হাউডি মোদি- এক অভূতপূর্ব অনুষ্ঠান
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু হল টেক্সাসের হাউস্টনে হাউডি মোদি অনুষ্ঠানের মধ্য মধ্য দিয়ে। এই অনুষ্ঠান অভূতপূর্বভাবে সফল হয়েছে। সেখনে তিনি ৫০ হাজারের বেশি ভারতীয় মার্কিন নাগরিকের সামনে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একই মঞ্চে ভাষণ দেন।
প্রধানমন্ত্রী এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন্সে এবং ২০১৫তে সান জোশে ভারতীয় মার্কিন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন, কিন্তু রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের উপস্থিতি হাউস্টন অনুষ্ঠানকে গুণগত দিক থেকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে। বরিষ্ঠ ডেমক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য স্টেরি হোয়ার সহ বহু সংখ্যক কংগ্রেস সদস্য এবং সেনেটরদের উপস্থিতি প্রমান করে যে ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্বের প্রতি উভয় দলের সমর্থন রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পকে পরিচয় করানোর সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য শ্রী ট্রাম্পকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান। এই অনুষ্ঠান দুটি বৃহত্তম গণত্রের হ্রদস্পন্দনের প্রতিনিধিত্ব করে বলে তিনি জানান। তাঁকে “আমার বন্ধু, ভারতের বন্ধু এক মহান আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ব’লে সম্বোধন করেন। তিনি পুনরায় আমেরিকাকে মহান করে তোলার জন্য রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প এই অনুষ্ঠানকে যথার্থভাবেই ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন এবং এই উদযাপন ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরো ঐক্যবদ্ধ করে বলে জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং ৩০০ মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র সীমার নিচে থেকে ওপরে নিয়ে তুলে আনার জন্যও তাঁর প্রশংসা করেন। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম, নতুন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য তিনি চার বিলিয়ন ভারতীয় মার্কিন সম্প্রদায়কে অভিনন্দন জানান। এর আগে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক কখনই এত মজবুত ছিল না বলে মন্তব্য করে তিনি উল্লেখ করেন জ্বালানী সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও মহাকাশ ক্ষেত্রে সহযোগিতার উল্লেখ করেন। উভয় দেশ মৌলিকতাবাদ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিভিন্ন ভারতীয় কোম্পানির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগের তিনি প্রশংসা করেন।
জোরালো ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের বিকাশে তাঁর লক্ষ্য উপস্থাপন করে বলেন “আমাদের চ্যালেঞ্জ নিজেদের বিরুদ্ধে, আমরা নিজেদের পরিবর্তন করছি”। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন গত পাঁচ বছরে গ্রামীণ স্বচ্ছতা ৩৮ শতাংশ থেকে ৯৯ শতাংশে পৌঁছে গেছে এবং ১১০ মিলিয়ন শৌচাগার নির্মিত হয়েছে, ১৫০ মিলিয়ন নতুন রান্নার গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়েছে, গ্রামীণ সংযোগ ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৭ শতাংশ এবং ১০০ শতাংশ ব্যাংকিং কভারেজ সম্ভব হয়েছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ফলে তথ্য সহজসভ্য হয়ছে এবং ব্যবসা করা সহজ হয়েছে। ভারতের অর্থনীতিকে স্বল্প মুদ্রাস্ফিতি, স্বল্প আর্থিক ঘাটতি এবং উচ্চ বিকাশের অর্থনীতি বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন পরিকাঠামো ব্যয়, বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে কারণ ভারত ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে এগিয়ে চলেছে। বিদেশী বিনিয়োগের জন্য ভারতকে উন্নত গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
ভারত অনেক পুরনো এবং নিয়মকানুন এবং অভ্যেসকে বিদায় জানিয়েছে। ভারত, ৭০ বছরের পুরনো আইন অনুচ্ছেদ ৩৭০কেও বিদায় জানিয়েছে। এই অনুচ্ছেদ জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের জনগণকে উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত রেখেছিল এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং সন্ত্রাসবাদীরা একে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছিল।
সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্রকারী এবং মদতদাতাদের বিরুদ্ধে লড়াইএর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের নাম না করে বলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৯/১১ এবং ভারতের বিরুদ্ধে ২৬/১১র জঙ্গী হানার চক্রান্তকারীদের কোথায় পাওয়া গেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী “হাউডি মোদি”র প্রশ্নের উত্তরে ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র তুলে ধরে সমস্ত ভারতীয় ভাষায় বলেন “সবকিছু ভালো চলছে”। তিনি বলেন এই বৈচিত্রই হল ভারতীয় গণতন্ত্রের মূলকথা এবং প্রেরণার উৎস।
নিউ ইয়র্কে আনুষ্ঠিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরবর্তি কথাবার্তার পথ সুগম হয়েছে হাউডি মোদি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মজবুত এবং উষ্ণ সম্পর্কের পরিচয় হিসেবে এই অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে অনেকদিন পর্যন্ত স্মৃতির পাতায় অমলিন থাকবে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী হাউস্টনে পৌঁছে জ্বালানী কোম্পানীগুলির মুখ্য কার্যকরী আধিকারিকদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক করেন। ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জ্বালানী নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার প্রতি আলোচনায় আলোকপাত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী অভিবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গেও দেখা করেন।
শ্রী মোদি নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন, সেখানে তিনি রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৭৪তম সাধারণ সভায় ভাষণ দেবেন এবং একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন। (মূল রচনাঃ রাষ্ট্রদূত নবতেজ শর্ণা)
Comments
Post a Comment