পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ প্রদর্শন
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী শত শত পাকিস্তানী সংখ্যালঘু মানুষ ওয়াশিংটনে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন। গত কয়েক দশক যাবৎ পাকিস্তানে ধর্মীয় ও অন্যান্য সংখ্যালঘু শ্রেণির মানুষের শোষণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদেই ছিল এই বিক্ষোভ আন্দোলন।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন ভারত থেকে পাকিস্তানে চলে যাওয়া এবং সে দেশে মহাজির নামে পরিচিত শরণার্থী ছাড়াও বালুচ, পাখতুন ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মহাজির গোষ্ঠীর ‘মুত্তাহিদা কোয়ামি আন্দোলন’এর নেতৃত্বকারী এই বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তানে প্রতিদিনই সংখ্যালঘু মানুষের প্রতি নির্যাতন, তাদের হত্যা ও অপহরণের ঘটনা সম্পর্কে মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করেন। তাঁরা বিষয়টি মার্কিন প্রশাসন ও সব মানবাধিকার সংগঠনের গোচরে আনার ও এই নির্যাতন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানান। এই প্রসঙ্গে বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচিতি নষ্ট করতে সে দেশে কায়েমি স্বার্থান্বেষী একাধিক গোষ্ঠীর সঙ্গে পাক সরকার ও সামরিক কর্তৃপক্ষের যোগসাজসের অভিযোগ জানান। তাঁরা আরও জানান, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভীতি ও সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পাক সেনার সমর্থন ও সংরক্ষণে নানা জেহাদি গোষ্ঠী খোলাখুলি তাদের মৌলবাদী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃত অর্থে এই সব জেহাদি সংগঠন এই কাজে পাক সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে, পাক কর্তৃপক্ষ ও সে দেশের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা- আই এস আই, বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে নিরাপদ আশ্রয় দান ছাড়াও ভারত, আফগানিস্তান ও ইরানের মত প্রতিবেশি দেশে সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা চালাতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পাক পর্তৃপক্ষ কখনই এই সব জেহাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না এবং এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ক্রমাগত বিভ্রান্ত করে যাবে বলে সে দেশের সংখ্যালঘুদের মধ্যে ধারণা জন্মেছে।
পাকিস্তান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা অর্থের সিংহভাগ উন্নয়নী কাজকর্মের পরিবর্তে ভারত সহ একাধিক প্রতিবেশি দেশে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে প্রয়োগ করছে বলে বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। স্বাধীন ও সার্বভৌম বালুচিস্তানের জন্য বালোচ জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে এই অর্থ সহায়তা বন্ধের আবেদন জানান। তাঁদের বক্তব্য, বল পূর্বক আনুগত্য আদায়ের জন্যে পাক কর্তৃপক্ষ বালুচ জনগণের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা বালুচিস্তানকে পাক অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন।
বালুচ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান ইমরান খান সরকারের প্রতিশ্রুতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিছক লোক দেখানো প্রতিশ্রুতি বলেই বিক্ষোভকারীরা উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে তাঁরা বলেন, পাক অসামরিক সরকার সে দেশের সেনা বাহিনীর হাতের পুতুল ও সরকারের স্বাধীনভাবে কিছু বলা বা করার আদৌ ক্ষমতা নেই। অসামরিক সরকার প্রকৃতপক্ষে সে দেশের সেনাবাহিনীর অঙ্গুলি হেলনেই পরিচালিত। বিক্ষোভকারীরা বলেন, বালোচিস্তানের জন সাধারণ মূল মানবিক ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাঁরা সবচেয়ে জঘন্য বিভেদমূলক আচরণের শিকার; এমনকি বুনিয়াদি মানবিক অধিকারের জন্য তাঁদের দাবিকে চরম বর্বরতার সঙ্গে দমন করা হচ্ছে। (মূল রচনাঃ- ডঃ আশোক বেহুরিয়া)
Comments
Post a Comment