই সমস্ত কিছুইর ওপরেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারত বহু দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গুরুত্ব সম্পন্ন বিষয়ে আরো বৃহত্তর ভূমিকা পালন করতে চলেছে। তবে ভারত পরিণত মনোভাব সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়ে তাদের কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছে। ‘বসুধৈবকুটুম্বকম’ বা সমগ্র বিশ্বই এক পরিবার - এই মূল ভাবনাই নতুন দিল্লির পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
(মূল রচনা – শঙ্কর কুমার)
Comments
Post a Comment