ভারতীয় বিমান বাহিনী – পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দিতে প্রস্তুত

ভারতীয় বিমান বাহিনী আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফরাসি সংস্থা দাসোঁ এভিয়েশনের কাছ থেকে প্রথম দফায় রাফাল যুদ্ধ বিমান পেতে চলেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রথম রাফাল যুদ্ধ বিমান গ্রহণ করতে ফ্রান্সে যাবেন। ভারতীয় বিমান বাহিনী আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে রাফাল উড়ানের জন্য তিনটি ভিন্ন ভিন্ন দলে ২৪ জন বিমান চালকের প্রশিক্ষণ দেবে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর কয়েকশ মিগ-২১, মিগ-২৩ ও মিগ-২৭ বাতিল হয়ে যাওয়া যুদ্ধ বিমানের জায়গা কীভাবে পূরণ করা যায় সেই প্রশ্ন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলেছিল এবং রাফাল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত সেই প্রেক্ষিতে অত্যন্ত যৌক্তিক। 




অন্যদিকে, ভারতের সব থেকে কাছের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে গত কয়েক দশক ধরে যে সমস্ত ঘটনবাপ্রবাহ হয়ে চলেছে এবং সীমান্ত পারের সন্ত্রাস যেভাবে সেখানে বৃদ্ধি পেয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে ভারতীয় নেতৃত্বকে অবিলম্বে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামগ্রী ক্রয়ের অভিমুখে ঠেলে দেয়। সাম্প্রতিক সময়কালেও, ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে এক আত্মসংযমী দেশ হিসেবে নিজেদের ধরে রাখার তত্ত্ব থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের মতো কঠোর দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণের দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন নজরে এসেছে। এখন ভারতও এক স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছে যে পরিস্থিতি বাধ্য করলে নতুন দিল্লী তাদের প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতিও পর্যালোচনা করতে দ্বিধা করবে না। 




গত ফেব্রুয়ারি মাসে, বালাকোটে সার্জিকাল আক্রমণ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী আদতে কোন্‌ পথে এগোবে তার এক ইঙ্গিত দেয়। ভারতীয় নেতৃত্বও মনে করেন যে দেশের উত্তরাংশের উদ্ভূত পরিস্থিতি কার্যকরী বায়ু সেনা শক্তি ও যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থাপনা ছাড়া মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এই প্রসঙ্গে রাফাল যুদ্ধ বিমান ক্রয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। বালাকোটে বিমান হানার পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন যে রাফাল থাকলে আরও ভালো ফল পাওয়া যেত। তিনি একথা বলেছিলেন রাফাল যুদ্ধ বিমানের কর্মক্ষমতার প্রেক্ষিতেই যা ভারতের কাছে বর্তমানে নেই। ভারতীয় বিমান বাহিনীকে গোটা বারো মিরাজ-২০০০-এর ওপরেই নির্ভর করে থাকতে হয়েছিল। 




প্রামাণ্য নথি জানায় যে রাফাল যুদ্ধ বিমান অন্যতম শ্রেষ্ঠ যুদ্ধ বিমান যা অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান মার্কিন এফ-২২ র‍্যাপটরের প্রায় সমমানের। এটি পাওয়ায় ভারতীয় বিমান বাহিনী যথেষ্ট সুবিধাজনক অবস্থায় এসে যাবে।

এটা ঘটনা যে ভারতীয় বিমান বাহিনীর সক্ষমতাকে এক ধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যাবে এই রাফাল যুদ্ধ বিমান। বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র সহ রাফাল আকাশপথে তাদের আধিপত্য বিস্তারে, প্রাথমিক নিরীক্ষণে এবং তীব্র আক্রমণে ও পরমাণু অস্ত্র বহনেও সক্ষম করে তুলবে। এছাড়াও রাফাল থেকে বিমান চালকরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারবেন এবং এটি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল যেমন লেহ্‌ থেকেও খুব দ্রুত উড়তে সক্ষম হবে ও এতে থাকবে একটি র‍্যাডার সতর্কতা রিসিভার যা শত্রুপক্ষের চলাচল ধরতে পারার ব্যবস্থাপনা ও শত্রুপক্ষের ক্ষেপনাস্ত্র হানা এড়িয়ে চলার ব্যবস্থাপনাও থাকবে। 




রাফাল যুদ্ধ বিমানে অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রও থাকবে যার মধ্যে রয়েছে দূর পাল্লার ভূমিতে আক্রমণযোগ্য ক্ষেপনাস্ত্র যা ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যস্থলে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। আরও যা থাকবে তার মধ্যে রয়েছে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপনাস্ত্র। এটি ১০০ কিলোমিটার দূরে শত্রুপক্ষের যুদ্ধ বিমানকে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। রাফালের যুদ্ধ ক্ষমতা প্রমাণিত ও বছরের পর বছর ধরে এই যুদ্ধ বিমান বহু যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। 




ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং তেজস যুদ্ধ বিমানের পরীক্ষামূলক উড়ানে অংশ নেন। তেজস হলো একটি মাল্টি-রোল যুদ্ধ বিমান যা শব্দের থেকেও বেশি গতিবেগে উড়তে সক্ষম এবং আকাশ থেকে আকাশ, আকাশ থেকে ভূমি, নির্ভুল দিশা যুক্ত ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম একটি যুদ্ধ বিমান। এই যুদ্ধ বিমানটিও ভারতীয় বিমান বাহিনীতে খুব শীঘ্রই অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে। 




বিকাশের পথে এগিয়ে চলা ভারতের জাতীয় স্বার্থগুলিও ক্রমবর্ধমান। দেশের স্বার্থে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এই বিষয়ে ভারত এক মজবুত শিল্প সক্ষমতা তৈরির মাধ্যমে দেশে নির্মিত যুদ্ধাস্ত্র তৈরির ওপর আস্থা রেখে এগোচ্ছে। সক্ষমতার প্রশ্নে ভারতীয় বিমান বাহিনীর কাছে রাফাল হয়ত সবথেকে ভালো যুদ্ধ বিমান, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সুবিধার লক্ষ্যে বর্তমান ক্রয়কে এক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে দেশের ঘরোয়া শিল্প সক্ষমতা বাড়ানোর পথে দেশকে এগোতেই হবে।




[মূল রচনা- উত্তম বিশ্বাস]

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?