ভারতীয় অর্থনৈতিক বিকাশে প্রশংসায় আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল
গত পাঁচ বছরে ভারতের গড় আর্থিক বিকাশের হার ৭শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বিকাশশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। অনেক দেশে অর্থনৈতিক মন্দা, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি, বাণিজ্যিক সংরক্ষণবাদের ঝোড়ো হাওয়া এবং ব্রেক্সিটের অনিশ্চয়তার সময় এই বিকাশ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেছে এবং ২০১৯-২০তে ৭.৩ শতাংশ বিকাশের পূর্বাভাষ দিয়েছে। ভারতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলেও তারা জানিয়েছে। গত কয়েক বছরে ভারতে যে বড় বড় সংস্কার করা হয়েছে তার ফলেই এই আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি বলে আই এম এফ জানিয়েছে। একই সঙ্গে মুদ্রা স্ফিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বাজেটে নির্ধারিত সীমার মধ্যে আর্থিক ঘাটতির পরিমাণকে সীমিত রাখার প্রতিও দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে।
ভারত বেশ কিছু আর্থিক সংস্কারের কাজ করেছে যা দেশ এবং বিদেশে বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক পন্ডিতদের প্রশংসা অর্জন করেছে। আই এম এফ ২০১৭র ১লা জুলাই মধ্য রাত্রি থেকে চালু করা পণ্য ও পরিষেবা কর জি এস টির রুপান্তরের ইতিবাচক প্রভাবের উল্লেখ করেছে। এছাড়া অসচ্ছলতা এবং দেউলিয়া বিধি অর্থের অভাব জনিত সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং ব্যবসা বাণিজ্য সহজ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়তা করেছে।
আমদানি ছাড়পত্রের জন্য একক জানালা ব্যবস্থা এবং পারমিট সংগ্রহ সহজ করার মত ক্ষেত্রগত সংস্কার ব্যবসার পরিবেশকে অনেকাংশে সহজ করে তুলেছে। গত কয়েক বছরে ডিজিটালাইজেশনের অনেক উন্নতি হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে, সংগ্রহ এবং পেমেন্টের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার এবং সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল একাধিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আর্থিক সুযোগ সুবিধার হস্তান্তর। এর ফলে দুর্নীতি এবং জালিয়াতির সুযোগ কম হওয়ায় আই এম এফ ভারতের ডিজিটাল রুপান্তরের প্রশংসা করেছে। বিশ্ব ব্যাংক এবং এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক এ ডি বির মত আন্তর্জাতিক সংস্থাও ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রশংসা করেছে। বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবসা সহজ করার সূচিতে ভারতের অবস্থান ২০১৬র ১৩০ থেকে ২০১৮য় ৭৭এ উঠে এসেছে।
প্রশংসার সঙ্গে সঙ্গে আই এম এফ ভারতের বিকাশের গতিতে স্খলনের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। উদীয়মান বাজারগুলি সহ বিশ্ব অর্থনীতিতে বিকাশের হার নিরাশা জনক এবং এর ফলে ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রতিকূল প্রভাব পড়তে পারে। পণ্য ও অশোধিত তেলের মূল্যের যে সুবিধা বর্তমানে ভারত পাচ্ছে আগামী কয়েক বছরে তা নাও থাকতে পারে। এর ফলে বিকাশের গতিকে ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল আর্থিক একীকরণ এবং পাবলিক ঋণ হ্রাসের পরামর্শ দিয়েছে। আই এম এফ বিশেষভাবে ব্যাংকিং এবং শ্রম ক্ষেত্রে সংস্কারের উল্লেখ করেছে। তারা ব্যাংকের অ কর্মক্ষম সম্পদ হ্রাস করার কথা বলেছে এবং বিশেষ করে সরকারী ব্যাংকের মূলধনীকরণের মাত্রা বাড়াতে বলেছে। তাছাড়া ভরতুকি কম করতে এবং রাজস্ব প্রশাসন এবং জি এস টিকে অধিক দক্ষ করার কথা বলা হয়েছে।
ব্যবসা বাণিজ্যের পথে মূল অন্তরায় পুরনো নিয়মকানুন বদলে সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতি ভারতের সংকল্পকে পুরো করতে হবে। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং বিকাশমুখি রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারত নতুন নিয়ম-নীতি নির্ধারণ করছে। ভারত অভিনবত্ব এবং শিল্পদ্যমের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অব্যাহত থাকবে এ আশা করাই যেতে পারে। (মূল রচনাঃ সত্যজিৎ মোহান্তি)
Comments
Post a Comment