প্রধানমন্ত্রীর ইউ এ ই এবং বাহরীণ সফরের ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত সপ্তাহান্তে সংযুক্ত আরব আমির শাহী’ ইউ এ ই এবং বাহরীণ সফর করে এলেন। গত চার বছরে এটি তাঁর তৃতীয় ইউ এ ই সফর এবং বাহরীণে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম সফর। এই সফর উপসাগরীয় আরব দেশগুলির সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের প্রতিফলন। সংযুক্ত আরব আমীর শাহীতে প্রধানমন্ত্রী আবুধাবীর যুবরাজ মহম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহায়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপুর্ণ দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি ইউ এ ইর সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার অর্ডার অফ জায়েদ গ্রহণ করেন। ভারত এবং ইউ এ ইর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার ক্ষেত্রে শ্রী মোদির অবদান এবং তাঁর নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯এর এপ্রিলে তাঁকে এই পুরস্কার প্রদানের কথা ঘোষণা করা হয়।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইউ এ ইতে রুপে কার্ড চালু করেন। রুপে কার্ড গ্রহণ করার বিষয়ে ভারতের জাতীয় পেমেন্ট কর্পোরেশন’এন পি সি আই এবং ইউ এ ইর মার্কিউরি পেমেন্টস সার্ভিসেসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতিতে এক সমঝোতা স্মারক পত্র স্বাক্ষরতি হয় এবং দুদেশের পেমেন্ট প্লাটফর্মের মধ্যে টেকনলজি ইন্টারফেস প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাহরীণে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং বাহরীণের সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার কিং হামাদ অর্ডার অফ রেঁনেসা প্রদান করা হয়। পুরস্কার গ্রহণ করার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর ভাষণে ভারত ও বাহরীণের যুগ প্রাচীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরকারের তাৎপর্যের উল্লেখ করেন। রাজা হামাদ বিন ইসা আল-খলিফা শ্রী মোদির সম্মানে নৌশভোজের আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রী বাহারীণের প্রধানমন্ত্রী খলিফা বিন সালমান আল-খলিফার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কথাবার্তা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বাহরীণের যুবরাজ সালমান বিন হামাদ বিন ইসা আল-খালিফার সঙ্গেও দেখা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিয়ে যাবার বিষয়ে মত বিনিময় করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি বাহরীন জাতীয় স্টেডিয়ামে ১৫০০০ভারতীয়র উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন এবং এই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং ভারত ও বাহরীনের সম্পর্ক বৃদ্ধিতে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। ইউ এ ইতে প্রায় ৩,৫০,০০০ ভারতীয়র বসবাস। ভারতীয় সম্প্রদায়ের জনগণ তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং বাহরীণের অর্থনীতিতে অবদানের জন্য সমাদৃত।

বাহরীনের রাজধানী মানামায় প্রধানমন্ত্রী ২০০ বছরের পুরনো শ্রীনাথজী মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সেখানে পূজার্চনা করেন। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীণ মন্দির। তিনি মন্দির সংস্কার প্রকল্প চালুন করেন, ৪.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই কাজ সম্পূর্ণ হবে। এই মন্দির বাহরীণের বহুত্ববাদের প্রতীক।

আঞ্চলিক দেশগুলির সঙ্গে ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং এই অঞ্চলের ভৌগলিক রাজনৈতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির নিরিখে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর তিন দিনের এই সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত আলোচনার মাধ্যমে সব আঞ্চলিক বিবাদ নিস্পত্তির পক্ষে মত পোষণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরাণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে উদ্ভুত ঘটনাবলীর ওপর ভারত ক্রমাগত দৃষ্টি রাখছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় রকমের কোনো বিপর্যয় হলে ভারতীয় জ্বালানী নিরাপত্তার ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে। সেই কারণে ভারত সব পক্ষকে সহিষ্ণুতার পরিচয় দেবার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

তাছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর দরুণ এই সফর আরো তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করা এবং এখানকার প্রশাসনকে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ এই দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার নতুন দিল্লীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ সমালোচনা করেছে, যদিও এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে সংযুক্ত আরব আমীর শাহী, বাহরীণ এবং সৌদি আরব সহ ভারত তাদের আরব উপসাগরের অংশীদারদের ব্যপক সমর্থন পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর, ভারত এবং উপসাগরীয় দেশগুলি বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমীর শাহীর মত দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সম্পর্ক আরো মজবুত করার ক্ষেত্রে সুদূর প্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়। (মূল রচনাঃ ড.মহম্মদ মুদাস্‌সির কমর)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?