জলবায়ু পরিবর্তন প্রকৃত পরিবর্তনঃ রাষ্ট্রসঙ্ঘে প্রধানমন্ত্রী মোদির পুনরাবৃত্তি

সুইডেনের ১৬ বছর বয়সী পরিবেশ কর্মী গ্রেটা থানবার্গের আর্ত আবেদন নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘে সমবেত বিশ্ব নেতাদের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। 

ভবিষ্যত প্রজন্ম আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। যদি আপনারা আমাদের হারিয়ে দেন আমি কখনও আপনাদের ক্ষমা করবো না। সে বিশ্বের নেতাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। 

আজ মানুষের সামনে সবচেয়ে বড় আশংকা হল জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু ব্যবস্থায় অপ্রতিরোধ্য পরিবর্তন সমগ্র বিশ্বে ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে। 

আমাদের স্বীকার করতে হবে যে জলবায়ু পরিবর্তনের মত গুরুতর চ্যালেঞ্জকে আমাদের অতিক্রম করতে হবে তাই বর্তমানে এর জন্য আমরা যা করছি তা যথেষ্ট নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্ব নেতাদের একথা বলেছেন। আমাদের যা করা দরকার তা হল আচরণগত পরিবর্তনের জন্য সারা বিশ্বে জন আন্দোলন গড়ে তোলা। 

লোভ নয়, প্রয়োজন হল আমাদের পথ চলার নীতি। শ্রী মোদি বিশ্ব সংস্থার বিশেষ শিখর সম্মেলনে একথা বলেন। তিনি বলেন ভারত কেবল এই প্রশ্নের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতে আসে নি, তারা এসেছে একটি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গী এবং একটি রুপরেখা উপস্থাপন করতে।

জার্মানীর জলবায়ুর প্রভাব সংক্রান্ত গবেষণা সংস্থা পটসড্যাম ইনস্টিট্যুট দেখিয়েছে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ এশিয় অঞ্চলে তাপমান ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে। 

তাপমাত্রায় এই বৃদ্ধির ফলে আবহাওয়া, কৃষি, মৎসচাষ ক্ষেত্র, ভূমি, সমুদ্র জৈব বৈচিত্র, অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, নগর উনয়ন, অভিবাসন এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। কোনো কোনো দেশে এর ফলে তীব্র আশংকা দেখা দেবে এবং ধারবাহিক এবং স্থায়ী উন্নয়নের আশা ব্যহত হবে। 

এই আশংকা যথার্থ এবং জলবায়ু বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। তবে এখনও আমরা এই পরিস্থিতিকে বদলাতে পারি। 

আজ যা দরকার তা হল এক সর্বাত্মক দৃষ্টিভঙ্গী, যাতে থাকবে শিক্ষা থেকে নিয়ে মূল্যবোধ এবং জীবনশৈলী থেকে নিয়ে উন্নয়নের দর্শন, প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান। 

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ভারতের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন এবং কার্বন নির্গমন হ্রাস করার জন্য নবীকরণযোগ্য জ্বালানীশক্তি, ই মোবিলিটি, প্রযুক্তি অভিনবত্ব বৃদ্ধির জন্য সমবেত মঞ্চ তৈরির মত রুপরেখা উপস্থাপন করেন। 

ভারতে ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তনের প্রভাবে পড়তে শুরু করেছে, বৃষ্টিপাতের ধরণে পরিবর্তন, অতি বন্যা এবং খরার পরিস্থিতি দেখা দিচ্ছে। বিশ্বের ২০টি শহর বন্যা প্রবন হয়ে উঠেছে। পটসড্যাম প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষায় জানা গেছে মুম্বাই, চেন্নাই, সুরাট এবং কলকাতা এই চারটি ভারতীয় শহর এর মধ্যে রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য উৎপাদনে প্রতিকূল প্রভাব পড়বে এবং ব্যয় অধিক হবে। খাদ্য সংকটের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় অপুষ্টির শিকার শিশুর সংখ্যা ৭ মিলিয়ন বৃদ্ধি পাবে। 

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি দেখা দেবে। ইতিমধ্যেই বায়ু দূষণের ফলে প্রতিবছর ৩.৩ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। চীন, ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে এই ধরণের মৃত্যু সব চেয়ে বেশি ঘটছে। 

জলবায়ু উষ্ণতর হলে জ্বালানী নিরাপত্তা আরো তীব্রতর হবে এবং এর ফলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সীমিত জ্বালানী নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেবে। 

ভারত সৌর শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সৌর জোট গড়ে তুলতে ফ্রান্সের সঙ্গে মিলে প্রয়াস চালিয়েছে। ভারত অ-জীবাশ্ম জ্বালানীর মাত্রা বৃদ্ধির জি ডব্লুতে এবং পরে ৪৫০ জি ডব্লুতে বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করছে। আমরা ই মোবিলিটির মাধ্যমে আমাদের পরিবহন ব্যবস্থাকে দূষণমুক্ত করে তুলবো। প্রধান মন্ত্রী মোদি ভারতের বিস্তারিত রুপরেখা তুলে ধরেন। 

বিশ্ব সংস্থা হিসেবে রাষ্ট্রসংঘের উচিত সকল দেশের পক্ষে আইনগতভাবে প্রযোজ্য এই সব নীতি প্রণয়ন করা। 

সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হল প্রকৃতিকে সম্মান করা, যতটা প্রয়োজন কেবল ততটাই সহায় সম্পদ ব্যবহার করা, নিজেদের চাহিদা কম করা এবং নিজেদের সাধ্যের মধ্যে জীবন ধারণ করা। ভারত চিরাচরিতভাবে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করে বলে শ্রী মোদি জানান। 


অন্য অনেক দেশের মত ভারত জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের সঙ্গে সঙ্গে ১.৩ বিলিয়ন জনগণের চাহিদা এবং আশা আকাংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করে চলেছে। কিন্তু আজ যদি আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হই, তবে ভবিষ্যৎ আমাদের ক্ষমা করবে না। (মূল রচনাঃ এন ভ্রদ্রণ নায়ার)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?