ICC বিশ্ব কাপ ক্রিকেট ২০১৯
২০১৯-এর বিশ্ব কাপ ক্রিকেটের সূচনা হল আজ ৩০শে মে থেকে। প্রায় দেড় মাস ব্যাপী এই ক্রিকেট মহারণের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটবে আগামী ১৪ই জুলাই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিষদ ICC পরিচালিত এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলসলের যুগ্মভাবে আয়োজিত ২০১৯’এর এই দ্বাদশ বিশ্ব কাপে মোট ১০টি দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসরে রয়েছে। উল্লেখ করা যায়, ইংল্যান্ড ও ওয়েলস যুগ্মভাবে কেবল ২০১৯’এর বিশ্বকাপই নয়; এর আগে তারা চারবার- ১৯৭৫, ১৯৭৯, ১৯৮৩ এবং ১৯৯৯’এ এই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহাযজ্ঞের আয়োজন করেছে।
ক্রিকেট মাত্র কয়েকটি দেশে, তাও আবার ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পূর্বতন উপনিবেশ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও এর জনপ্রিয়তা যে বিশ্বব্যাপী তা সহজেই অনুমান করা যায়। কৌলিন্যের বিচারে ফুটবল ও লন টেনিসের পরেই ক্রিকেটের স্থান। এই উপমহাদেশের কথাই ধরা যাক, এখানে ক্রিকেট যেন এক ধর্ম বিশেষ এবং ক্রিকেট খেলোয়াড়রা ক্রিকেট প্রেমীদের হৃদয়ে ঈশ্বর স্বরূপ। ক্রিকেটকে কেন্দ্র ক’রে এখানকার মানুষের উন্মাদনার অন্ত নেই। প্রকৃত অর্থে ক্রিকেট এই উপমহাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলির মধ্যে এক মর্যাদার লড়াই। এরই মধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি, এ পর্যন্ত যতবার ক্রিকেট বিশ্ব কাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে তার মধ্যে চারবার এই বিশ্ব কাপের শিরোপা পেয়েছে এই উপমহাদেশেরই তিনটি দেশ- ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকা। এগুলির মধ্যে আবার ভারত দু’বার ক্রিকেট বিশ্ব কাপ জয় ক’রে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হয়েছে। আবার এই তিনটি দেশের মধ্যেই একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার একটি দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটার বিভিন্ন সময়ে এই দেশগুলির মন্ত্রী ও আইন প্রণেতা হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন।
লন্ডনের ওভালে অন্যতম আয়োজক দেশ ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে ম্যাচটি দিয়েই চলতি বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার শুভারম্ভ হচ্ছে। ক্রিকেটের মক্কা হিসেবে পরিচিত লর্ডস ময়দানে ফাইনাল খেলার মধ্যে দিয়ে এই প্রতিযোগিতার পরিসমাপ্তি ঘটবে।
২০১৯’র ক্রিকেট বিশ্ব কাপে এই প্রথম বিভিন্ন গ্রুপের আওতায় দলগুলিকে ভাগ করা হল না। ১০টি দলের মধ্যে প্রতিটি দলই একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে। অর্থাৎ যে কোন একটি দল বাকি ৯টি দলের বিরুদ্ধে খেলবে। অর্জিত পয়েন্টের ভিত্তিতে শীর্ষ চারটি দল সেমি ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। ১০টি দল হল- ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং ভারত। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুন মাসে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের অন্তর্ভুক্তির ফলে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১২ হলেও জিম্বাবোয়ে ও আয়ারল্যান্ডকে বাদ দিয়ে বর্তমান বিশ্ব কাপে ১০টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় কর্তৃপক্ষকে সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
ব্রিটেন, যেখানে ক্রিকেটের জন্ম হয়েছে, সেই দেশই এখনও পর্যন্ত কোন বিশ্ব কাপ ক্রিকেট খেতাব জয় করতে পারে নি। এখন আয়োজক দেশ হিসেবে ইংল্যান্ডের সামনে এই খেতাব জয়ের আবার এক বড় সুযোগ। তবে ভারতীয় দলকে ঘিরেও প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারতীয় দল যে সর্ব শক্তি দিয়ে লড়বে তা বলাই বাহুল্য। এই দলের এখন ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং-এই তিন বিভাগেই সমান খ্যাতি। এর আগে ভারত দু দুবার বিশ্ব কাপ জিতেছে। কপিল দেবের নেতৃত্বে ১৯৮৩ সালে এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে ২০১১ সালে। ২০০৩ সালে ভারত হয়েছে রানার্স আপ; আর ২০১৫ সালে ভারত সেমি ফাইনাল পর্যায় পর্যন্ত উঠতে সফল হয়। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ- এই চারটি দেশেরও এই খেতাব জয়ের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে Glorious uncertainity’র এই খেলায় বাকি প্রতিযোগী দলগুলিকেও দুর্বল ভাবলে চলবে না।
ভারত তাদের প্রথম ম্যাচটি খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আগামী ৫ই জুন। দ্বিতীয় ম্যাচটি খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৯ই জুন এবং তৃতীয়টি আগামী ১৩ই জুন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। চির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে খ্যাত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে খেলাটি হবে ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে আগামী ১৬ই জুন। প্রত্যাশা অনুসারেই এই ম্যাচটি প্রত্যক্ষ করার জন্য ইতিমধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। বিশ্ব কাপ ক্রিকেটে ভারত এখনও পর্যন্ত সব ম্যাচেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছে। এবারেও যে ভারত সেই সাফল্যের ধারা বজায় রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচগুলির পর ভারত খেলবে বাকি ৫টি দেশ- আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার বিরুদ্ধে।
প্রথম সেমি ফাইনালটি হবে আগামী ৯ই জুলাই ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে। সেমি ফাইনাল স্তরে উন্নীত চারটি দেশের মধ্যে প্রথম ও চতুর্থ স্থানের অধিকারী দুই দেশ মুখোমুখি হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারী দুটি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সেমি ফাইনালটি হবে আগামী ১১ই জুলাই বারমিংহ্যামের এজবাস্টনে। এবারে পুরস্কার অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজয়ী দলটি পাবে নগদ ৪০ লক্ষ ডলার ও ট্রফি। সব দিক থেকেই ক্রিকেটের এই মহারণ যে চরম উপভোগ্য হয়ে উঠবে তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।
( মূল রচনা- কৌশিক রায়)
Comments
Post a Comment