ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কিরগিজস্তান সফর
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বারের জন্য নির্বাচিত হবার পর ১৩ এবং ১৪ জুন বিশকেক, কিরগিজস্তান সফর করেন। তিনি কিরগিজস্তানের রাষ্ট্রপতি সুরোনবে জীনবেকভের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সাক্ষাৎ করেন।
রাষ্ট্রপতি জীনবেকভের সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককে বিশেষ এবং কৌশলগত বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে। ২০১৯এর ৩০শে মে প্রধানমন্ত্রী মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে রাষ্ট্রপতি জীনবেকভ ছিলেন অন্যতম।
বিশকেকে এস সি ও শিখর বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি রাষ্ট্রপতি জীনবেকভের সঙ্গে যৌথভাবে ভারত-কিরগিজ বাণিজ্যিক মঞ্চের বৈঠকে ভাষণ দেন। এই বৈঠককে সফল এবং তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
তাঁরা ভারত এবং কিরিগিজস্তান দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (ডি টি এ এ) এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির চূড়ান্ত রুপদান করেন। এর ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে। দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির ফলে দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঁচ বছরের রুপরেখা প্রস্তুত করতে সহায়ক হবে। ভারতে কিরগিস্তানের ২.৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির তুলনায় কিরগিস্তানে ভারতীয় রপ্তানির পরিমাণ ২২.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উভয় দেশ মনে করে এই পরিমাণ আরো বাড়ানো প্রয়োজন।
দুই নেতাই আশা প্রকাশ করেন যে ইরানের চাবাহার বন্দর নতুন দিল্লী এবং বিশকেকের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করতে পারে। এছাড়াও, এই দুটি দেশ আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ করিডোর (আই এন এস টি সি)র বিষয়ে কাজ করছে, এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছ।
ভারত-কিরগিস্তান যৌথ মঞ্চের বৈঠকে শ্রী মোদি কিরগিজ শিল্পদ্যোক্তাদের ভারতের ব্যাপক সম্ভাবনা অনুসন্ধানের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে ভারতে উওযুক্ত পরিবেশ, সংযোগ ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক বিনিময়ের বাতাবরণ রয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই তিনটি উপাদানকে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জৈব উৎপন্ন ক্ষেত্র, পার্বত্য মধু, আখরোট, ডেয়ারী পণ্য, বস্ত্র, রেলওয়েল, জল-বিদ্যুৎ, খনি এবং খনিজ অনুসন্ধানের মোট ক্ষেত্রে ভারত কিরগিস্তানে বিনিয়োগ করতে পারে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী কিরগিজ ব্যাবসায়ীদের ভারতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং বলেন যে মধ্য এশিয় দেশগুলির জন্য এটি একটি ক্রমবর্ধমান বাজার হয়ে উঠছে। ভারতে দক্ষ শ্রম শক্তি রয়েছে, সহজ বাণিজ্যিক পরিবেশ রয়েছে এবং রয়েছে দ্বৈত কর এড়ানোর ব্যবস্থা। ভারত আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হয়ে উঠতে চলেছে বলে শ্রী মোদি আস্থা ব্যক্ত করেন। যুব সম্প্রদায় এবং অভিনবত্ব সৃষ্টিকারীদের প্রতি আলোকপাত করা হচ্ছে যা এই পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছোতে সহায়ক হবে।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর মতে ভারতের অর্থনীতির মর্যাদার উন্নতি এবং প্রযুক্তিগত প্রগতির ফলে কিরগিস্তানে বিকাশের সহায়তা হবে। সেই কারণে কিরগিজস্তানের সঙ্গে ভারতের পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা ভারতের পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অংগ হয়ে উঠবে এবং দুটি দেশের পারস্পরিক বিকাশের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
ভারতের সঙ্গে পাঁচটি মধ্য এশিয় দেশের সদিচ্ছার সম্পর্ক রয়েছে এবং ভারত চায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়গের মাধ্যমে তারা ভারতের বিকাশের অংশীদার হয়ে উঠুক। এবছর বিশকেকে ‘নমস্কার ইওরেশিয়া’ বাণিজ্য মেলা আয়োজিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান, এর মধ্যে দিয়েই ভারতের কাছে মধ্য এশিয়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। এই মেলা ভারত এবং মধ্য এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যক সম্পর্কের উন্নতি ঘটাবে। ইওরোশিয়া অর্থনৈতিক ইউনিয়নে কিরগিস্তান সহ এই পাঁচটি দেশের সদস্যপদ ভারতের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
ভারত এবং কিরগিস্তান প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ১৫টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়াও, দুটি দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়ে একটি যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসবের অতিরিক্ত, ভারত কিরগিস্তানের বিভিন্ন উন্নয়নী প্রকল্পে সহায়তার জন্য ২০০ মিলিয়ন ঋণ দেবার কথা ঘোষণা করেছে। উভয় দেশ ২০২১কে সাংস্কৃতিক এবং মৈত্রী বর্ষ হিসেবে উদযাপনের বিষয়ে রাজী হয়েছে।
কিরগিস্তানে প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর অত্যন্ত সফল এবং ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে দুটি দেশের মধ্যে সম্পাদিত সমস্ত চুক্তির বাস্তবায়ণ একান্ত আবশ্যক। (মূল রচনাঃ ড.ইন্দ্রনীল তালুকদার)
Comments
Post a Comment