ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় রদবদল
উত্তর কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বিশেষ করে কোনো রকম বিবৃতি ছাড়াই হ্যানয় আলোচনা শেষ করার প্রেক্ষিতে পিয়ংইয়ং-এ উত্তর কোরিয়ার চতুর্দশ সুপ্রীম পিপলস এ্যাসেম্বলি এস পি এ তে দেশের নেতৃত্বে বড় রকমের রদ বদল পরিলক্ষিত হয়। উত্তর কোরিয়ার একাধিক বিশিষ্ট নেতা পরিবর্তিত হয়েছেন এবং অন্যদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বেশ কিছু নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ২০১৮র বাজেট এবং ২০১৯ সালের আনুমানিক বাজেট অনুমোদিত হয়েছে। নব নির্বাচিত ডেপুটিগণ স্টেট এ্যাফেয়ার্স কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচন এবং সমাজবাদী সংবিধানের পরিবর্ধন নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় ডি পি আর কে-র রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণের জন্য ‘স্টেট নর্মালাইজেশন’এর প্রতি আলোকপাত করা হয়।
কিম জং উন এস এ সির চেয়ারম্যান পুনর্বাচিত হয়েছেন এবং তাঁর নতুন নাম হয়েছে সমগ্র কোরিও জনগণের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি। গুরুত্বপূর্ণ হল যে তিনি দল, রাষ্ট্র এবং সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা থাকছেন। তবে তিনি অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। এস এ সি-র নতুন এই ব্যবস্থা দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এন এস সি) বা দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের অনুরুপ। তবে আইন, শৃংখলা এবং বিদেশ নীতি রচনা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
পাক পং-জু ক্যাবিনেটের প্রধান থেকে সরে গেছেন। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৭ এবং পুনরায় ২০১৩ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার বাস্তবিক প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁকে এস পি এর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। কিম যায় রিয়ং ক্যবিনেটের নতুন প্রিমিয়ার এবং সুপ্রীম পিপলস এ্যাসেম্বলি (এস পি এ) প্রেসিডিয়ামের প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। চতুর্থ পূর্নাঙ্গ বৈঠকে রিয়ং পলিটব্যুরো এবং দলের কেন্দ্রীয় মিলিটারী কমিশনে নির্বচিত হন।
চোয়ে রিয়ং হায়ে এস পি এ প্রেসিডিয়ামের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। চোয়ে এর আগে পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হিসেবে এবং ডব্লু পি কে সেন্ট্রাল কমিটির সংগঠন এবং গাইডেন্স বিভাগের নির্দেশক পদে ছিলেন। চোয়ে এস এ সির প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন পদ পেয়েছেন। বৈদেশিক বিষয় সংক্রান্ত প্রথম সহকারী মন্ত্রী চোয়ে সন হুই এস এ কেতে নির্বাচিত হয়েছেন এবং এস পি এর বৈদেশিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির নতুন সদস্য হয়েছেন। এখন এস এ সি-র অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন প্রেমিয়ার কিম জায়ে রঙ, কিম সু গিল, রি মান গন, এবং নো কাওয়াং চোল।
বিদেশ মন্ত্রী রি ইয়ং হো এবং এস পি এ বৈদিশিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান রি সু ইয়ং এস এ সি-তে পুনর্নিবাচিত হয়েছেন।
একজন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক রি ম্যান গোন পলিটব্যুরো এবং দলের কেন্দ্রীয় মিলিটারী কমিশনে নির্বাচিত হয়েছেন এবং নতুন নাম করণ হয়েছে নির্দেশক। উত্তর কোরিয়া জাহাজ নির্মাণ নামে একটি নতুন মন্ত্রক সৃষ্টি করেছে এবং কাং চোল গুকে তার মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী কি কাওয়াং হো উল্লেখ করেন যে উত্তর কোরিয়ার সরকার মোট ব্যয়ের ৪৭.৬ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন, রসায়ন এবং হাল্কা শিল্পের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করেছে। উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বাজেট এবছর মোট ব্যয়ের ১৫.৮ শতাংশ। পিয়ংইয়ং তাদের বাজেটের ৩৬.৪ শতাংশ শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য এবং ক্রীড়াক্ষেত্রের জন্য বরাদ্দ করার পরিকল্পনা করছে।
এ সব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের লক্ষ্য হল দেশের অর্থনীতিকে স্বয়ম্ভর করে তোলা এবং প্রতিষ্ঠাতা জনক কিম ইল সুং যে ধরণের সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া। এর উদ্দেশ্য হল নতুন পথে স্বাধীনতা এবং স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাওয়া।
উত্তর কোরিয়া বলেছে তারা তাদের পরমাণু অস্ত্র পরিত্যাগ করবে না, এই নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে কিম জং উন এক ন্যয্য সমাধানের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সর্বাত্মক পরমাণু আলোচনা চান। কিম বলেছেন তিনি ওয়াশিংটনের নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গীর জন্য এবছরের শেষ নাগাদ অপেক্ষা করবেন।
ভারত দৃঢ়ভাবে এই অভিমত পোষণ করে যে সমস্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে এক বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। (মূল রচনাঃ রচিত ভারদ্বাজ)
Comments
Post a Comment