জি - ৭ শিখর সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক


ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ইমানুয়েল ম্যাঁকর ফ্রান্সের বিয়ারিটজে আয়োজিত জি – ৭ শিখর সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ইরান পরমাণু চুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা সহ একাধিক বিষয়ে উভয় দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত এই শিখর সম্মেলনের অবসরেই প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠকে বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প জানান, WTO ভারতকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের তালিকাভূক্ত করায় ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করে। এর জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ইস্পাতের ওপর শুল্ক আরোপ করে। অন্যান্য ভারতীয় পণ্য আমদানিও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ভারতও এর জবাবে গত জুন মাসে ২৮টি মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে। এই পরিস্থিতিতে এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরো প্রসারের পন্থা-পদ্ধতি নিয়ে উভয় নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রসারে বাণিজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে আধিপত্য এবং শুল্ক আরোপকে ঘিরে দুদেশের মধ্যে মতপার্থক্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, উভয় দেশ এই মতপার্থক্যগুলি নিরসনের প্রয়াস নিচ্ছে। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরো বেশী পরিমাণে আমদানি করারও পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো প্রসারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ সভার অধিবেশনে যোগদানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যাবেন। ঐ সফরে তিনি সেখানে বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভাব বিনিময় করবেন। শক্তিক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত শিল্পপতিদের সঙ্গেও তাঁর একাধিক বৈঠকের কথা রয়েছে। এর দুটি লক্ষ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের তেল আমদানি করার পন্থাপদ্ধতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ক্ষেত্রে ভারতের বিনিয়োগের সম্ভবণা খতিয়ে দেখা। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই সফরে ওয়াশিংটন ডিসি যাবেন। সেখানে তিনি মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। দুই নেতার মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বার দায়িত্বভার গ্রহণের পর, বিয়ারিটজের বৈঠকই রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠক। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা অপসারণ সংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের পর এই বৈঠক হওয়ায় তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তা দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র বার করতে পারে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাশ্মীরকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলে উল্লেখ করে কাশ্মীর প্রসঙ্গে আলোচনায় কোনো তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে খারিজ করে দেন। তিনি জানান, ভারত ও পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিকভাবে এই বিষয়ে আলোচনা ও সমাধানসূত্র বার করতে সক্ষম।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ও মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকটিকে একটি সদর্থক পদক্ষেপ হিসেবেই মনে করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এই বৈঠক ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হবে। হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প আরো বেশী আলোচনার প্রয়োজনীয়তা এবং ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরো মজবুত অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর পুণরায় গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

( মূল রচনাঃ ডঃ স্তুতি ব্যানার্জি )

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?