তৃতীয় দফার নির্বাচনে ব্যাপক ভোটদান
বিশ্বের বৃহত্তম নির্বাচনী কর্মযজ্ঞে ৩০০র বেশি আসনে ভোট গ্রহণ সম্পূর্ণ হয়ে গেল। তৃতীয় দফার নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এই পর্যায়ে ১৮.৮৫ কোটির মধ্যে ৬৬শতাংশ ভোটদাতা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভারতীয় সংসদের নিম্ন কক্ষের ১১৬জন প্রতিনিধির ভাগ্য এই দিন নির্ধারিত হয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন মোট সাতটি পর্যায়ের মধ্যে তিনটি পর্যায়ের ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে।
৫৪৩টির মধ্যে ভারতীয় ভোটদাতা ইতিমধ্যেই ৩০৩টি সংসদীয় আসনের জন্য ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচার অভিযানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তারকা প্রচারকারীরা নিজ নিজ প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে নেমেছেন।
তৃতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ১১৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। এই বড় সংখ্যায় প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভারতের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের স্বাক্ষ্য বহন করে। ৬৬শতাংশ ভোটদান গণতন্ত্রের প্রতি গভীর আস্থার পরিচায়ক।
তৃতীয় পর্যায়ে দেশে দু লক্ষের বেশি নির্বাচনী বুথ স্থাপন করা হয়। এশিয়াটিক সিংহের জন্য বিখ্যাত গুজরাটের গির অরণ্যের বানেজ গ্রামে কেবল মাত্র একজন ভোটদাতার জন্য নির্বাচনী বুথ স্থাপন ‘প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ’ এই কথাকে প্রমাণ করে।
পশ্চিম ভারতের গুজরাটে ২৬টি লোকসভা আসনের সবগুলিতে ভোট হয়ে গেছে কেরালায় ২০টি সংসদীয় আসনের সবগুলিতে ভোটপর্ব সম্পূর্ণ। এছাড়াও বিহার, উত্তর প্রদেশ, কর্ণাটক, গোয়া, ত্রিপুরা, মহারাষ্ট্র, ওড়িষা, পশ্চিমবঙ্গ, দাদরা এবং নগর হাভেলী ও দমন এবং দিউএও ভোট হয়েছে। বিহার, উত্তর প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে পরবর্তি চারটি পর্যায়েও ভোট হবে।
তৃতীয় পর্যায়ে জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্ত নাগ সংসদীয় আসনে আংশিকভাবে ভোট নেওয়া হয়েছে। এই আসনের ভোট পর্ব সম্পূর্ণ হবে আগামী দুটি পর্যায়ে। নিরাপত্তার কারণে এই আসনে তিনটি পর্যায়ে নির্বাচন হচ্ছে।
চলতি নির্বাচনে যাতে আদর্শ আচরণ বিধি অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয় তা সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন প্রশংসনীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ৩,১০০কোটির বেশি নগদ অর্থ নির্বাচন কমিশন বাজেয়াপ্ত করেছে।
যে সব রাজনীতিবিদ আদর্শ আচরণ বিধি লঙ্ঘণের চেষ্টা করেছে তাদেরও নির্বাচন কমিশন ছেড়ে দেয় নি। জাতি ও ধর্মের নামে ভোট চাওয়া আচরণ বিধি লঙ্ঘণ বলে বিবেচিত।
এবারের ভোটে ভোটারদের উৎসাহ প্রশংসনীয়। প্রথম তিনটি পর্যায়ে তরুণ ও নবীন ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্যম লক্ষ্য করা গেছে।
কয়েক লক্ষ নিরাপত্তা কর্মী এবং ভোট কর্মী শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য যেভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে নিঃসন্দেহে তাঁরা প্রশংসার পাত্র। তাঁরা অবাধ ও ন্যয় সংগত ভোটদান সুনিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
অবশিষ্ট ২৪০টি আসনের জন্য আরো চারটি পর্যায়ে ভোট নেওয়া হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ভোট গ্রহণ করা হবে ১৯শে মে। ২০১৯এর লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে ২৩শে মে। ততদিন পর্যন্ত এই সব আসনে জোর রাজনৈতিক প্রচারাভিযান দেখা যাবে। (মূলরচনাঃ মণিশ আনন্দ)
Comments
Post a Comment