মার্কিন-ভারত এবং ইরানকে দেওয়া বিশেষ সুবিধা
এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে, মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী মাইক পম্পিও ঘোষণা করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে তেল আমদানী করার জন্য বিশেষ সুবিধার মেয়াদ আর বাড়াবে না। ভারত, চীন, এবং মার্কিন শরীক জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তুরস্ক এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে রেহাই প্রাপ্ত অন্য তিনটি দেশ ইতালী, গ্রীস এবং তাইওয়ান তাদের আমদানি শূন্যতে নিয়ে এসেছে।
ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করার সময় থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে আলাদা করার জন্য নানান পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ১৮০ দিনের জন্য ভারত এবং অন্যান্য দেশকে এই রেহাই দেওয়া হয়েছিল। ২রা মে এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই ধরণের একটি ঘোষণা যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসবে সে অনুমান করাই যাচ্ছিল। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রক বলে যে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ভারত আলোচনা চালিয়ে যাবে, এ থেকে মনে হয় এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। ভারত আমেরিকার আধিকারিকদের সঙ্গে ক্রমাগত কথাবার্তা বলে চলেছে এবং এই বিশেষ সুবিধা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে। আলোচনা চলছে, অন্যদিকে ভারত ইরানী তেলের বিকল্প খোঁজার বিষয়েও কাজ করছে। পেট্রলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ সুনিশ্চিত করার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, অন্যান্য দেশ থেকে এই তেল আমদানি করা হতে পারে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন জানিয়েছে, শোধনাগারগুলি নানান উৎস থেকে অশোধিত তেল আমদানি করে থাকে, গত কয়েক মাস থেকেই তারা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমীরশাহী এবং অন্যান্য OPEC গোষ্ঠীভুক্ত দেশ ভারতকে আশ্বাস দিয়েছে যে তারা ঘাটতি পূরণ করে দেবে। এই সব আশ্বাস সত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। ছ’মাসের মধ্যে তেলের দাম এখন সর্বাধিক। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ভারতের আর্থিক এবং চলতি খাতে ঘাটতির ওপর চাপ বাড়বে এবং মুদ্রাস্ফিতিও ওপরের দিকে থাকবে, কারণ উচ্চ ব্যয় উপভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। ইরানের মতো শর্তে ভারত তার পশ্চিম এশিয় অংশীদারদের কাছ থেকে তেল ক্রয়ের বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করছে।
চীনের পর ভারত হল ইরানী তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা এই পরিমান ভারতীয় তেল আমদানির ১১ শতাংশ। এর ফলে ইরাক এবং সৌদি আরবের পর ভারতে ইরান তৃতীয় বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠেছে। পেমেন্টের শর্তাদি ভারতের পক্ষে অনুকূল। নতুন দিল্লি ভারতীয় টাকায় তেলের দাম দেয় এবং তা ভারতীয় ব্যাংকে জমা হয় আর পরে ইরান ওষুধ পত্র এবং খাদ্য সামগ্রীর মত অত্যাবশক ভারতীয় পণ্য ক্রয় করতে সেই টাকা ব্যয় করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে ইরান এ্যাকাউন্টের টাকা আগের মতই খরচ করতে পারে তবে ভারত সেই অর্থের পরিমান আর বাড়াতে পারবে না।
যদি ভারত নিষেধাজ্ঞা অবমাননা করে তবে তাদের ওপর দ্বিতীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হতে পারে এবং সেই ক্ষেত্রে ভারতীয় কোম্পানীগুলিকে আন্তর্জাতিক SWIFT ব্যবস্থা ব্যবহার থেকে বিরত করা হতে পারে। এছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে। এই কারণে ভারতীয় কোম্পানীগুলি ইরানের সঙ্গে কাজ করা থেকে বিরত রয়েছে।
জ্বালানী সরবরাহ ছাড়াও, ভারত-ইরান সম্পর্কে আরো সমস্যা রয়েছে। ইরান ভারতকে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়েছে, পাকিস্তান যা দেয় নি। চাবাহার প্রকল্প এই নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রভাবিত হবে না, কিন্তু যেহেতু এই প্রকল্প ভারতের পক্ষে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ইরান তাদের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। চীনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন চীন অনবরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই এক তরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে চলেছে। অন্যদিকে, তুরস্কও বলেছে যে তারা এই বিষেধাজ্ঞ খারিজ করে। ভারত মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছে কারণ পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপলব্ধি করতে পারে।
