এফ এ টি এফ’এ পাকিস্তানের অবমাননা অব্যাহত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোতে গত সপ্তাহে আর্থিক ব্যবস্থা সংক্রান্ত কর্মী গোষ্ঠী এফ এ টি এফ’এর ছ’দিনের পূর্নাঙ্গ অধিবেশন সমাপ্ত হল। তাতে আন্তর্জাতিক আর্থিক নজরদারী সংস্থার কাছে পাকিস্তানকে তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার জন্য তীব্র ভর্সনা করা হয়। তাদের সতর্ক করা হয় যে অক্টোবরের মধ্যে তারা এই প্রতিশ্রুতি পালন না করলে তাদের  নাম গ্রে তালিকা থেকে নামিয়ে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।
এক বছর আগে  পাকিস্তান এফ এ টি এফ এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় গোষ্ঠী এ পি জির সঙ্গে তাদের টাকার কালো বাজারীর বিরোধী ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জঙ্গী কার্যকলাপে আর্থিক মদত দেওয়া বন্ধ করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়। এই বিষয়ে ইসলামাবাদের রেকর্ড  অত্যন্ত খারাপ। কৃত্রিম কিছু পদক্ষেপ ছাড়া সে দেশ থেকে জঙ্গী গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপ বন্ধের জন্য তারা প্রায় কোনো ব্যবস্থাই নেয় নি।
উল্লেখ করা যায় যে এফ এ টি এফ তাদের ৩০তম বার্ষিকীতে টাকার কালোবাজারী এবং সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ যোগানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আরো জোরদার করার এবং যথা সময়ে এই বিষয়ে কার্যকরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতি জোর দিয়েছে।  
এফ এ টি এফ আরো বলেছে যে এই সব শর্ত ও বিধি নিষেধ পালন না করলে পাকিস্তানকে আগামী দিনে চরম অসুবিধার সম্মুখিন হতে হবে কারণ টাকার কালো বাজারী এবং জঙ্গীদের অর্থ যোগানের ফলেই সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের মত ঘটনা অনবরত ঘটে চলেছে।
২০১৯এ পুলওয়ামা আক্রমণের পর এই বিশ্ব সংস্থা কেবল হিংসাত্মক জঙ্গী হামলার নিন্দাই করে নি, তারা বলে যে এই সব আক্রমণ হত্যা এবং আতংক সৃষ্টি করে এবং অর্থের যোগান এবং জঙ্গী সমর্থকদের মধ্যে অর্থের লেনদেন ব্যতিরেকে এই সব ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়।
পরোক্ষভাবে পাকিস্তানের উল্লেখ করে তারা আরো বলেছে যে সন্ত্রাসবাদী এবং যারা তাদের আর্থিক মদত যোগায় তারা আর্থিক সংস্থানের জন্য অনবরত নতুন নতুন রাস্তা খুঁজে বার করে। এটি পরিস্কার যে বিভিন্ন অঞ্চলে কার্যকর সি এফ টি ব্যবস্থার পথে এই প্রতিকূলতা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৯এর সর্বশেষ রিপোর্টে এফ এ টি এফ জানিয়েছে যে গত বছর এই সংস্থার সঙ্গে ইসলামাবাদ একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা সত্বেও এই ক্ষেত্রে তাদের কৌশলগত ঘাটতি রয়েছে। যদিও পাকিস্তান এ এম এল/সি এফ টি ব্যবস্থার উন্নতির দিশায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কিন্তু আন্তর্জাতিক টি এফ ঝুঁকির বিষয়ে তাদের উপযুক্ত উপলব্ধির অভাব পরিলক্ষিত।  

এফ এ টি এফ দশ দফা কর্ম পরিকল্পনা রুপায়ণে পাকিস্তানের ব্যর্থতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাছাড়া, তারা  ২০১৯এর জানুয়ারী এবং মে এই দুটি শেষ সময় সীমা পালনেও ব্যর্থ হয়েছে। তারা পাকিস্তানকে আরো সতর্ক করে দিয়েছে যে অক্টোবরের পরবর্তি সময় সীমার মধ্যেও যদি তারা এই সব শর্ত পালনে ব্যর্থ হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে পাকিস্তানী সরকারের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের জনগণ এবং বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে; পাকিস্তানের প্রেস বিবৃতিতে এটা বলার চেষ্টা করা হয়েছে যে এ এম এল/সি এফ টি ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য তাদের গৃহীত ব্যবস্থার প্রশংসা করেছে এফ এ টি এফ এবং আগামী দিনে এই দিশায় আরো পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করেছে।  
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক বলেছে পাকিস্তান এফ এ টি এফ কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে এবং সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক উদ্বেগ নিরসনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে বলে তারা আশা করে।  তাছাড়া তাদের নিয়ন্ত্রিত ভূখন্ড থেকে জঙ্গীদের কোনো রকম অর্থ যোগান দেওয়া হবে না বলেও তাদের আশা।

বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখিন পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ তাদের কিছু চিরাচরিত বন্ধু দেশের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে, এই সব দেশ এফ এ টি এফ এর সদস্যও বটে। অন্ততঃ তিন মাসের জন্য এই সব দেশ থেকে তারা সহায়তার আশা করছে। তবে ইসলামাবাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের কাছে সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ যোগান এবং টাকার কালো বাজারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প খোলা নেই কারণ এই কারণেই জঙ্গীগোষ্ঠীগুলি এখনও দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ক্ষুন্ন করে চলেছে। (মূল রচনাঃ ড. অশোক বেহুরিয়া)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?