ভারতের সাব-সোনিক ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্র ‘নির্ভয়’ এর পরীক্ষা
এ সপ্তাহে ভারত সাফল্যের সঙ্গে দেশে তৈরি প্রথম দূর পাল্লার সাব-সোনিক ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্র “নির্ভয়” ওড়িষার পরীক্ষা স্থল থেকে উৎক্ষেপণ করল। নির্ভয় স্থলে আক্রমণকারী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এটি ১০০০ কিলোমিটার পাল্লায় আঘাত করার মত অস্ত্রমুখ বহনে সক্ষম। অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার জন্য উচ্চ ক্ষমতা ধারণ করে এবং প্রথমে অপেক্ষারত অবস্থায় ইপ্সিত লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে নিখুঁতভাবে তাকে আঘাত হানতে পারে। পরীক্ষামূলক উড়ানে এটি সবগুলি লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়। এই সাফল্যের ফলে এর সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সূত্র থেকে জানানো হয়েছে। এতে রয়েছে রকেট বুস্টার সহ ইঞ্জিন এবং টার্বোফ্যান জেট।
অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্র পূর্ব-নির্ধারিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী উৎক্ষেপণ করা হয়। স্বচালিত পয়েন্ট নেভিগেশনের মাধ্যমে এর জটিল পরিচালনাগুলি প্রদর্শিত হয় যেমন, উৎক্ষেপণ পর্যায়, বুস্টার মোতায়েন, ইঞ্জিন চালু করা, পাখা মোতায়েন এবং অন্যান্য বিষয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি দারুণভাবে পরিচালিত হয়ে এর নির্ধারিত পাল্লা সম্পূর্ণ করে। ভূপৃষ্ঠ ভিত্তিকে রেডারের সাহায্যে এর গতিপথের প্রতি দৃষ্টি রাখা হয়। এছাড়া প্রতিরক্ষা গবেষনা এবং উন্নয়ন সংস্থার দেশীয়ভাবে বিকশিত টেলিমেট্রিক স্টেশনের মাধ্যমে এর গতিপথের প্রতি দৃষ্টি রাখা হয় এবং অন্যান্য বিষয়ের নিরীক্ষণ করা হয়। নির্ভয় ক্রুস ক্ষেপনাস্ত্রের শেষ সফল পরীক্ষা হয় ২০১৭র ৭ই নভেম্বর।
উল্লেখ্য, নির্ভয় ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রের ওপর খুব নীচু দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় তার সী-স্কিমিং ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়। এর উৎক্ষেপণ একেবারে নিখুঁত। জনৈক আধিকারিক জানিয়েছেন এই প্রথম কেবল ৫মিটার উঁচ্চতায় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে গেল। ডি আর ডি ও জানিয়েছেন সমগ্র উড়ানের প্রতি একটি ধারাবাহিক ইলেক্ট্র অপটিক্যাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, র্যাডার এবং ভূপৃষ্ঠের টেলিমেট্রি ব্যবস্থার সাহায্যে দৃষ্টি রাখা হয়। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এবং এর ফলে অস্ত্র ব্যবস্থায় অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জনৈক আধিকারিক জানান।
নির্ভয়ের এই সফল পরীক্ষার ফলে নিঃসন্দেহে ভারতের আক্রমণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ব্রহ্মোস ক্রুস ক্ষেপনাস্ত্রের সঙ্গে নির্ভয় ভারতের আক্রমণ ক্ষমতার শক্তি আরো বৃদ্ধি করল। ভারতীয় অস্ত্রাগারে ব্রহ্মোস একটি সম্ভাবনাময় সুপার সোনিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি বিশ্বের দ্রুততম জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্র। এর গতি সীমা ম্যাক ২.৮ থেকে ৩.০। নির্ভরের অপেক্ষাকৃত ধীর গতি সম্পন্য এবং ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকায় শত্রু পক্ষের রেডারে ধরা পড়েলে একে গুলি করে নামানোর ঝুঁকি অনেক বেশি।
ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্র নীচু দিয়ে যায় যাতে রেডারের দৃষ্টির বাইরে থাকা যায় এবং সমগ্র পথ জুড়ে একে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব। এটি পৃথিবীর বায়ুমন্ডল দিয়ে ওড়ে এবং এতে জেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এটি সহজেই শত্রুদের এলাকায় প্রবেশ করে সুস্পষ্ট ও নিখুঁতভাবে আঘাত হেনে চলে আসতে পারে।
নির্ভয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টোমাহক ক্ষেপণাস্তের জন্য ভারতের জবাব হতে পারে এবং পাকিস্তানের বাবর নামের স্থল আক্রমণকারী ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকর প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করতে পারে। গত এক দশক ধরে সেদেশে এটি বিকশিত হচ্ছে।
বস্তুতপক্ষে ভারতীয় সসস্ত্র বাহিনী দীর্ঘ দিন থেকে পরমাণু অস্ত্র-মুখ যুক্ত এল এ সি এম এর প্রয়োজন অনুভব করে আসছে, কারণ স্থল, আকাশ এবং সমুদ্র থেকে এগুলি নিক্ষেপ করা সহজ। সম্ভবতঃ এর ফলে দীর্ঘ দিনের এই দাবী পূরণ হল। নির্ভয়ের আরো একাধিক পরীক্ষা হবে এবং ক্রমে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে। (মূল রচনাঃ যোগেশ সুদ, সাংবাদিক)
Comments
Post a Comment