ভারত- মার্কিন সম্পর্কঃ আলোচনা অব্যাহত
মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী মাইক পম্পিওর দিল্লি সফর এবং প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁর বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক মত পার্থক্য, যেমন বাণিজ্য ও শুল্ক, ইরাণে শাস্তি ব্যবস্থা, ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন অগ্রাধিকার তুলে নেওয়া, ভারতীয় প্রযুক্তিবিদদের জন্য এইচ ১ বি ভিসা, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে জ্বালানী শক্তি নিয়ে বাণিজ্য এবং রাশিয়া থেকে অস্ত্র ক্রয়ের ফলে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে যার জন্য দুটি দেশের নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রয়োজন দেখা দেয়।
জাপানের ওসাকায় জি-২০ বৈঠক এবং জি ২০ বৈঠকের অবকাশে মার্কিন রাষ্ট্রপতি, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এবং জাপানী প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে জে এ আই (জাপান আমেরিকা ভারত) ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে শ্রী পম্পিওর ভারত সফরের প্রয়জন দেখা দেয়।
লোকসভা নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো উচ্চ পদস্থ আধিকারিকের এটাই প্রথম সফর সেই কারণে এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এই নির্বাচনে নতুন পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য মোদি সরকার বিপূল ভোটে জয় লাভ ক’রে আবার ক্ষমতায় ফিরে এসেছে।
উপরোক্ত বিষয়গুলিতে মতপার্থক্যের বিষয়ে বলা যেতে পারে যে আগেই এই ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে মার্কিন বিদেশ মন্ত্রীর সফরের সময় কোনো নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে না বা কোনো নতুন ঘোষণা করা হবে না।
ভারত, ইরাণ প্রশ্নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উপলব্ধি করতে পারে, কিন্তু ইরান সন্ত্রাসবাদে মদত দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিমতের সংগে ভারত একমত হতে পারে না। ঠিক একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগান প্রশ্নে ভারতের উদ্বেগ উপলব্ধি করতে পারে কিন্তু মন্ত্রী পম্পিও স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন একটি শান্তি চুক্তির জন্য তালিবানদের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে আলোচনা করছে এবং এবছরের সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করতে পারে।
ভারতীয় রপ্তানীর ওপর থেকে মার্কিন জি এস পি (সাধারণ অগ্রাধিকার ব্যবস্থা) প্রত্যাহারের বিষয়টি ভারত উত্থাপন করে; অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের রপ্তানী পণ্যের ওপর উচ্চ হারে ভারতীয় শুল্ক আরোপের সমালোচনা করেছে। শ্রী পম্পিও ইঙ্গিত দেন যে এইচ ১ বি ভিসার ক্ষেত্রে ভারতীয়দের ওপর কোনো সর্বোচ্চ সীমা থাকবে না কিন্তু আগের নীতি অব্যাহত থাকবে বলে কোনো প্রতিশ্রুতি দেন নি। রুশ অস্ত্র ক্রয়ের বিষয়টিও আলোচনায় উত্থাপিত হয়। ভারত জানিয়ে দিয়েছে যে জাতীয় স্বার্থে এই বিষয়ে কোনো আপোষ হতে পারে না।
যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে অনেক বিবাদের নিস্পত্তি হয় নি, তবে স্বাগতযোগ্য বিষয় হল মার্কিন বিদেশমন্ত্রী এবং ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ভিন্ন মত নিয়ে পরিপক্কতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
দুই মন্ত্রীর মধ্যেকার এই বৈঠক খুবই উপযোগী এবং মতবিরোধ দূর করতে তাঁরা আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবার সংকল্প নেন। দুটি বিষয়ে মতৈক্য স্থাপিত হয়েছে। একটি হল সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কাজকর্মে ঘনিষ্ট সহযোগিতা অব্যাহত রাখা। দ্বিতীয় বিষয়টি হল দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষি (জে এ আই) চতুর্মুখি ( কিউ ইউ এ ডি) এবং বহু পাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ভারত-মার্কিন সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা।
কিছু কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য সত্বেও গত দু দশকের বেশি সময় ধরে ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্ব অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটনের ইরান নীতি ভারতের জ্বালানী নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি আঘাত করে। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছ থেকে তেল ক্রয়ের যে প্রস্তাব দিয়েছে ভারত তা মেনে নিয়েছে। বস্তুতপক্ষে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
একইভাবে, রাশিয়া থেকে ভারতের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের বিরোধিতা করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে একটি বড় প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে গণ্য করে এবং ভারতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নীতি নিয়ম অনেকাংশে শিথিল করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এক দিকে মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ হারে ভারতীয় শুল্কের বিষয়ে অভিযোগ করেছে অন্যদিকে এ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতের ওপর তাদের শুল্ক বৃদ্ধি করায় ভারতীয় অর্থনীতির ওপর প্রতিকূল প্রভাব পড়েছে। ভারত আলোচনার জন্য তাদের দরজা উন্মুক্ত রেখেছে তবে পালটা ব্যবস্থা হিসেবে বাদামের মত কিছু মার্কিন রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক হার বৃদ্ধি করেছে।
আলোচনার পথ খোলা রয়েছে এবং দুটি দেশই ওসাকায় প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের বৈঠকের সময় এই ধরণের বিশয়গুলি উত্থাপন করবে বলে ধরে নেওয়া যায়। (মূল রচনাঃ চিন্তামণি মহাপাত্র)
বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক মত পার্থক্য, যেমন বাণিজ্য ও শুল্ক, ইরাণে শাস্তি ব্যবস্থা, ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন অগ্রাধিকার তুলে নেওয়া, ভারতীয় প্রযুক্তিবিদদের জন্য এইচ ১ বি ভিসা, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে জ্বালানী শক্তি নিয়ে বাণিজ্য এবং রাশিয়া থেকে অস্ত্র ক্রয়ের ফলে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে যার জন্য দুটি দেশের নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রয়োজন দেখা দেয়।
জাপানের ওসাকায় জি-২০ বৈঠক এবং জি ২০ বৈঠকের অবকাশে মার্কিন রাষ্ট্রপতি, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এবং জাপানী প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে জে এ আই (জাপান আমেরিকা ভারত) ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে শ্রী পম্পিওর ভারত সফরের প্রয়জন দেখা দেয়।
লোকসভা নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো উচ্চ পদস্থ আধিকারিকের এটাই প্রথম সফর সেই কারণে এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এই নির্বাচনে নতুন পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য মোদি সরকার বিপূল ভোটে জয় লাভ ক’রে আবার ক্ষমতায় ফিরে এসেছে।
উপরোক্ত বিষয়গুলিতে মতপার্থক্যের বিষয়ে বলা যেতে পারে যে আগেই এই ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে মার্কিন বিদেশ মন্ত্রীর সফরের সময় কোনো নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে না বা কোনো নতুন ঘোষণা করা হবে না।
ভারত, ইরাণ প্রশ্নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উপলব্ধি করতে পারে, কিন্তু ইরান সন্ত্রাসবাদে মদত দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিমতের সংগে ভারত একমত হতে পারে না। ঠিক একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগান প্রশ্নে ভারতের উদ্বেগ উপলব্ধি করতে পারে কিন্তু মন্ত্রী পম্পিও স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন একটি শান্তি চুক্তির জন্য তালিবানদের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে আলোচনা করছে এবং এবছরের সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করতে পারে।
ভারতীয় রপ্তানীর ওপর থেকে মার্কিন জি এস পি (সাধারণ অগ্রাধিকার ব্যবস্থা) প্রত্যাহারের বিষয়টি ভারত উত্থাপন করে; অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের রপ্তানী পণ্যের ওপর উচ্চ হারে ভারতীয় শুল্ক আরোপের সমালোচনা করেছে। শ্রী পম্পিও ইঙ্গিত দেন যে এইচ ১ বি ভিসার ক্ষেত্রে ভারতীয়দের ওপর কোনো সর্বোচ্চ সীমা থাকবে না কিন্তু আগের নীতি অব্যাহত থাকবে বলে কোনো প্রতিশ্রুতি দেন নি। রুশ অস্ত্র ক্রয়ের বিষয়টিও আলোচনায় উত্থাপিত হয়। ভারত জানিয়ে দিয়েছে যে জাতীয় স্বার্থে এই বিষয়ে কোনো আপোষ হতে পারে না।
যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে অনেক বিবাদের নিস্পত্তি হয় নি, তবে স্বাগতযোগ্য বিষয় হল মার্কিন বিদেশমন্ত্রী এবং ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ভিন্ন মত নিয়ে পরিপক্কতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
দুই মন্ত্রীর মধ্যেকার এই বৈঠক খুবই উপযোগী এবং মতবিরোধ দূর করতে তাঁরা আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবার সংকল্প নেন। দুটি বিষয়ে মতৈক্য স্থাপিত হয়েছে। একটি হল সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কাজকর্মে ঘনিষ্ট সহযোগিতা অব্যাহত রাখা। দ্বিতীয় বিষয়টি হল দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষি (জে এ আই) চতুর্মুখি ( কিউ ইউ এ ডি) এবং বহু পাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ভারত-মার্কিন সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা।
কিছু কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য সত্বেও গত দু দশকের বেশি সময় ধরে ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্ব অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটনের ইরান নীতি ভারতের জ্বালানী নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি আঘাত করে। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছ থেকে তেল ক্রয়ের যে প্রস্তাব দিয়েছে ভারত তা মেনে নিয়েছে। বস্তুতপক্ষে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
একইভাবে, রাশিয়া থেকে ভারতের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের বিরোধিতা করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে একটি বড় প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে গণ্য করে এবং ভারতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নীতি নিয়ম অনেকাংশে শিথিল করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এক দিকে মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ হারে ভারতীয় শুল্কের বিষয়ে অভিযোগ করেছে অন্যদিকে এ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতের ওপর তাদের শুল্ক বৃদ্ধি করায় ভারতীয় অর্থনীতির ওপর প্রতিকূল প্রভাব পড়েছে। ভারত আলোচনার জন্য তাদের দরজা উন্মুক্ত রেখেছে তবে পালটা ব্যবস্থা হিসেবে বাদামের মত কিছু মার্কিন রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক হার বৃদ্ধি করেছে।
আলোচনার পথ খোলা রয়েছে এবং দুটি দেশই ওসাকায় প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের বৈঠকের সময় এই ধরণের বিশয়গুলি উত্থাপন করবে বলে ধরে নেওয়া যায়। (মূল রচনাঃ চিন্তামণি মহাপাত্র)
Comments
Post a Comment