রাষ্ট্রপতির আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড এবং স্লোভানিয়া সফর

রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করার জন্য আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড এবং স্লোভানিয়ায় নয় দিনের সফর করেন। ভারত এবং আইসল্যান্ড মৎসচাষ সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, আধিকারিকদের জন্য ভিসা সুবিধা এবং আইসল্যান্ড বিশ্ব বিদ্যালয়ে একটি হিন্দি চেয়ার স্থাপন সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক মৌ স্বাক্ষর করে। আইসল্যান্ড নরডিক দেশগোষ্ঠীর অংগ এবং ভারতীয় রাষ্ট্রপতি স্বীকার করেন যে রেজাভিক মৎসচাষ, সামুদ্রিক অর্থনীতি, জাহাজ চলাচল, সবুজ বিকাশ, শক্তি, নির্মাণ এবং কৃষি ক্ষেত্রে অবদান যোগাতে পারে।

আইসল্যান্ড আন্তঃসরকারী সংগঠন আর্কটিক পরিষদের সভাপতি। এই পরিষদ আর্কটিক অঞ্চলে ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করছে। আইসল্যান্ড রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের প্রার্থীপদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ আইসল্যান্ড বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি প্যারিস চুক্তির আওতায় ভারতের প্রতিশ্রুতির কথা বলেন এবং ২০২২ নাগাদ সিংগল ইউজ প্লাস্টিক সম্পূর্ণ রুপে নির্মূল করার অঙ্গীকার করেন। তিনি ভারত-আইসল্যান্ড বিজনেস ফোরামে বক্তব্য রাখেন এবং শিল্পোদ্যোগীদের সামনে বিনিয়োগের যে সব সুযোগসুবিধা রয়েছে তা তুলে ধরেন। ভারতীয় রাষ্ট্রপতি আইসল্যান্ডে ভারতের রাষ্ট্রদূতের আয়োজিত ভারতীয় সম্প্রদায়ের সম্বর্ধনা সভায় যোগ দেন।

শ্রী কোবিন্দ দ্বিতীয় পর্যায়ে সুইজারল্যান্ড সফর করেন। বার্নে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারত-সুইজারল্যান্ড নতুন যুগের অংশীদারিত্ব সম্পর্কে তাঁর ভাষণে তিনি এ্যাল্পসের সঙ্গে হিমালয়ের সংযোগের কথা বলেন। সবুজ অর্থনীতি, সামুদ্রিক অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অভিনবত্ব এবং স্মার্ট সমাধানের ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করে তিনি ভারত-সুইস ভবিষ্যত সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন যে সারা পৃথিবীর লোকজন বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের প্রশংসা করে এবং ঐতিহাসিক মুহুর্তগুলির সঙ্গে এদের সংযোগ রয়েছে। ১৮৯৬ সালে স্বামী বিবেকানন্দ এই দেশ সফর করেন এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্বের যোগাযোগ স্থাপনের বার্তা দেন। ১৯৩১ সালে নোবেল বিজয়ী রোমা রোলাঁর আমন্ত্রণে গান্ধীজী সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ করেন। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ মহাত্মাগান্ধীর সার্ধোশততম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভিলেনেউভ শহরে গান্ধীজীর আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন।

ভারত ও সুজারল্যান্ডের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য বিষয় হল মজবুত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব। ভারতে প্রায় আড়াইশোটি সুইজ কোম্পানী রয়েছে এবং চেন্নাইয়ে সুইস সহায়তায় ইন্টিগ্রাল রেলওয়ে কোচ ফ্যাক্টরি স্থাপিত হয়। ২০১৫ সালে এই কারখানা তাদের হীরক জয়ন্তী উদযাপন করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিক নির্ণয় করবে বলে উল্লেখ করে ভারতীয় রাষ্ট্রপতি বলেন সুইজারল্যান্ড অভিনবত্বে বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে এবং ভারত তাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকে। তিনি বলেন সুইজারল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সাহায্যে আমাদের শহর এবং নদী পরিস্কার ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজে সহায়তা হতে পারে। তিনি ভারত সুইজারল্যান্ড বাণিজ্যিক গোলটেবিল বৈঠকে ভাষণ দেন। শ্রী কোবিন্দ বিশ্ব ব্যাংকের ব্যাবসা বাণিজ্য সহজ করার সূচকে ভারতের উত্থান এবং ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া, স্মার্ট সিটি, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, ক্লিন ইন্ডিয়া, স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্কিল ইন্ডিয়া কর্মসূচিতে সুইজ অংশগ্রহনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সফরের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি স্লোভানিয়া সফর করেন। ভারতের কোনো রাষ্ট্রপতি এই প্রথম সে দেশ সফর করলেন। ঐ দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক রুপান্তরের উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ বলেন ভারত স্লোভানিয়ার উন্নত প্রযুক্তি, ধারাবাহিক বাণিজ্যিক অনুশীলন এবং গবেষণা, জ্ঞান ও অভিনবত্বের বিষয়ে আগ্রহী। ভারত ও স্লোভানিয়া সাতটি সমঝোতা স্মারক পত্রে স্বাক্ষর করেছে। এইগুলির বিষয় হল বিনিয়োগ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, গঙ্গা পরিস্কার মিশন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রভৃতি। তিনি ভারত-স্লোভানিয়া বাণিজ্য ফোরামে ভাষণ দেন। স্লোভানিয়া রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্য পদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। এ মাসের পরের দিকে স্লোভানিয়া সরকার মহাত্মা গান্ধীর ওপরে স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করবে। (মূল রচনাঃ উম্মু সালমা বাভা)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?