দুমুখো নীতির জন্য পাকিস্তানের সমালোচনা
পাকিস্তান ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরে তাদের একগুঁয়েমীর জন্য অশান্তিকর পরিস্থিতিতে রয়েছে। বিশ্বের প্রায় সব শক্তিধর দেশ তাদের সমালোচনা করেছে এবং বলেছে যে অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। পাকিস্তান সমর্থন যোগার করার জন্য এপ্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়াচ্ছে। তবে সেই সমর্থন দুরস্ত।
একটি বেসরকারী টেলিভিসন চ্যানেলের সঙ্গে সম্প্রতি এক সাখাৎকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান স্বীকার করেছেন যে ইসলামাবাদ চিরাচরিত যুদ্ধে ভারতের সঙ্গে জিততে পারবে না। তিনি আবারও পরমাণুর হুমকি দিয়েছেন এবং কাশ্মীরের বিষয়ে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে দিয়েছেন যে তারা যদি ভারতের পরমাণু অস্ত্রের প্রতি দৃষ্টি দিতে ব্যর্থ হয় তবে ভবিষ্যতে বিপর্যয়ের জন্য তারাই দায়ী হবে। তিনি আরো বলেন, তিনি বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন যে পাকিস্তান যুদ্ধ চায় না, তবে সেই সঙ্গে পাকিস্তান তাদের দেশের নিরাপত্তা এবং অখন্ডতার প্রশ্নে চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না।
তিনি আরো স্বীকার করেন যে আগামী মাসে ইসলামাবাদ কঠোর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হবে কারণ, সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে ব্ল্যাক লিস্ট করার মামলাটি সেই সময় সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা ফাইনান্সিয়াল এ্যাকশন টাস্ক ফোর্স ‘ FATE তে উত্থাপিত হবে। এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন বিশ্বে পাকিস্তানের অর্থনীতিকে ভেঙ্গে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। ভারত যখনই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে পাকিস্তান কোনো না কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। আর এখন পাকিস্তানের অন্তঃসার শূন্য উক্তির বিষয়ে সকলে অবগত আছেন।
কাশ্মীর প্রশ্নে ইসলামাবাদ একা হয়ে পড়েছে তাদের কুমন্ত্রণার জন্য। তারা জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়া যুদ্ধ চালানোর অভিপ্রায়ে গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে আর্থিক ও অন্যান্যভাবে মদত জুগিয়ে আসছে। পাকিস্তানের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের জন্য অসংখ্য নিরপরাধ ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন। এখন পাকিস্তান তাদের ব্যর্থ প্রয়াসের জন্য অকারণে চিৎকার করতে পারে না।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাক্ষাৎকার শেষ করতে না করতেই চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রশ্নের সম্মুখিন হতে শুরু করেছেন। পাকিস্তানের দুমুখো নীতির জন্য বিশ্ব ইউইঘুর কংগ্রেস তীব্রভাবে তাদের সমালোচনায় মুখর হয়েছে। চীনে ইউঘুর মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে তারা দৃষ্টি ঘুরিয়ে রেখেছে, এটা খুবই লজ্জার বিষয় এবং ইসলামাবাদ এই বিষয়ে নীরব থেকে পেইচিং এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে।
কয়েকমাস আগে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকরা ইমরানখানকে ইউঘুর প্রশ্ন নিয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন এই বিষয়ে তিনি অবগত নন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বিলক্ষণ জানেন ইউঘুর মুসলিমদের সঙ্গে চীন সরকার কি ধরণের আচরণ করছে অথচ এই বিষয়ে তিনি কথা বলতে চান না বলে জেনেভায় জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি ডোলকান ইসা।
পাকিস্তান সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লংঘণকারী এবং চীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই বাস্তবতা গোপন করার চেষ্টা করে চলেছে বলে শ্রী ইসা আরো মন্তব্য করেন।
উইঘুরে ডিটেনশন ক্যাম্প আসলে পেশাগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বলে চীন যে দাবী করেছে তার জবাবে ইউঘুরে কর্মী বলেন এটি সর্বৈব অসত্য কারণ চীন সবকিছু লুকনোর চেষ্টা করছে। শ্রী ইসা আরো বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সর্বদাই কাশ্মীর প্রশ্ন উত্থাপন করেন কিন্তু ইউঘুরের প্রশ্নে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নেন। এটাই তাদের দুমুখো নীতি এবং লজ্জার বিষয়।
শ্রী ইমরান খান বালোচ জনগণেরও কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গত সপ্তাহে জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘ মানবাধিকার কমিশনের অধিবেশনের সময় বালোচ জনগণ বালোচিস্তানে ইমরান খান সরকারের তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। পাকিস্তান বালোচিস্তানে গণহত্যা এবং মানবাধিকার লংঘণ করে চলেছে অথচ কাশ্মীরে মানবাধিকারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কুম্ভিরাশ্রু ফেলছে বলে বালোচ সক্রিয় কর্মী মেহরান ম্যারি জানিয়েছেন।
পাকিস্তান যতদিন তাদের এই দুমুখো নীতি চালিয়ে যাবে ততদিন তাদের দুরবস্থার অবসানের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলেই মনে হয়। (মূল রচনাঃ কৌশিক রায়)
Comments
Post a Comment