ভারত ও রাশিয়ার গঠনমূলক সম্পর্কের নতুন উচ্চতা
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয় কে গোখলে দুদিনের রাশিয়া সফর করে এলেন। তিনি রাশিয়ার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেন। বৈদেশিক দপ্তর সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য তিনি রুশ উপ বিদেশ মন্ত্রী ইগর মরগুলভের সঙ্গে কথা বলেন। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব উপ মন্ত্রী সার্গেই রেবকভ এবং উপ প্রধানমন্ত্রী তথা রুশ রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি ইউরি ট্রুথনেভের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
শ্রী গোখলে রুশ মন্ত্রীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যপক আলোচনা করেন। ২০১৮র উনবিংশ ভারত-রুশ বার্ষিক শিখর বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলির রুপায়ণ পর্যালোচনা করেন পররাষ্ট্র সচিব এবং রাশিয়ার উপ বিদেশ মন্ত্রী শ্রী মরগুলভ। তাঁরা ২০১৯এর পরবর্তি উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বার্ষিক শিখর বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করেন। এর মধ্যে রয়েছে এবছর সেপ্টেম্বরে ভ্লাদিভস্তকে পূর্বাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক মঞ্চে ভারতের অংশ গ্রহণ। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে এই মঞ্চে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রুশ রাষ্ট্রপতি। তাঁরা আসন্ন শিখর বৈঠক নিয়ে আলোচনা করেন এবং সাংহাই সহযোগিতা সংগঠন এস সি ও, রুশ-ভারত-চীন ত্রিপাক্ষিক গোষ্ঠী আর আই সি এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও জি-২০র মত অন্যান্য সংস্থার আওতায় ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতার বিষয় নিয়েও কথাবার্তা হয়। উভয় পক্ষ আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছে।
শ্রী গোখলে নিরস্ত্রীকরণ, অস্ত্রবিস্তার রোধ সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত-রুশ সহযোগিতা নিয়ে কথাবার্তা বলেন। পরমাণু সরবরাহ গোষ্ঠীতে ভারতের সদস্যপদের বিষয় আলোচনা হয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রক বলেছে যে এই আলোচনা সফল এবং গঠনমূলক হয়েছে। নতুন দিল্লী এবং মস্কোর মধ্যে সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ স্থায়ী বন্ধুত্বের আদর্শে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে সহযোগিতার পথ প্রসস্থ হয় এই বৈঠকের ফলে।
আন্তর্জাতিক,আঞ্চলিক এবং দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রের ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে নিয়মিত বিদেশ দপ্তর পর্যায়ে পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক ‘গঠনমূলক এবং প্রাণবন্তভাবে এগিয়ে চলেছে’ বলে রুশ রাষ্ট্রপতি পুতিন এবছরের গোড়ায় বলেছিলেন। বহুবার দুঃসময় সুসময়ে দুটি দেশের দৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রমান মিলেছে।
গত বছর মার্কিন হুমকি সত্বেও ভারত রাশিয়ার সঙ্গে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চুক্তি স্বাক্ষর করে। নতুন দিল্লীর সুস্পষ্ট এবং ভারসাম্যযুক্ত অগ্রাধিকার এর ফলে বিশ্বের সামনে স্পষ্টতই প্রমানিত হয়েছে; এমনকি ঠান্ডা লড়াইয়ের প্রাক্তন প্রতিপক্ষরাও তা উপলব্ধি করতে পেরেছে। এবছর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি সত্বেও রাশিয়া জায়েশ-এ-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করতে রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে সমর্থন করে। এমনকি মস্কো চীনকেও এই প্রস্তাব সমর্থনের কথা বলে।
ভারত এবং রাশিয়ার ঘনিষ্ট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ফলশ্রুতি হিসেবে ২০১৭সালে দ্বিপাক্ষিম অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। প্রতিরক্ষা সংগ্রহ ক্ষেত্রে ভারতের বৈচিত্র সত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দৃঢ়তর হয়েছে। রাইফেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে দুটি দেশ একমত হয়েছে, এর ফলে ভারতে কর্মসংস্থান এবং নতুন নতুন সুযোগ সুবিধার সৃষ্টি হবে।
ভারত এবং রাশিয়া পুরনো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার সঙ্গে সঙ্গে মহাকাশ এবং অভিবাসনের মত নতুন নতুন ক্ষেত্রে উন্নত সহযোগিতার প্রতি আলোকপাত করছে। সামগ্রিকভাবে ভারত-রুশ সম্পর্ক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সত্বেও উন্নতির পথে। দুটি দেশের মধ্যে সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিশেষাধিকার যুক্ত কৌশলগত অংশীদারিত্বের শক্তির অজস্র প্রমান রয়েছে। ইউরাশিয়ায় নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির ফলে ভারত-রুশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ যে উজ্জ্বলতর হবে সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। (মূল রচনাঃ ড. ইন্দ্রানী তালুকদার)
Comments
Post a Comment