মালদ্বীপে তৃতীয় বহুদলীয় সংসদীয় নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ছ’মাস পর গত শনিবার মালদ্বীপে তৃতীয় বহু-দলীয় নির্বাচন হয়ে গেল। মালদিভান ডেমক্রেটিক পার্টি এম ডি পি ৮৭র মধ্যে ৬৭টি আসনে জয়লাভ করে সংসদে সংখ্যগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এম ডি পি মালে সিটি, আদ্দু সিটি এবং ফুভামুলাহ আসনগুলিতে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ২০০৮এ মালদ্বীপে গণতান্ত্রিক বহুদলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পর থেকে কোনো দলের এটাই সর্বাধিক আসন।
২০১৮র সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় গঠিত যৌথ জোটের অংশীদার এম ডি পি, আদালথ পার্টি এ পি, জুমহুরি পার্টি জে পি এবং মৌমুন রিফর্ম মুভমেন্ট আসন সমঝোতায় ব্যর্থ হবার পর আদালাভাবে সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এম আর এম ২০টি আসনে নির্দল প্রার্থীদের সমর্থন করে, তাদের মধ্যে মাত্র একজন প্রার্থী জয় লাভ করে। এ পি ৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কিন্তু একটিতেও জিততে পারে নি। জে পি বিরোধী প্রগ্রেসিভ পার্টি অফ মালদিভস পি পি এম-এর সঙ্গে জোট ক’রে পাঁচটি আসনে জয় লাভ করে। তারা ৪১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।
বিপূল বিজয় সত্বেও রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মহম্মদ সোলি আশ্বাস দেন যে প্রশাসনে তিনি জোটের নেতাদের সঙ্গে কাজ করে যাবেন। সংসদের নব নির্বাচিত সদস্যরা ২৮শে মে ২০১৯ শপথ নেবেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নাশিদ মালে আসন থেকে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সাংসদ হিসেবে ফিরে এসেছেন। পূর্বতন ইয়ামীন আমলে তার জেল হয়।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২,৬৪,৪৪২টি যোগ্য ভোটারের মধ্যে ২,১২,০৭৯ অর্থাৎ ৮০শতাংশ ভোটদাতা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। যদিও নির্বাচন ছিল হিংসা মুক্ত, তবে জানা গেছে, মালদ্বীপের জাতীয় অভিযোগ সংস্থা নির্বাচন সংক্রান্ত ১২৬টি অভিযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে দুটি ভোটপত্র সংক্রান্ত, চারটি ভোটাধিকারের ওপর অবৈধ প্রভাব খাটানোর বিষয়ে এবং অবশিষ্ট অভিযোগগুলি নথিভুক্ত করণ পদ্ধ্বতির বিষয়ে। তবে মালদ্বীপের নির্বাচন কমিশন বলেছে কোনো অভিযোগই নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার মত নয়। ভোটের সময় উপস্থিত নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলি জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ এবং সুব্যবস্থিত। রাষ্ট্রপতি রবিবার এক বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থায় সারা দেশে নির্বাচন হওয়ার জন্য মালদ্বীপের জনগণ, দেশের নির্বাচন কমিশন, মালদ্বীপের পুলিশ সেবা এবং মালদ্বীপের জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে এম ডি পির নেতৃত্বে যৌথ আঁতাতের কর্মসূচির প্রতি মালদ্বীপের জনগণের সমর্থন রয়েছে। যদিও জোটের সব সদস্য একসঙ্গে কাজ করার এবং সোলি প্রশাসনের হাত মজবুত করার সংকল্প ব্যক্ত করেছে, তবে একাধিকবার কিছু কিছু সদস্য আইন পাসে তাদের সমর্থন দেয় নি। জোটের অংশিদারদের মধ্যে জাতীয় স্বার্থে মত পার্থক্যের দরুণ সোলি প্রশাসনের কার্যকাল পুরো করার বিষয়ে সন্দেহ দেখা দেয়।
এম ডি পির দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেশে স্থিতিশীল সরকারের আশার উদ্রেক করেছে। নির্বাচনী ফলাফলও প্রতিশ্রুতি পূরণের সুযোগ করে দিয়েছে।
ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রের বৃহত্তম প্রতিবেশী হিসেবে ভারত চায় এক শান্তিপুর্ণ এবং স্থিতিশীল মালদ্বীপ। রাষ্ট্রপতি সোলির নির্বচনের পর ভারত-মালদ্বীপ সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। বস্তুতপক্ষে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি সোলির প্রথম ভারত সফরের সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরো উন্নতি হয়।
সম্প্রতি, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এই দ্বীপ রাষ্ট্রে সফর করেন এবং মালদ্বীপের নেতাদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করেন। উভয় পক্ষ বাণিজ্য-দূত সংক্রান্ত বিষয়, ক্ষমতা উন্নয়ণ, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সহ বিভিন্ন প্রশ্নে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে পন্থা পদ্ধতি নিয়ে কথাবার্তা বলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মালদ্বীপের অনুরোধে অত্যাবশক পণ্যের কোটা নবীকরণ করার নতুন দিল্লীর সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেছেন। (মূল রচনাঃ গুল্বিন সুলতানা)
Comments
Post a Comment