সম্পর্ক উন্নয়নে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর

চীনের সংগে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ গ্রহণ করতে পেইচিং সফর করেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল এবছর শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বের উহান ধরণের ঘরোয়া বৈঠকে অংশ নিতে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এর ভারত সফরের প্রস্তুতি। দুটি দেশ তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের সত্তরতম বার্ষিকী উদযাপন করছে। ভারতীয় সংসদে গৃহীত জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত আইন নিয়েও দুই বিদেশ মন্ত্রীর মধ্যে কথা হয়েছে। 


শ্রী জয়শংকর চীনের সহ-সভাপতি ওয়াং শিশানের সঙ্গেও আলোচনা করেন উভয় পক্ষ উদীয়মান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক শক্তি হিসেবে ভারতও চীনের ক্রম উত্থান সম্পর্কে বিস্তারিত আলচনা করেন। চীনে নিযুক্ত পূর্বতন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত শ্রী জয়শংকর নতুন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবার পর এই প্রথম চীন সফরে গেলেন।


চীনের বিদেশ মন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে তার বিস্তারিত ও ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। আলোচনাকালে চীনের বিদেশ মন্ত্রী জম্মু ও কাশ্মীর বিষয়ক আইন পাস করার পর উদ্ভুত ঘটনাবলীর উল্লেখ করেন। ভারতীয় মন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং ভারতীয় সংবিধানের অস্থায়ী সংস্থান পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়টি একান্তই দেশের বিশেষাধিকার। আরো জানানো হয় যে এই আইনী ব্যবস্থার লক্ষ্য হল উন্নততর শাসন ব্যবস্থা এবং জম্মু ও কাশ্মীরের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সীমানা বা ভারত-চীন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ এল এ সি-র ওপর কোনো রকম প্রভাব পড়বে না। 


আলোচনায় আরো উল্লেখ করা হয় যে ভারত অতিরিক্ত ভূখন্ড দাবী করছে না সেই কারণে চীনের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। ভারত জানায় যে এ পর্যন্ত ভারত-চীন সীমান্ত প্রশ্নে উভয় পক্ষ ২০০৫ সালের শর্তাবলী এবং নির্দেশাত্মক নীতির ভিত্তিতে সীমান্ত প্রশ্নের ন্যয্য এবং পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের বিষয়ে একমত হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার বিষয়ে চীনের বিদেশ মন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে শ্রী জয়শংকর বলেন এতে পাকিস্তানের কিছু বলার থাকতে পারে না কারণ এটি একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। 


আলোচনায় উভয় পক্ষ জোর দিয়ে বলেন যে ভারত-চীন সীমান্তে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবশ্যক। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে বলা হয় যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নত হলেও ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি উদ্বেগের বিষয়। চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভারতীয় ওষুধপত্র এবং তথ্য প্রযুক্তি পণ্যের অধিক প্রবেশের ওপর জোর দেওয়া হয়। 


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন যে ভারত ও চীনের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ভর করে উভয়ের উদ্বেগের বিষয়ে পারস্পরিক সংবেদনশীলতা।। এই দুটি প্রতিবেশী দেশ বৃহত্তর উদীয়মান অর্থনীতি, তাই দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানান মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু মতপার্থ্যক বিবাদের রূপ নেওয়া উচিত নয়। 


এই সফরকালে ভারত ও চীনের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারকপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২০এ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতা, ভারত ও চীনের জাতীয় সংগ্রহালয়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় সহযোগিতা এবং চিরাচরিত ওষুধপত্র ক্ষেত্রে দুটি দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি হল এই সব সমঝোতা স্মারকপত্রের বিষয়। (মূল রচনাঃ ড.ভ রূপা নারায়ণ দাস)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?