ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কর্তারপুর করিডোর চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের নারোয়াল জেলায় অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক তীর্থস্থান দরবার সাহিব গুরুদোয়ারায় যাওয়ার পথ সুগম করার লক্ষ্যে, ওয়াঘা-আত্তারি সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের আধিকারিকদের মধ্যে কর্তারপুর করিডোর সংক্রান্ত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।  ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত এই গুরুদোয়ারার গুরুত্ব শিখদের কাছে অপরিসীম কারণ গুরু নানকদেবজী তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলি সেখানেই কাটান এবং ১৫৩৯ সালে সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রয়াস ফলপ্রসূ না হলেও ২০১৮’র ২৬শে নভেম্বর ভারতের তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু পাঞ্জাবের গুরদাসপুর জেলায় ডেরা বাবা নানকের কাছে কর্তারপুর করিডোর প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। একইভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ২৮শে নভেম্বর কর্তারপুর সাহিব গুরুদোয়ারার কাছে এই প্রকল্পের সূচনা অনুষ্ঠান করেন।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই করিডোরের বিষয়ে প্রথম আলোচনা হয় চলতি বছরের মার্চ মাসে। প্রকল্পের প্রযুক্তিগত বিষয়গুলি নির্দিষ্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলির মধ্যে তিন দফা আলোচনা হয়। পাকিস্তানের আলোচনাকারী দলে খালিস্থানপন্থী  সমর্থকদের উপস্থিতির বিষয়ে ভারত আপত্তি জানায়। ফলস্বরূপ দ্বিতীয় দফার আলোচনার আগে ইসলামাবাদ এতে পরিবর্তন করে। নতুন দিল্লি তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার ওপরেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়। ভারতীয় প্রতিনিধিদল তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য আশঙ্কাজনক ব্যক্তি তথা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে পাকিস্তানকে অবগত করে। পাকিস্তান জানায়, ভারত বিরোধী কার্যকলাপের জন্য কোনোভাবেই এই করিডোরকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। 
পাকিস্তান প্রথমে একদিনে ভিসা ছাড়াই পাঁচশো থেকে সাতশো তীর্থযাত্রীকে এই করিডোর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে তা পরিবর্তন ক’রে একদিনে পাঁচ হাজার ভারতীয় তীর্থযাত্রী এই পথে যাতায়াত করতে পারবেন বলে জানায়। একা বা  দলগতভাবে তীর্থযাত্রার বিষয়েও সম্মতি দেওয়া হয়। আলোচনার সময় ভারত, বিশেষ উৎসবের দিনগুলিতে ১০ হাজার তীর্থযাত্রীকে যাতায়াতের অনুমতিদান করার ওপরে গুরুত্ব আরোপ করে। যেহেতু গুরু নানকদেবকে শুধুমাত্র শিখরাই নয়, হিন্দুরাও বিশেষভাবে শ্রদ্ধা করেন, তাই নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসের নিরীখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ওপরেও ভারত গুরুত্ব দেয়।   
পাকিস্তান দরবার সাহিবে যাওয়ার জন্য তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে  অর্থমূল্য গ্রহণ এবং বিশেষ অনুমতিপত্র জারি করার কথা বলেছে। ভারত এই দুটি বিষয়ই পুণর্বিবেচনারও দাবি জানিয়েছে।  
এ প্রসঙ্গে পাকিস্তান জানিয়েছে, ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে ভারতীয় তরফে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবে। তবে পাকিস্তান রবি নদীর পুরোনো খাঁড়ির ওপর অবিলম্বে একটি সেতু নির্মাণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।  
মোটের ওপর উভয় দেশই কর্তারপুর সাহিব করিডোর নির্মাণ  চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে সংযোগ রক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়াস গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। নির্মাণ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ দল শিঘ্রই বৈঠকে বসবে। আশা করা হচ্ছে যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই অর্থাৎ ২০১৯’এর নভেম্বর মাসের মধ্যেই কর্তারপুর করিডোর নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হবে। এর ফলে আগামী ১২ই নভেম্বর গুরু নানকদেবের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের সূচনার আগেই এই পথে তীর্থযাত্রা শুরু করা সম্ভব হবে।   

(মূল রচনা – রত্তন সালডি) 

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?