সপ্তদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশন
গত মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর সপ্তদশ লোকসভা গঠিত হল। এর পরেই সংসদের বাজেট অধিবেশন ডাকার তোড়জোড় শুরু হয়, এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদের বাজেট অধিবেশন এ মাসের ১৭ তারিখে ডাকা হল। এনডিএ’র তারকা প্রচারক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী প্রচার অভিযানে একাধিক জন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কাজেই নতুন সরকারের কাছ থেকে জনগণের প্রত্যাশাও এখন অনেক।
নতুন লোকসভার স্পিকার নির্বাচন ধার্য রয়েছে আগামী ১৯’এ জুন। নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার আগে লোকসভার কাজ পরিচালনার জন্য অস্থায়ী অধ্যক্ষ নির্বাচন করা হবে। নব নির্বাচিত সদস্যগণের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর ২০’এ জুন তারিখে সংসদের উভয় কক্ষ-লোকসভা ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ’এর অভিভাষণের মধ্য দিয়ে সংসদের কাজকর্ম শুরু হবে।
২০১৯-২০ অর্থ বর্ষের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেট আগামী মাসের ৫ তারিখে লোকসভায় উপস্থাপন করা হবে। পরে, রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদ সূচক প্রস্তাবের ওপর সভায় আলোচনা শুরু হবে। পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময়ের এই বাজেট অধিবেশন শেষ হবে ২৬’এ জুলাই। নরেন্দ্র মোদি দরিদ্রদের মধ্যে তাঁর সন্দেহাতীত বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার বলেই যে দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় ফিরে এলেন তা তাঁর কট্টর সমালোচকরাও স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছেন। স্বাস্থ্য বীমা, জন ধন অ্যাকাউন্ট, কৃষকদের আয় সহায়তা, রান্নার গ্যাস বিতরণ এবং গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের মত বেশ একগুচ্ছ জন কল্যাণমূলক কর্মসূচি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জীবন ধারণের গুণমান বৃদ্ধি করেছে। সঙ্গে সঙ্গে শ্রী মোদির নেতৃত্বে এন ডি এ সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। পুলওয়ামা ও বালাকোট ঘটনার পর এক বলিষ্ঠ ও নির্ণায়ক দেশনেতা হিসেবে জনমানসে নরেন্দ্র মোদির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। সংসদে নারী সাংসদের সংখ্যাও বেড়েছে। বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ’র জয় শহর ও গ্রাম ভারতে জাতি,ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এক নতুন শক্তির উত্থানই সূচিত করছে।
জাতীয় পর্যায়ে এই নির্ণায়ক রায়, ভারতে জোট সরকার যে জনগণের পছন্দ নয়,তারই প্রমাণ দিচ্ছে। এই রায় আরও প্রমাণ করেছে, জনগণ একজন যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতার নেতৃত্বে একটি স্থায়ী সরকার চান, যে সরকার অধিক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সার্বিক বিকাশের পথে দেশকে পরিচালিত করতে পারবে। এবারের নির্বাচনী ফলাফলে জাতীয় পর্যায়ে আঞ্চলিক দলগুলির গুরুত্ব হ্রাস পেয়েছে। ৭টি পর্যায়ে ৫৪২টি লোক সভা আসনের নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি ৩০৩ টি আসনে জয়ী হয়ে এককভাবেই সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করেছে; যদিও এই দল এনডিএ’র জোট সঙ্গী শিব সেনা, জনতা দল (ইউনাইটেড), লোক জন শক্তি পার্টি এবং অন্যান্য ছোট দু একটি দলকে নিয়ে সরকার গঠন করেছে। অপরদিকে কংগ্রেস মাত্র ৫২ টি আসনে জিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়েছে।
সপ্তদশ লোকসভাতে বিভিন্ন দলের ২৬৭ জন নতুন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন লোকসভায় নির্বাচিত ৭৮ জন মহিলা সদস্যের মধ্যে এই প্রথমবার নির্বাচিত মহিলা সাংসদদের সংখ্যা ৪৬,যা এক রেকর্ড। উল্লেখ করা যায়, লোকসভায় এই প্রথম এত বেশি সংখ্যক মহিলা সদস্য নির্বাচিত হলেন।
নতুন লোকসভায় বয়সের দিক থেকে সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য হলেন বিজু জনতা দলের চন্দ্রানী মুরমু, তাঁর বয়স ২৫। তিনি ওড়িশার কেওনঝাড় কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত। নতুন লোকসভায় বিজেপির সবচেয়ে কম বয়সী সাংসদ হলেন ২৮ বছর বয়সী তেজস্বী সূর্য,যিনি (বেঙ্গালুরু দক্ষিণ) কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর নব গঠিত মন্ত্রীসভায় প্রাক্তন পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শংকরকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত ক’রে রাজনৈতিক মহলে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। মন্ত্রীসভায় এস জয়শংকরের অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে থেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগ্য ব্যক্তির প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করল।
রাজ্যসভার সাম্প্রতিক দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে নির্বাচিত দুই সদস্য ২০’এ জুন সংসদের উভয় সভার যৌথ অধিবেশনের পর শপথ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। (মূল রচনাঃ- ভি মোহন রাও)
Comments
Post a Comment