প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নী কর্মসূচী এগিয়ে নিয়ে যাবার অঙ্গীকার


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে সমগ্র বিশ্বকে দ্বর্থ্যহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন, দরিদ্র শ্রেণীর কল্যাণ ও আধুনিক পরিকাঠামোর বিকাশই হবে তাঁর সরকারের প্রধান দুটি কর্মসূচী। সংসদের উভয় সভার যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদ সূচক প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর জবাবে এ বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, জনগণের সার্বিক স্বার্থরক্ষাই হবে তাঁর সরকারের মৌলিক উদ্দেশ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার কখনোই উন্নয়নী কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কোনও সমঝোতা করে নি। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে কৃষক ও অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণমূলক যোজনা সহ বহু কর্মসূচীর সূচনা করা হয়েছে এবং এরই সঙ্গে সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আধুনিকীকরণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছর সময়ে দেশের অগ্রণী চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানের ৬ থেকে বাড়িয়ে ২০ করা হচ্ছে। এছাড়াও জেলা স্তরের দেড় শতাধিক হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্তরে উন্নীত করা হচ্ছে।

সারা দেশে ৭টি নতুন IIT ১৪টি IIIT, একটি NIT ও ৪টি NID ও ৭টি নতুন IIM খোলা হচ্ছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের ফলে সুনামির আগাম সতর্কবার্তা জারি করার যোগ্যতার নিরিখে ভারতের স্থান এখন চতুর্থ। আবহাওয়ার সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার প্রশ্নেও ভারত প্রথম সারির স্থান অর্জন করেছে। ২০২২ এর মধ্যে ভারত মহাকাশ যানে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পরেই ভারতের স্থান হবে চতুর্থ। এছাড়া দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো অন্তরীক্ষে নিজ মহাকাশ কেন্দ্র স্থাপনেরও পরিকল্পনা নিচ্ছে।

তেজঃশক্তি নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জনের দিশায়ও ভারত ব্যাপক কর্মসূচী নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর জবাবী ভাষণে স্পষ্ট জানিয়েছেন, মহাসড়ক, জলপথ, রেলপথ, সড়কপথ, বিমান পরিবহণ, স্টার্ট আপ সংস্থা স্থাপন ও নানা ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ছাড়াও আগামী দিনের উন্নত ভারতের স্বপ্ন সাকার করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বুনিয়াদি প্রয়োজন হল, একটি আধুনিক ও দ্রুতগামী পরিবহণ প্রণালী গড়ে তোলা। তিনি বলেন, যে সব দেশ সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল রেখে চলতে পারে নি, তারা অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে।

২০২৪’এর মধ্যে ভারতকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার প্রধানমন্ত্রী যে ডাক দিয়েছেন, এরই মধ্যে তার যে একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে,তা অস্বীকার করা যায় না। বর্তমানে ভারত বিশ্বের ষষ্ঠ সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থব্যবস্থার স্বীকৃতি পেয়েছে, যার অর্থমূল্য এখন ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থব্যবস্থা হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন হল বিকাশের হারকে বর্তমানের ৬.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০/১১ শতাংশ মাত্রায় উন্নীত করা। শ্রী মোদি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে নানা চ্যালেঞ্জ আছে সন্দেহ নেই; তবে সেই সব প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা সম্ভব হবে বলেই সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় আছে।

প্রধানমন্ত্রী ভারতের ইতিহাসে মহাত্মা গান্ধীর সার্ধ শততম জন্ম বার্ষিকী ও স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৭৫তম বার্ষিকীকে গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেন এবং এই দুটি বার্ষিকী উদযাপনে জনগণকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহনের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সব সিদ্ধান্তে প্রভূত লাভবান হবেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও যুব সম্প্রদায় সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী। শ্রী মোদি জানান, তাঁর সরকার জনগণকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বর্তমান গ্রীষ্ম মরশুমে যে ভয়ানক জলকষ্ট দেখা দিয়েছে তার নিরসনে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে জল সংরক্ষণের ওপর উপযুক্ত গুরুত্ব দানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে জল পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে সরকার জল শক্তি মন্ত্রক গঠন করেছে। সংসদের উভয় সভার যৌথ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর জবাবী ভাষণে ২০২২ সালের মধ্যে নতুন ভারত গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে সব রাজনৈতিক দলকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

(মূল রচনাঃ শঙ্কর কুমার)

Comments