উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র পরীক্ষাঃ ওয়াশিংটনের প্রতি ইঙ্গিত
উত্তর কোরিয়ার সরকারী সংবাদ সংস্থা কে সি এন এ গত সপ্তাহে ঘোষণা করে যে তারা একটি গাইডেড অস্ত্র পরীক্ষা করেছে। এটি স্পষ্ট যে এই পরীক্ষা কোনো পারমাণবিক বা আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধরণের নয়, একে কে সি এন এ নাম দিয়েছে অত্যাধুনিক কিন্তু কৌশলগত গাইডেড অস্ত্র যার অর্থ হল এর পাল্লা এতটা দীর্ঘ নয় যে সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছতে পারে।
এই অস্ত্র পরীক্ষা ছাড়াও উত্তর কোরিয় সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশ মন্ত্রী মাইক পম্পিওকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্পের প্রতিনিধির পদ থেকে পরিবর্তন করতে বলেছে। এক বিবৃতিতে দেখা গেছে উত্তর কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কূটনৈতিক সুবিধা নেবার চেষ্টা করছে।
হোয়াইট হাউসের জবাব ছিল খুবই মৃদু এবং সতর্কতার সঙ্গে পিয়ংইয়ংকে গঠনমূলক আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যাতে এই ইঙ্গিত ছিল যে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা প্রক্রিয়া বাঞ্চাল হতে দিতে চায় না। ২০১৯এর ফেব্রুয়ারীতে ভীয়েতনামে অনুষ্ঠিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় আলোচনা ব্যর্থ হবার পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার গাইডেড অস্ত্র পরীক্ষার খবর এই অঞ্চলে শান্তির বিষয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এটিকে কিম জং উনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পকে আলোচনা পুনরায় শুরু করার এবং দ্বন্দ্ব এড়ানোর বিষয়ে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য এক ধরণের হুমকি বলেও দেখা যেতে পারে। এপ্রিলের গোড়ার দিকে সুপ্রীম পিপলস এ্যাসেম্বলিতে শ্রী কিম ২০১৯এর শেষ নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার শেষ সময় সীমা ধার্য করেছেন।
২০১৮য় সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প এবং কিম জং উনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১২ জুনের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়া বলেছে তারা উত্তর কোরিয়া উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তির জন্য মিলিতভাবে প্রয়াস চালাবে এবং এর পরিবর্তে ডি পি আর কে কোরিয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি পালন করবে। ওয়াশিংটন শাস্তি ব্যবস্থা প্রত্যাহারের বিষয়ে এপর্যন্ত যে সব ব্যবস্থা নিয়েছে তাতে কিম জং উন সন্তুষ্ট নন সেটা দেখাই যাচ্ছে। তাছাড়া উত্তর কোরিয়ায় নিরাপত্তার গ্যারান্টি এবং দক্ষিন কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক আঁতাত থেকে দূরে থাকার বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থাতেও উত্তর কোরিয়া সন্তুষ্ট নয়। পিয়ংইয়ং মনে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল কিম জং উন কোরিয়া উপদ্বীপকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরনের জন্য কি ব্যবস্থা নেয় তার জন্য অপেক্ষা করছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলোচনার মূল বিষয় হল উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র এবং শ্রী ট্রাম্প স্পষ্ট এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন।
২০১৭র নভেম্বরে হওয়াসং-১৫ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়া পরমাণু পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে। ২০১৮র এপ্রিলে কিম জং উন আর পরমাণু পরীক্ষা না করার কথা ঘোষণা করেন। এখনও তারা সে কথার নড়চড় করে নি।
ট্রাম্প-কিম আলোচনার যতটা উক্তি মূলক ফলাফল ততটা সন্তোষজনক নয়। এটা মনে হয়েছিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করার জন্য উত্তর কোরিয়া হাল্কা পরীক্ষা চালাতে পারে। তাদের সর্বশেষ পরীক্ষা থেকে মনে হয় যে পিয়ংইয়ং কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ওয়াশিংটনকে বাধ্য করতে চাইছে। মাইক পম্পিওকে বদলানোর আহ্বান থেকে মনে হয় তারা সহজে পরমাণু অস্ত্র পরিত্যাগ করবে না। সম্ভবত তিনি সরাসরি রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে চান।
যদিও হ্যানয়ে ট্রাম্প-কিম সম্মেলন অমিমাংসিত ভাবে শেষ হয়, তবে ট্রাম্প এমনটা বলেন নি যে এটাই কিমের সঙ্গে তার শেষ বৈঠক। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে কিছু স্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হলে ট্রাম্প এবং কিমের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা এখনও বর্তমান। এদিকে, কিম রাশিয়া সফর করছেন সে দেশের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার লক্ষ্যে। এই সফর মার্কিন-কোরিয়া সম্পর্কের ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করবে। নতুন দিল্লী চায় কোরিয়া উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সমস্ত প্রয়াস চালানো হোক। (মূল রচনাঃ ড.রাহুল মিশ্র)
Comments
Post a Comment