ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের বিকাশমুখি আর্থিক নীতি

ভারতের দ্বিমাসিক আর্থিক নীতি পর্যালোচনা রিপোর্টে মূল  সুদের হার হ্রাস করা হল। । এই রিপোর্টে প্রাণবন্ত ভারতীয় অর্থনীতির বিভিন্ন উৎপাদন ক্ষেত্রের প্রত্যাশা পূর্ণ করার মত প্রয়োজনীয় সংস্থান রাখা হয়েছে।  খুচরো মুদ্রাস্স্ফীতি কম থাকায় সুদের হার হ্রাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়েছে। সমস্ত উৎপাদন ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত মূলধন প্রবাহ অব্যাহত রাখতে একটি  অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে বিকাশের গতি ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনের প্রতি উপযুক্ত সৃষ্টি দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক নীতি সংক্রান্ত কমিটি মুম্বাইয়ে তাদের বৈঠকে রেপো রেট বা যে সুদের হারে রিজার্ভ ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকে ঋণ দেয় তা ২৫ বেসিস পয়েন্ট বা ০.২৫ শতাংশ  কম করে ৬ শতাংশে আনা হয়েছে। নতুন গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের অধীনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল সুদের হার হ্রাস করার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ফেব্রুয়ারীতে প্রথমবার সুদের হার কম করা হয়। এই হার কম করার উদ্দেশ্য হল ২০১৯এর প্রথম কয়েক মাসে শিল্প এবং রপ্তানী বিকাশের মন্থর গতিকে পুনরুজ্জীবিত করা। কমিটি নিরপেক্ষ নীতি বজায় রাখারও সিদ্ধান্ত নেয়, যার অর্থ হল মুদ্রাস্ফীতির হারে ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মুল সুদের হারে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন। লক্ষ্য করার বিষয় হল খুচরো মুদ্রাস্ফিতি ফেব্রুয়ারীতে চারমাসের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক বৃদ্ধি পেয়ে ২.৫৭ শতাংশ হয়, তবে এটি এখনো রিজার্ভ ব্যাংকের ধার্য  মধ্যবর্তি লক্ষ্যমাত্রা ৪ শতাংশের কম রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি নির্ধারণের মূল মাপকাঠি হল এই খুচরো মুদ্রাস্ফিতির হার।
আর বি আই বর্তমান আর্থিক বছরে আনুমানিক বিকাশের হার ফেব্রুয়ারীর ৭.৪ শতাংশের তুলনায় কমিয়ে ৭.২ শতাংশ করেছে। ২০১৯-২০র ফেব্রুয়ারী নীতির জন্য জিডিপি বিকাশ দেখানো হয় ৭.৪ শতাংশ। মূলধনী পণ্যের উৎপাদন এবং আমদানি ক্ষেত্রে স্লথগতির কারণে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ দুর্বল হওয়ার সংকেত পাওয়া যাচ্ছে।আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রিত বিকাশ ভারতের রপ্তানিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে ইতিবাচক দিক হল, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে উচ্চ হারে অর্থের প্রবাহের ফলে অর্থনৈতিক কাজকর্ম ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় সরকারী ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বেসরকারী ভোগ বাড়ছে এবং করের সুবিধার ফলে ব্যয় যোগ্য পারিবারিক আয়ও বাড়ছে। ব্যবসা বাণিজ্যের অবস্থা আশা ব্যঞ্জক। সমস্ত ইতিবাচক বিষয়ের প্রেক্ষিতে জি ডি পি বিকাশ ২০১৯-২০তে ৭.২ শতাংশ দেখানো হয়েছে।
একই সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাংক একাধিক উন্নয়নী এবং নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলিকে ঋণদানের ক্ষেত্রে সুদের হারের সাবলিল রুপান্তরণের জন্য আন্তর্জাতিক  সুদের হারের বেঞ্চমার্ক বলবতের প্রয়াস আটকে দেওয়া গেছে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলির ঋণ দানের ক্ষমতা কিছুটা বাড়বে।  আর বি আই গভর্নর স্পষ্ট জানিয়েছেন,  অনাদায়ী সম্পদের প্রশ্নটির কিভাবে মোকাবিলা করা হবে সে বিষয়ে রিজার্ভ ব্যাংক নতুন করে সার্কুলার জারী করবে। উল্লেখ্য, এসপ্তাহের গোড়ার দিকে সুপ্রীম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে গত ফেরুয়ারী মাসে সর্বোচ্চ ব্যাংকের জারি করা অনাদায়ী ঋণ আদায় সংক্রান্ত সার্কুলারটি বাতিল হয়ে গেছে।
এই নতুন আর্থিক পর্যালোচনা রিপোর্টে রিজার্ভ ব্যাংক গভর্নর স্পষ্ট জানিয়েছেন, সকল পক্ষের জন্য বর্ধিত ঋণের সুবিধা রাখতে বাজারে পর্যাপ্ত অর্থের প্রবাহ বজায় রাখা হবে; এবং এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ ব্যাংক ধারাবাহিকভাব  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া অধিক মাত্রায় ডিজিটালকরণের মাধ্যমে স্থানীয় লেনদেন ব্যবস্থার  ত্রুটি বিচ্যূতি গুলি সংশোধন করা হবে। ্সংক্ষেপে বলতে গেলে, গতকালের ঘোষিত এই দ্বিমাসিক আর্থিক পর্যালোচনা রিপোর্টে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে আর্থিক বিকাশ হারে ধারাবাহিক ভাবে গতি সঞ্চারের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্থা রাখা হয়েছে বলেই বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।(মূল রচনাঃ জি শ্রীনিবাসন)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?