কিছু কিছু বিষয়ে ইরানের সঙ্গে ভারতের মত পার্থক্য রয়েছে, তা সত্বেও ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান দুটি দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। (মূল রচনাঃ ড.স্তুতি ব্যানার্জী)
ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করার সময় থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে আলাদা করার জন্য নানান পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ১৮০ দিনের জন্য ভারত এবং অন্যান্য দেশকে এই রেহাই দেওয়া হয়েছিল। ২রা মে এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই ধরণের একটি ঘোষণা যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসবে সে অনুমান করাই যাচ্ছিল। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রক বলে যে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ভারত আলোচনা চালিয়ে যাবে, এ থেকে মনে হয় এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। ভারত আমেরিকার আধিকারিকদের সঙ্গে ক্রমাগত কথাবার্তা বলে চলেছে এবং এই বিশেষ সুবিধা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে। আলোচনা চলছে, অন্যদিকে ভারত ইরানী তেলের বিকল্প খোঁজার বিষয়েও কাজ করছে। পেট্রলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ সুনিশ্চিত করার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, অন্যান্য দেশ থেকে এই তেল আমদানি করা হতে পারে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন জানিয়েছে, শোধনাগারগুলি নানান উৎস থেকে অশোধিত তেল আমদানি করে থাকে, গত কয়েক মাস থেকেই তারা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমীরশাহী এবং অন্যান্য OPEC গোষ্ঠীভুক্ত দেশ ভারতকে আশ্বাস দিয়েছে যে তারা ঘাটতি পূরণ করে দেবে। এই সব আশ্বাস সত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। ছ’মাসের মধ্যে তেলের দাম এখন সর্বাধিক। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ভারতের আর্থিক এবং চলতি খাতে ঘাটতির ওপর চাপ বাড়বে এবং মুদ্রাস্ফিতিও ওপরের দিকে থাকবে, কারণ উচ্চ ব্যয় উপভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। ইরানের মতো শর্তে ভারত তার পশ্চিম এশিয় অংশীদারদের কাছ থেকে তেল ক্রয়ের বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করছে।
চীনের পর ভারত হল ইরানী তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা এই পরিমান ভারতীয় তেল আমদানির ১১ শতাংশ। এর ফলে ইরাক এবং সৌদি আরবের পর ভারতে ইরান তৃতীয় বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠেছে। পেমেন্টের শর্তাদি ভারতের পক্ষে অনুকূল। নতুন দিল্লি ভারতীয় টাকায় তেলের দাম দেয় এবং তা ভারতীয় ব্যাংকে জমা হয় আর পরে ইরান ওষুধ পত্র এবং খাদ্য সামগ্রীর মত অত্যাবশক ভারতীয় পণ্য ক্রয় করতে সেই টাকা ব্যয় করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে ইরান এ্যাকাউন্টের টাকা আগের মতই খরচ করতে পারে তবে ভারত সেই অর্থের পরিমান আর বাড়াতে পারবে না।
যদি ভারত নিষেধাজ্ঞা অবমাননা করে তবে তাদের ওপর দ্বিতীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হতে পারে এবং সেই ক্ষেত্রে ভারতীয় কোম্পানীগুলিকে আন্তর্জাতিক SWIFT ব্যবস্থা ব্যবহার থেকে বিরত করা হতে পারে। এছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে। এই কারণে ভারতীয় কোম্পানীগুলি ইরানের সঙ্গে কাজ করা থেকে বিরত রয়েছে।
জ্বালানী সরবরাহ ছাড়াও, ভারত-ইরান সম্পর্কে আরো সমস্যা রয়েছে। ইরান ভারতকে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়েছে, পাকিস্তান যা দেয় নি। চাবাহার প্রকল্প এই নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রভাবিত হবে না, কিন্তু যেহেতু এই প্রকল্প ভারতের পক্ষে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ইরান তাদের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। চীনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন চীন অনবরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই এক তরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে চলেছে। অন্যদিকে, তুরস্কও বলেছে যে তারা এই বিষেধাজ্ঞ খারিজ করে। ভারত মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছে কারণ পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপলব্ধি করতে পারে।
কিছু কিছু বিষয়ে ইরানের সঙ্গে ভারতের মত পার্থক্য রয়েছে, তা সত্বেও ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান দুটি দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। (মূল রচনাঃ ড.স্তুতি ব্যানার্জী)
Comments
Post a Comment