ভূমিক্ষয় রোধে অঙ্গীকার বিভিন্ন দেশের

ভূমি খুব গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এটি মানুষের জীবিকা এবং কল্যাণের মূল উৎস। খাদ্য সরবরাহ, স্বচ্ছ জল এবং পরিবেশগত অন্যান্য অনেক পরিষেবা এবং জৈব বৈচিত্র এর অন্তর্ভুক্ত। জলবায়ু ব্যবস্থায় ভূমি অনবদ্য ভূমিকা পালন করে।

বেশকিছু দশক ধরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ভূমি এবং স্বচ্ছ জলের নজীরবিহীন ব্যবহারের ফলে দেখা দিয়েছে ভুমি ক্ষয়। সেই সঙ্গে কৃষি এবং গবাদিপশুর উৎপাদন জনিত যৌথ চাপ, নগরায়ণ, বনোচ্ছেদ এবং বিশেষ করে খরার মত চূড়ান্ত আবহাওয়ার পরিস্থিতি এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। মানবজাতি বরফ মুক্ত ৭০শতাংশ জমিকে প্রভাবিত করে। ভূমিক্ষয় এবং মরুকরণ বিভিন্ন দেশে বড় ধরণের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত সমস্যা। মরুকরণ ভুমি ক্ষয়ের এক রুপ যার ফলে উর্বর জমি মরুভূমিতে পরিণত হয়। 



এই সব পরিবর্তনের মোকাবিলায় এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে ১৯৭টি দেশের প্রায় ৯০০০ প্রতিনিধি দিল্লীর উপকণ্ঠে এক বড় সম্মেলনে যোগ দেয়। ২রা সেপ্টেম্বর থেকে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মরুকরণ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রসংঘ সম্মেলন’ UNCCDর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির চতুর্দশ সম্মেলন COP 14র আয়োজন করে ভারত।



অংশগ্রহণকারীরা ভূমির ব্যবস্থাপনা, ক্ষয় হওয়া জমির পুনরুদ্ধার, খরা, জলবায়ু পরিবর্তন, নবীকরণযোগ্য শক্তি, মহিলাদের ক্ষমতায়ণ, লিঙ্গ সমতা, জল সংকট এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন মন্ত্রী, রাষ্ট্রসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তঃসরকারী সংগঠনের প্রধান এবং নানান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ। 



১২ দিন আলোচনার পর বৈঠকে নতুন দিল্লী ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা হয়। এটি হল নতুন করে ভূমি ক্ষয় রোধের মাধ্যমে আমাদের এই গ্রহকে রক্ষা করার এক কর্ম পরিকল্পনা। এতে বলা হয়েছে ২০১৫র ডিসেম্বরে সম্পাদিত প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অর্জনে জলবায়ু ব্যবস্থাপনা এবং জৈব বৈচিত্রের জন্য বিশ্বকে ভূমি-ভিত্তিক সমাধানের কথা বিবেচনা করতে হবে। 



ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারীরা ৩৫টি সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে ভুমিক্ষয়, মরুকরণ এবং খরা প্রতিরোধের অঙ্গীকার। নতুন দিল্লী ঘোষণাপত্র হল এক সর্বসম্মত বিবৃতি এবং এই ৩৫টি সিদ্ধান্ত ১৯৭টি দেশ মানতে আইনগতভাবে বাধ্য। 



ঘোষণাপত্রে ক্ষয় হওয়া ভূমির পুনরুদ্ধারে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে তার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। খরার মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রয়াস আরো জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলি। 



বিভিন্ন দেশ ২০৩০ নাগাদ ভূমিক্ষয় নিরপেক্ষতা বা LDN অর্জনের লক্ষ্য পূরণে রাজী হয়েছে। LDN হল এমন এক অবস্থা যখন ভূমি সম্পদের পরিমাণ ও গুণমান স্থির থাকবে বা বৃদ্ধি পাবে। সম্মেলনে এই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। ভূমি ক্ষয়ের ফলে সারা বিশ্বের প্রায় ৩.২ বিলিয়ন মানুষ বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার কৃষক এবং দারিদ্র রেখার নিচে বসবাসকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিক্ষয় নিরপেক্ষতা জমির ব্যবস্থাপনা নীতি এবং অনুশীলনে নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। 



প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্ব ভুমি নীতিতে ভারতের প্রতিশ্রুতির কথা আবার জোর দিয়ে বলেছেন। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে ২৬ মিলিয়ন হেক্টর ক্ষয় হওয়া ভূমি পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করেছে, আগের লক্ষ্য মাত্রার তুলনায় এই পরিমান ৫ মিলিয়ন হেক্টর অধিক। ভারত বর্তমানে COP 14এর সভাপতি এবং দুবছর এই পদে অধিষ্ঠিত থাকবে। 



বিভিন্ন দেশ লিঙ্গ সমতা সহ জমির মেয়াদ জনিত নিরাপত্তার অভাব দূর করবে, সমস্ত অঞ্চলের উন্নতি এবং সম্বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রীরা জনগণের সুস্বাস্থ্য এবং জন কল্যাণ, পরিবেশের উন্নতি এবং শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যে এই সব নতুন প্রয়াসের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। 

ঘোষনাপত্রে আরো বলা হয়েছে যে স্থানীয় প্রশাসনগুলিকে ভূমির ব্যবহার ব্যবস্থাপনার জন্য সুসংহত নীতি গ্রহণ করতে হবে। সম্মেলনে মরুকরণ, ভূমি ক্ষয় এবং করার ঝুঁকি এবং প্রভাব হ্রাস করার লক্ষ্যে সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করতে হবে। 



UNCCDর কার্যকরী সচিব ইব্রাহিম থিয়াও বলেছেন বিশ্ব জলবায়ু সংকট এবং জৈব বৈচিত্র লোকসানের মোকাবিলায় সবচেয়ে সহজ সমাধান হল ভূমির পুনরুদ্ধার। তিনি বলেন ভূমি উদ্ধার, জলবায়ু এবং জৈব বৈচিত্রের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। (মূল রচনাঃ কে ভি ভেংকটাসুব্রাহ্মনিয়াম)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?