এই সপ্তাহে সংসদ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন যে সরকার দেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং এক দেশ-এক ভোট-এর লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিরোধীদের সহযোগিতা চেয়েছেন। সংসদের যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবে লোকসভায় বিতর্কে জবাব দিয়ে তিনি একথা বলেন। তিনি বিরোধীদের সুষ্ঠুভাবে সংসদের কাজকর্ম চালানো সুনিশ্চিত করার জন্যও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির সুনিশ্চিত করতে সেই দিশায় এগিয়ে চলার জন্য দেশের কোনো সুযোগই হারিয়ে ফেলা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন যে সরকার ও বিরোধী একজোট হয়ে দেশের সামনে উপস্থিত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে সম্ভব হবে। তিনি এক শক্তিশালী, সুরক্ষিত এবং সর্বাত্মক ভারত গঠনের আহ্বান জানান। দুর্নীতি, কৃষক ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়ের উল্লেখ কর তিনি প্রত্যয়ের সঙ্গে জানান যে দেশে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই এবং তাঁর সরকার এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের লড়াই চালিয়ে যাবে। দেশে জলসংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন প্রতিটি গৃহস্থালীতে জল তাঁর সরকারের মন্ত্র।

রাজ্যসভায় বিতর্কের জবাবে শ্রী মোদী বলেন নির্বাচনী সংস্কার দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সমস্ত সাংসদকে এক নতুন ভারত গঠনের ধারণা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে বলেন। তিনি বলেন দেশের সমস্ত নাগরিকের জীবনযাত্রা সহজ সুনিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং এক নতুন ভারত গঠনের জন্য প্রত্যেককে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি দেশের ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

দেশে একই সঙ্গে নির্বাচন সংগঠিত করার প্রস্তাব সহ BJPর নতুন ভারত গঠনের চিন্তা ভাবনার সমালোচনা করার জন্য শ্রী মোদী বিরোধীদের জবাব দেন। রাজ্যসভায় বিরোধী দল নেতা গুলাম নবী আজাদের পুরোনো ভারতই শ্রেয় বলে করা মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কংগ্রেস পুরোনো ভারতই চায় যেখানে সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্তকে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং নৌ-বাহিনীর জাহাজকে ব্যক্তিগত সফরে ব্যবহার করা হয়। শ্রী মোদী বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্রের মাধ্যমেই নির্বাচন করানোর পক্ষে মত পোষণ করে এই যন্ত্রের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার জন্য বিরোধীদের সমালোচনা করেন।

লোকসভায় ২০১৯-এর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সংশোধনী বিল অনুমোদিত হয় যাতে এই বিশেষ অঞ্চলে বিভিন্ন অছি পর্ষদ বা ট্রাস্ট বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের ইউনিট স্থাপন করেতে পারে। আইন মন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদ আধার ও অন্য আইন (সংশোধনী) বিল ২০১৯ সংসদে পেশ করেন। এই বিলটি এই বিষয়ে এবছরের মার্চ মাসে আনা অধ্যদেশকে প্রতিস্থাপিত করবে। এই আইন লঙ্ঘনে কঠোর জরিমানার সংস্থান রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডী জম্মু ও কাশ্মীর সংরক্ষণ (সংশোধনী) বিল ২০১৯ সংসদে পেশ করেন। এই বিলে জম্মু ও কাশ্মীর সংরক্ষণ আইন, ২০০৪-এর আরও সংশোধনীর কথা বলা হয়েছে। এই বিলে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কাজে জম্মুর আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর ১০ কিলোমিটার অঞ্চলে বসবাসরতদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি মূরলীধরণ লোকসভায় এক সদস্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে জানিয়েছেন যে, নতুন দিল্লী ধারাবাহিকভাবে সীমান্ত পারের সন্ত্রাসের বিষয়টি উথ্বাপন করে আসছে এবং দ্বিপাক্ষিক,আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে আসছে। তিনি বলেন সরকারের এই নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াসের ফলে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও ব্যক্তিদের ধারাবাহিকভাবে জঙ্গী কাজ চালিয়ে যাওয়া সহ পাকিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বেড়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ এখন পাকিস্তানকে বলছে যে তারা যেন তাদের ভূখন্ড কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদীদের ব্যবহার করতে না দেয়। তিনি জানান, পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে রাষ্ট্র সঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ সেই কাপুরুষোচিত ও বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা করেছিল।

দেশের বিভিন্ন অংশে জল সংকটের জন্য রাজ্য সভায় সদস্যগণ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্বল্পকালীন এক আলোচনায় জবাবে জল শক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত বলেন ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বাঁচাতে সর্বোতোভাবে প্রয়াস চালানো হবে।

[মূল রচনা- ভি মোহন রাও]

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?