EMISAT উৎক্ষেপণের ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভারত প্রথম

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার এমিস্যাট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ফলে নানান দিক থেকে সাফল্য এসেছে। এই মিশন বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই মহাকাশ সংস্থাকে প্রথম স্থানে নিয়ে এসেছে। তারা বিভিন্ন কক্ষপথে উপগ্রহ পাঠিয়েছে এবং সামুদ্রিক উপগ্রহ প্রয়োগ সহ কক্ষপথে পরীক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে।
ভারতের প্রথম সারির মহাকাশ বন্দর শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে পি এস এল ভি-সি৪৫এর সাহায্যে বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় বৈচিত্র পরিমাপের অভিপ্রায়ে এই উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হয়। ৪৩৬ কিলোগ্রাম ওজন বিশিষ্ট এমিস্যাট ছাড়াও চারটি আন্তর্জাতিক গ্রাহকের ২৮টি অপেক্ষাকৃত ছোট উপগ্রহ নিম্ন উচ্চতার নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপিত হয়েছে। সবগুলি উপগ্রহ সুনির্দিষ্ট স্থানে স্থাপনের পর রকেটের চতুর্থ পর্যায়কে নষ্ট করা হয় নি বরং সেটিকে অপেক্ষাকৃত নিম্ন উচ্চতায় নামিয়ে আনা হয় যাতে তা পরিক্রমারত বিজ্ঞান মঞ্চ হিসেবে কাজ করতে পারে।
এই সাফল্যে পি এস এল ভি রকেটের উচ্চ বিশ্বাসযোগ্যতা আবারও প্রমানিত হল। এপর্যন্ত ৪৭টি উৎক্ষেপণের মধ্যে এই রকেট কেবল দুবার ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯৩ সালে এর প্রথম ব্যর্থতা। সেপ্টেম্বর ২০১৭তে পি এস এল ভি চমৎকার কাজ করে এবং নির্বিঘ্নে উৎক্ষেপণ করা হয়। তবে, কক্ষপথে পৌঁছনোর পর পি এস এল ভি-সি ৩৯এর তাপ প্রতিরোধী ঢাল  না খোলার দরুণ আই আর এন এস এস-১ এইচ উপগ্রহটি ছাড়া যায় নি। ভারতের প্রথম চন্দ্র অভিযান চন্দ্রযান-১  উৎক্ষেপণের সময়েও পি এস এল ভি ব্যবহৃত হয়।
তবে এই প্রথম ইসরো একটি নতুন ধরণের পি এস এল ভি কিউ এল ব্যবহার করেছে। এতে প্রথম পর্যায়ে রয়েছে চারটি স্ট্রাপ অন মোটর। এপর্যন্ত ব্যবহৃত আগের সংস্করণগুলিতে এমনটি হয় নি। তাছাড়া এই প্রথম ইসরো একই উৎক্ষেপণে ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতায় তিনটি ভিন্ন কক্ষপথে অনুশীলন সম্পন্য করেছে। উৎক্ষেপণের পর প্রধান উপগ্রহ এমিস্যাটকে ৭৪৯ কিলোমিটার উচ্চতায় নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। তারপর ২৮টি ছোট উপগ্রহ সহ রকেটের চতুর্থ পর্যায় পুনঃপ্রজ্জ্বলিত হয়ে ৫০৪ কিলোমিটার উচ্চতায় অবতরণ করে এবং সেখানে এই ছোট উপগ্রহগুলিকে ছাড়া হয়। ২৪টি আমেরিকার, দুটি লিথুয়ানিয়ার এবং স্পেন ও সুইৎজারল্যান্ডের একটি করে মোট ২৮টি উপগ্রহ বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপণার আওতায় উৎক্ষেপণ করা হয়।
২৯টি উপগ্রহের সবগুলিকে সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপনের পর চতুর্থ পর্যায়কে নষ্ট করা হয় নি বরং সেটিকে পুনঃচালিত করে ৩৮৫ কিলোমিটারের নিম্ন কক্ষপথে নামিয়ে আনা হয়।  সেখানে এটি একটি কাক্ষিক মঞ্চ হিসেবে অবস্থান করবে এবং মহাকাশ সংক্রান্ত যাবতীয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাবে। ইসরোর ইতিহাসে এটি প্রথম। এছাড়াও এই প্রথম ইসরো একক মিশনে রকেটের চতুর্থ পর্যায় তিনবার পুনঃপ্রজ্জ্বলিত করতে সফল হল।
প্রজ্জ্বলনের পর প্রায় তিন ঘন্টা ধরে টিকে থাকাও পি এস এল ভির দীর্ঘ তম মিশনের সাফল্য।
অন্য যে ক্ষেত্রে এই মিশন প্রথম তা হল, রকেটের চতুর্থ পর্যায় ছিল সৌর প্যানেল সজ্জিত যাতে মহাকাশে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য তিনটি উপগ্রহকে শক্তির যোগান দেওয়া সম্ভব হয়। ইসরোর মতে এই প্রথম গবেষণা সংস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য একটি মাইক্রো-মাধ্যাকর্ষণ পরিবেশ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গতকালের সাফল্য আবারও প্রমান করল যে আমাদের বিজ্ঞানীরা কেবলমাত্র উপগ্রহ উৎক্ষেপনেই সক্ষম নয়, তাঁরা একক উৎক্ষেপণে তিনটি আলাদা কক্ষপথে উপগ্রহ স্থাপনের মত জটিল মহাকাশ অনুশীলন সম্পাদনের কাজেও সমানভাবে দক্ষ। এর ফলে ভবিষ্যতে গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে সুবিধে হবে। এই সাফল্য চাঁদে ভারতের দ্বিতীয় মিশন চন্দ্রযান ২এর পথ সুগম করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই মিশন বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। (মূল রচনাঃ বিমান বসু)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?