ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বর্তমান বিশ্বে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমকক্ষ আকর্ষণীয় অন্য কোনো নেতা বিরল। যেখানেই তিনি যান নেতা, আইন প্রণেতা এবং জনগনকে তিনি আকর্ষিত করেন এবং তাদের ভারতের ঘনিষ্ট অংশীদার করে তোলেন।

সম্প্রতি হাউস্টন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর এই যোগ্যতা প্রদর্শিত হয়েছে। আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে প্রবেশের পর থেকে তিনি ইতিমধ্যেই ছ’বার তাঁর সঙ্গে সামনা সামনি সাক্ষাত করেছেন এবং ভারত মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি এক ঐতিহাসিক রেকর্ড।

শ্রী মোদি এবং রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের মধ্যে সর্বশেষ সামনা সামনি কথাবার্তা হয় সোমবার নিউ ইয়র্কে। সেখানে রাষ্ট্রসংঘের বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগদানের জন্য দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। বহুপাক্ষিক কূটনীতির বৃহত্তম মঞ্চে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তুলনামূলকভাবে দুই নেতার মধ্যে এটি ছিল স্বল্পকালীন বৈঠক কিন্তু অনেক দিক থেকেই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রী ট্রাম্প এবং শ্রী মোদির মধ্যে উল্লেখযোগ্য শারীরিক রসায়ন ছিল চোখে পড়ার মত। তার একদিন আগে টেক্সাসের হাউস্টনের ঐতিহাসিক বৈঠকে বিশ্ব দুই নেতার শারীরিক ভাষা প্রত্যক্ষ করেছে। রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ সভার অবসরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতির মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, প্রশংসা এবং উপলব্ধি প্রমাণিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদির ভূমিকা এবং সাফল্যের কথা স্বীকার করেছেন এবং তাঁকে সমসাময়িক ভারতের পিতৃতুল্য বলে অভিহিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে নেতাদের ভূমিকা এবং তাদের মধ্যে শারীরিক রসায়ন দুটির দেশের সম্পর্ক মজবুত করতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই শ্রী মোদি এবং শ্রী ট্রাম্পের মধ্যে ব্যক্তিগত সমানুপাত খাটো করে দেখলে চলবে না।

মন্তব্যকারীদের প্রশ্নের বিপরীতে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শত পিড়াপিড়ি সত্বেও তিনি কাশ্মীর প্রশ্নে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবেন। প্রচার মাধ্যমের একটি অংশ বলছে যে শ্রী ট্রাম্প অন্ততঃপক্ষে ছ’বার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর প্রশ্নে মধ্যস্ততার জন্য তাঁর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রচার মাধ্যম এটা বলছে না যে মার্কিন রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ভারত রাজী হলেই তিনি তা করবেন।

নিউ ইয়র্কে মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে একটি জিনিস খুবই পরিস্কার হয়ে গেছে যে খুব শীঘ্রই দুটি দেশ তাদের বাণিজ্যিক মতপার্থক্য মিটিয়ে নেবে এবং একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি ঘোষিত হবে। এছাড়া এই মতপার্থক্য ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্বে কোনো রকম বিঘ্ন ঘটাবে না।

বৈঠকের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলশ্রুতি হল আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদ্ধতি, দৃষ্টিভঙ্গী এবং যোগ্যতা সম্পর্কে মার্কিন প্রশাসনের বিশ্বাস জন্মেছে। ভারতে পাকিস্তানী মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী মোদি সক্ষম কি না একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের এই প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প তাঁর আস্থা ব্যক্ত করেছেন। এর তাৎপর্য হল মোদি সরকার জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ এবং ৩৫ ক প্রত্যাহার সহ যে ভাবে কাশ্মীর প্রশ্নের সমাধানের চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন তার বিরোধীতা করে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এর চেয়ে স্পষ্টতর মার্কিন সমর্থন আশা করা উচিত হবে না। আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতি, তালিবানদের অব্যাহত হিংসা এবং আফগান সমস্যার সমাধানে পাকিস্তানী সহযোগিতার প্রয়োজন সত্বেও রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প কাশ্মীরে শান্তি ও উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রয়াসে সমর্থন জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প তাঁর মূল ভাষণে একবারও কাশ্মীর প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন নি, এই বিষয়টি ভুললে চলবে না।

মোদি-ট্রাম্প বৈঠকের ফলাফল নিঃসন্দেহে অভূতপূর্ব এবং শ্রী মোদির অভাবনীয় কূটনোইতিক সাফল্যের পরিচয়। (মূল রচনাঃ চিন্তামণি মহাপাত্র)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?