এ সপ্তাহে সংসদ

সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল গত বুধবার উভয় সভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল,২০১৯’এর অনুমোদন। বিলটি উত্থাপন কোরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা বলেন, মুসলিম প্রধান প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তান,বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ যে শোষণ ও নির্যাতন ভোগ করে থাকেন, তাঁদের স্বার্থের প্রতি দৃষ্টি রেখেই এই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন,২০১৯’এর প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগের পর থেকে এই দেশগুলিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ক্রমাগত শোষণ উৎপীড়নের শিকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিলে ১৯৫৫ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনটিকে সংশোধন করতে চাওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ওই তিনটি দেশ থেকে ভারতে শরণ নেওয়া ৬ টি অর্থাৎ হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষকে এ দেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। 

বিলটির সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নের ওপর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এতে বিভিন্ন মহলের আশঙ্কা নিরসনে উপযুক্ত সংস্থান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে এই সব দেশ থেকে ভারতে চলে আসা ৫৬৬ জন মুসলমানকেও নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিরোধী পক্ষের অভিযোগ খণ্ডন কোরে তিনি বলেন, বিলটি আদৌ তড়িঘড়ি কোরে বা কথিত কোনও মূল বিষয় থেকে দৃষ্টি ফেরাতে আনা হয় নি। তিনি বলেন এর আগে শ্রীলংকা ও উগান্ডা থেকে আগত মানুষকেও নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইট বার্তায় সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল,২০১৯’এর অনুমোদনকে ভারতের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এই বিলকে ভারত ভূমির সহমর্মিতা ও সৌভ্রাতৃত্ব বোধের মহান আদর্শেরই অভিব্যক্তি বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলিতে যে সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ক্রমাগত বিভিন্ন ধরণের নির্যাতন সহ্য করছেন, তাঁদের দুর্দশা লাঘবের প্রয়াসই এই বিলের লক্ষ্য।
রাজ্য সভায় অনুমোদনের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার সংসদে ১২৬-তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে। এর আগে বিলটি লোক সভার অনুমোদন পায়। এই বিল’এর সংস্থান অনুযায়ী, ২০৩০’এর ২৫’এ জানুয়ারী পর্যন্ত লোক সভা ও রাজ্য বিধানসভায় আরও ১০ বছরের জন্য তপশীলী জাতি ও তপশীলী উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এই বিলের ওপর আলোচনার জবাবে আইন মন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদ বলেন, লোক সভা ও রাজ্য বিধানসভায় আরও ১০ বছরের জন্য তপশীলী জাতি ও তপশীলী উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সরকার অপেক্ষাকৃত ‘স্বচ্ছল শ্রেণি’ বলে কোনো সংস্থান রাখছে না। এ প্রসংগে তিনি জানান, এন ডি এ সরকার ক্ষমতায় আসবার পর থেকে এই দুটি সম্প্রদায়ের কল্যাণের জন্য নানা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। রবি শংকর প্রসাদ তাঁর জবাবি ভাষণে শিক্ষা ক্ষেত্রে ও দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে ইঙ্গ-ভারতীয় সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই লোক সভায় জানিয়েছেন, ২০১৯’এর অক্টোবর পর্যন্ত আসাম রাজ্যে বিদেশী সনাক্তকরণ বিষয়ক বিভিন্ন ট্রাইব্যুনাল প্রায় এক লাখ তিরিশ হাজার মানুষকে বিদেশী নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অপরদিকে এক লাখ চোদ্দ হাজার মানুষকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী রাজ্যসভায় সদস্যদের অবহিত কোরে জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী যে সব উপহার সামগ্রি পেয়েছেন, সেগুলি বিক্রি বাবদ ১৫ কোটি টাকার মত সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কৃশান রেড্ডি লোক সভায় এক লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, গত আগস্টের পাঁচ তারিখে সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদটি বাতিল ঘোষণার পর থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা অঞ্চলে জঙ্গি অনুপ্রবেশের ৮৫ টি ঘটনা ঘটে। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১৯৯০ থেকে ২০১৯’এর অক্টোবর পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের সময় ২২,৫৫৭ জন জঙ্গি মারা পড়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০০৫ থেকে ২০১৯’এর অক্টোবর পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের সময় ১০১১ জন জঙ্গি মারা পড়েছে; ৪২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে, ২২৫৩ জন জঙ্গীকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে।

লোক সভায় সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলীধরণ জানান, ২৯২ জন ভারতীয় পাকিস্তানে আটক রয়েছে;যাদের মধ্যে কিছু অসামরিক মানুষ ও বাকি মৎস্যজীবী। তিনি জানান, এ বছরের পয়লা জুলাই পাক কর্তৃপক্ষের দেওয়া বন্দী তালিকায় সে দেশের হেফাজতে আছে ভারতের ৫২ জন অসামরিক মানুষ ও ২০৯ জন মৎস্যজীবী। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধ বন্দী সহ যে ৮৩ জন ভারতের প্রতিরক্ষাকর্মী এখনও নিখোঁজ, তাঁরা পাকিস্তানে বন্দী আছেন কিনা, সে সম্পর্কে ইসলামাবাদ এখনও কিছু জানায় নি। এই প্রসঙ্গে ভি মুরলীধরণ বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ভারত সরকারের ক্রমাগত প্রচেষ্টার ফলে পাকিস্তানের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী মোট ২১১২ জন ভারতীয়কে মুক্ত করিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। আর এ বছরের জানুয়ারী থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী ৩৬৪ জন ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা গেছে।

এই ছিল এ সপ্তাহে সংসদে উল্লেখযোগ্য কাজকর্ম। (মূল রচনাঃ-ভি মোহন রাও )

ই বিল আনা প্রয়াসই সংসদেবিরোধী পক্ষের অভিযোগ মত এই ৬টি সম্প্রদায় হল-

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভৈভব (VAIBHAV) শিখর সম্মেলন ২০২০

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়