রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন
কাশ্মীর প্রশ্নকে আন্তর্জাতিকীকরণের পাকিস্তানী প্রয়াস আবারও চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে কারণ রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনোভাবেই তাতে কর্ণপাত করে নি। চীন তাদের তথাকথিত বন্ধু পাকিস্তানের সৌজন্যে পরিষদের ১৫ সদস্যের একটি জরুরী বৈঠক ডাকে। তবে, বৈঠকে কেবল চীনই জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়ে ভারতের পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং অবশিষ্ট সকল বৃহৎশক্তি পাকিস্তানকে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার পরামর্শ দেয়। ভারতীয় সংবিধানের জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ৩৭০এর সংস্থান বিলোপের পর পাকিস্তানের ঘুম চলে গেছে। ভারতের এই পদক্ষেপ কাশ্মীর সম্পর্কে পাকিস্তনের কাহিনী বদলে দিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে ভারত যে ভাবে বর্ণনা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন তা গুরুত্ব সহকারে শুনেছে। রাশিয়া ভারতীয় পদক্ষেপকে তাদের সংবিধানের এক্তিয়ারভুক্ত বলে জানিয়েছে এবং ভারত ও পাকিস্তান উভয়কে দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে বলেছে। নিরাপত্তা পরিষদের কাশ্মীর সংক্রান্ত বৈঠক আনুষ্ঠানিক বলে গণ্য হয় নি। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ চীনের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য শুনলেও ঘরোয়া বিবৃতি দেবার দাবীর প্রতি দৃষ্টি দেয় নি। পরে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈদ আকবরুদ্দিন চীনের দূত কাশ্মীর সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব বক্তব্যকে যে ভাবে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫জন সদস্যের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাকিস্তান আশা করেছিল যে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরাপত্তা পরিষদ বিবৃতি দেবে এবং ভারতকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলবে। কিন্তু পাকিস্তান পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যদিও পাকিস্তান সরকার তাদের জনসাধারণকে এটি বোঝানোর চেষ্টা করে যে কাশ্মীর প্রশ্নকে তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের সঙ্গে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৭১এর পর কাস্মীর প্রসঙ্গ নিয়ে এই প্রথম রাষ্ট্রসংঘে আলোচনা হয়, নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি নিয়ে ঘরোয়াভাবে আলোচনা করে। এমনকি সদস্যদের অভিমতকেও যথাযথভাবে শোনা হয় নি। এথেকে বোঝা যায় যে, রাষ্ট্রসংঘের কাছে এই বিষয়ের তেমন কোনো গুরুত্ব নেই। চীনের চাপে বিষয়টি উত্থাপিত হয়। ঐ দেশ এর আগে জায়েশ এ মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গী হিসেবে ঘোষণা করার পদক্ষেপে বাধা দিয়েছিল। চীন এবং পাকিস্তান উভয়েই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শেষ পর্যন্ত মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে প্রতারণার মাধ্যমে কাশ্মীর বিষয়ে তাঁর অবস্থান পরিষদের জন্য নিরাপত্তা পরিষদে ব্যর্থ প্রয়াস চালায়। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ইমরানখানকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তাঁর উচিত বিষয়টি ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে উত্থাপন করা। বস্তুতপক্ষে, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা উপলব্ধি করতে পারে যে ভারত ও পাকিস্তান ১৯৭২এর সিমলা চুক্তি এবং ১৯৯৯এর লাহোর ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের পর সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অর্থহীন হয়ে পড়েছে। ভারত সর্বদাই বলে এসেছে যে এই দুটি চুক্তির পর কাশ্মীরের বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকা নেই। ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যে কোনো বিষয় নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় প্রস্তুত। কিন্তু সবার আগে তাদের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে। ভারত তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে যে আলোচনা এবং জঙ্গী কার্যকলাপ এক সঙ্গে চলতে পারে না। সেই কারণে কাশ্মীর সম্পর্কে পাকিস্তান-চীন যোগসাজস আন্তর্জাতিক এই অভিমতকে আরো মজবুত করেছে যে ভারতের সঙ্গে বিবাদ মেটাতে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বন্ধ করে কূটনৈতিক পথে এগোতে হবে।
চীনের দূত জম্মু ও কাশ্মীরের মর্যাদা পরিবর্তনের বিষয়ে একতরফা ব্যবস্থা নেওয়া থেকে ভারতকে বিরত থাকতে বলার পর রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি জোর দিয়ে বলেন যে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপ একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীন বিষয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এতে কোনো ভূমিকা নেই। শ্রী আকবরুদ্দিন পাকিস্তানকে এই বিষয়টি রাষ্ট্রসংঘে উত্থাপিত করা থেকে বিরত থাকতে বলেন। নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত ব্যর্থ পদক্ষেপ আবারও প্রমান করলো যে কাশ্মীর সম্পর্কে পাকিস্তানের বক্তব্য শুনতে কেউই আগ্রহী নয়। ((মূল রচনাঃ রঞ্জিত কুমার)
Comments
Post a Comment