৪২তম ইউ এন এইচ আর সি’র বৈঠকে ভারতের জোরালো খন্ডন

৪২তম রাষ্ট্রসংঘ মানবাধিকার কমিশন ইউ এন এইচ আর সি’র বৈঠকে কাশ্মীর প্রশ্নে প্রস্তাব উত্থাপনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী শাহ মহম্মদ কুরেশী কাশ্মীর প্রসঙ্গকে আন্তর্জাতিক রুপ দেওয়ার বেপরওয়া চেষ্টা চালান কিন্তু তাতে তিনি নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। ৪৭সদস্যের গোষ্ঠীতে পাকিস্তানের পক্ষে অন্ততঃ ২৪জনের সমর্থন দরকার, কিন্তু তাদের সত্বেও তারা ইউ এন আর সিতে একটি জরুরী বিতর্কের অনুরোধ দায়ের করতে প্রয়োজনীয় সমর্থন পায় নি। উল্লেখ করা যেতে পারে যে অধিবেশন চলাকালীন যে কোনো সময় বিতর্কের অনুরোধ দায়ের করা যেতে পারে। কাশ্মীর সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিষয়ে অনুরোধ করার শেষ সময়সীমা ১৯শে সেপ্টেম্বর। ভারত জেনেভায় কোনো মন্ত্রী পাঠায় নি, এর কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছে যে এই বিষয়টিকে তারা তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। তবে তারা পাকিস্তানের দাবী এবং মন্তব্যকে আক্রমণাত্মক উক্তি এবং মিথ্যা অভিযোগ বলে তীব্রভাবে খন্ডন করেছে।

শাহ মহম্মদ কুরেশী আবার মানবাধিকার লঙ্ঘণের দাবী তুলে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপনের চেষ্টা করেন এবং রাষ্ট্রসংঘের একটি যৌথ তদন্তের দাবী জানিয়েছেন। ভারত বলেছে কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংগ সীমান্ত পাড়ের সন্ত্রাসবাদ থেকে জনগণের নিরাপত্তার জন্য এই বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতি পালটা আক্রমণ করে ভারতীয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে সন্ত্রাসবাদের দরুণ এবং পরিষদের সদস্যদের এই ধরণের জঙ্গী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বলেছেন।

ভারতীয় কূটনীতিবিদ শ্রীমতী বিজয় ঠাকুর সিং এর নেতৃত্বে পাকিস্তানে নিযুক্ত প্রাক্তন ভারতীয় দূত অজয় বিসারিয়া এবং জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘের ভারতীয় স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাজীব চন্দর সম্মিলিত ভাবে এই অভিযোগ করেন। পাকিস্তানের সমালোচনা করে শ্রীমতী সিং জানান এখানে একটি প্রতিনিধি দল আমার দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক উক্তির ধারাভাষ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং মিথ্যা ও বানানো অভিযোগ করে চলেছে। সারা বিশ্ব অবগত আছে যে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের ধাত্রীভূমি থেকে এই কাল্পনিক কাহিনী বানানো হচ্ছে, যেখানে পান্ডাদের বছরের পর বছর আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এই দেশ বিকল্প কূটনীতি হিসেবে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের ব্যবহার করে থাকে। ভারতীয় প্রতিনিধি দল সাফল্যের সঙ্গে পাকিস্তানের মানবাধিকারের বিষয়টি উত্থাপন করেছে।

দুটি ঘটনায় ভারতের অবস্থান আরো মজবুত হয়েছে, প্রথমটি হল পাকিস্তান তেহরিক পার্টির বলদেব সিং’এর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া। তিনি পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন যে পাকিস্তানে কেবল হিন্দু এবং শিখরাই নির্যাতিত হচ্ছেন না, এমনকি মুসলিমরাও সে দেশে নিরাপদ নয়। দ্বিতীয়টি হল, সিন্ধ, বালুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে মানবাধিকার লংঘণের বিরুদ্ধে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জেনেভায় ইউ এন এইচ আর সি অধিবেশনের বাইরে বিশ্ব সিন্ধ কংগ্রেসের বিক্ষোভ প্রদর্শন।

স্মরণ করা যেতে পারে যে অধিবেশনের আগে কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করতে জঙ্গীদের উসকানি দিতে পাকিস্তান জে ই এম জঙ্গী মাসুদ আজহারকে মুক্তি দিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। পাকিস্তান দুমুখো নীতি ব্যবহার করতে চায় প্রথম, রাজস্থান-শিয়ালকোট বরাবর সৈন্য মোতায়েন এবং দ্বিতীয়, ইউ এন এইচ আর সি অধিবেশনের আগে জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি করা। এযাবৎ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভারতের অবস্থানকে সমর্থন করে আসছে।

ইউ এন এইচ আর সিতে পাকিস্তানের ব্যর্থতা এবং জঙ্গীদের প্রতি ক্রমাগত সমর্থনের ফলে ২৭শে সেপ্টেম্বর ইমরান খান যখন রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দেবে তখন তাদের অবস্থান নিঃসন্দেহে দুর্বল হয়ে পড়বে। পাকিস্তান সমস্ত মঞ্চে সরব হওয়ার চেষ্টা করছে, আর ভারত কাশ্মীরের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জন করার জন্য কৌশলগতভাবে নীরবে কাজ করে চলেছে। তবে ব্যর্থতা সত্বেও পাকিস্তান বেপরওয়া প্রয়াস চালিয়ে যাবে কাশ্মীর প্রসঙ্গকে জিইয়ে রাখা এবং জঙ্গীকার্যকলাপ পুনরুজ্জীবিত করার জন্য। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইতিমধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রদর্শনের জন্য মুজাফফরাবাদে বিশাল জনসভার কথা ঘোষনা করেছেন। এখন ভারতের প্রয়োজন হল অক্টোবরের আর্থিক কর্মী গোষ্ঠীর বৈঠকের আগে পাকিস্তানকে ব্ল্যাক লিস্ট করার প্রয়াস চালিয়ে যাওয়া (মূল রচনাঃ ড. জৈনাব আখতার)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?