হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?

রাষ্ট্রসংঘ চিহ্নিত জঙ্গী, জামাত-উদ-দাওয়া -JUD প্রধান তথা ২৬/১১ মুম্বাই জঙ্গি হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদকে লাহোরের একটি আদালত সন্ত্রাসে অর্থযোগানের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। গত জুলাই মাসে পাঞ্জাব পুলিসের সন্ত্রাস দমন বিভাগ – CTD, সইদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ২৩টি FIR দাখিল করে এবং তাদের লাহোরের কোট লাখপত কারাগারে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে প্রেরণ করে। সইদ এই সময়ে আদালতে উপস্থিত ছিল। পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমন আদালত ১১ই ডিসেম্বর সইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেছে। প্রশ্ন হল, এখনই কেন এই পদক্ষেপ? আদালত কি এরপর সইদের বিরুদ্ধে মামলা গুরুত্ব সহকারে দেখবে? পাকিস্তানের সামগ্রিক চিত্রের সঙ্গে পরিচিত প্রতিটি মানুষই এখন এই প্রশ্ন করছেন।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসে অর্থ যোগান বন্ধের লক্ষ্যে নজরদারি সংস্থা – আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণকারী টাস্ক ফোর্স – FATF’এর ব্যপক চাপ পাকিস্তানের ওপর রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ UNSC’র চাপে পাকিস্তান সইদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সহ অন্যান্য আর্থিক সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বাধ্য হয়। তবে পাকিস্তান সেইসঙ্গে সইদের পরিবারের দৈনন্দিন খরচা চালাবার জন্য তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার অনুমতি দেওয়ার জন্য UNSC’র কাছে অনুরোধ জানায়। এর পাশাপাশি ভারতও হাফিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়ে আসছে।

অক্টোবরে FATF’এর সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসে আর্থিক সহায়তা ও অর্থ তছরূপ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে পাকিস্তানকে আরো বেশী সক্রিয় হতে হবে। FATF ২০২০’র ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পদক্ষপ গ্রহণের সময়সীমা ধার্য করেছে। তা না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান FATF’এর ধূসর তালিকাভূক্ত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে লাহোরের আদালতের সইদকে অভিযুক্ত করার পদক্ষেপ FATF’এর কালো তালিকাভূক্ত হওয়া এড়ানোর জন্য পাকিস্তানের একটি সুপরিকল্পিত চাল বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রাককালে সইদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হল। পাকিস্তানের ভূমি থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাস নির্মূল করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের কঠোর বিবৃতিও সইদের বিরুদ্ধে এই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে লাহোরে সইদের পুত্র তালহা সইদের ওপর হামলার ঘটনায় একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন লস্কর সমর্থক গুরুতর আহত হয়। লস্করের ওপর তালহার একছত্র আধিপত্যের ফলে দলের শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু সদস্য অখুশী বলে জানা গেছে এবং এই হামলা দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেরই ফল বলে মনে করা হচ্ছে।

সইদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন জানালেও ভারতকে আরো সতর্কভাবে পুরো বিষয়টির ওপর নজর রাখতে হবে। উল্লেখ্য, হাফিজ এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দিয়েছে।

কয়েকদিন আগেই বেশ কিছু মামলায় অভিযুক্ত হওয়া সত্বেও একটি জমি দখল মামলায় হাফিজকে জামিন দেওয়া হয়। তার গ্রেফতারের প্রক্রিয়াটিতেও গাফিলতির পরিচয় মেলে। এই প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণের পিছনে পাকিস্তানের প্রকৃত মনোভাব খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। ইসলামাবাদ FATF’এর ২৭ দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে প্রস্তুত কিনা তাও জানা প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত যদি সইদকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়, তাহলে FATF পাকিস্তানকে কালো তালিকাভূক্ত করবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

( মূল রচনাঃ ডঃ জৈনাব আখতার )

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়