ভারত-ডাচ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়
ভারত ও নেদারল্যান্ডের মধ্যে সপ্তদশ শতাব্দী থেকে এক ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ১৯৪৭সালে ভারতের স্বাধীনতার পর দুটি দেশের মধ্যে সরকারীভাবে সম্পর্ক স্থাপিত হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক ১৯৭০ এবং ১৯৮০র দশকে ক্রমশ বৃদ্ধি পায়; তবে ১৯৯০এর দশকে ভারতীয় অর্থনীতিতে উদারীকরণ আসার পর এই সম্পর্কে আরো উন্নতি ঘটে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আর্থ-সামাজিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গভীরতর হতে থাকে। দুটি দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সফর এই রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের স্বাক্ষ বহন করে। ২০০৬ সালে ওলন্দাজ প্রধানমন্ত্রী জ্যান পিটার বালকেনেন্দে ভারত সফর করেন। গত চার বছরে দুটি দেশের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে তিনটি সফর বিনিময় হয়। ২০১৮র মে মাসে নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রট্টে ভারতে বৃহত্তম বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদলের প্রতিনিধিত্ব করেন। এথেকে দুটি দেশের ক্রবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরিচয় মেলে।
নেদারল্যান্ডের রাজকীয় দম্পতি রাজা উইলেম আলেক্সান্ডার এবং রানী ম্যাক্সিমা পাঁচ দিনের ভারত সফরে আসেন। ২০১৩সালে সিংহাসনে বসার পর রাজা উইলেম আলেক্সান্ডারের এটাই সরকারীভাবে প্রথম ভারত সফর। একজন প্রশিক্ষিত পাইলট হওয়ায় তিনি নিজে বিমান চালিয়ে নিয়ে আসেন ভারতে। নেদারল্যান্ডে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র বিরাজমান এবং অতীতে বর্তমান রাজার মাতা বেট্রিক্স ২০০৭ সালে ভারত সফরে এসেছিলেন।
রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় রাজদম্পতিকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ভারত-নেদারল্যান্ড সম্পর্কের মূল স্তম্ভ বলে উল্লেখ করেন। এর সমর্থনে বলা যায় ১০০টি বেশি ওলন্দাজ কোম্পানী ভারতে কর্মরত। এছাড়া, হেগ, রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসনের জন্য ভারতের দাবী এবং বিভিন্ন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সমর্থন করে আসছে। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ বলেন দৃঢ় ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে দুটি দেশ অভিনবত্ব, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি চালিত এক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। তিনি আরো বলেন স্মার্ট সমাধান, স্মার্ট সিটি, দুষণ হীন জ্বালানী শক্তি, স্টার্ট আপ এবং নতুন যুগের পণ্য সামগ্রী আমাদের নৈকট্য বাড়িয়ে তুলছে। তাছাড়া নদীর পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে ভারত নেদারল্যান্ডের কাছে থেকে অনেক কিছু শিখতে আগ্রহী।
১৯৫৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর প্রথম নেদারল্যান্ড সফরের সময় তাঁর প্রদত্ত ভাষণ উদ্ধৃত করে রাজা উইলেম আলেক্সান্ডার বলেন আমরা সকলে পরস্পরের কাছাকাছি বাস করি। প্রসারিত সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইন ভিত্তিক বিশ্ব শৃংখলা রক্ষায় ভারত ইওরোপীয় গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ায় নেদারল্যান্ড আনন্দিত। রাষ্ট্রসংঘের ধারাবাহিক উন্নয়নের লক্ষ্যের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার তিনি প্রশংসা করেন।
নেদারল্যান্ডস ইওরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পঞ্চম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী এবং চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং ভারতীয় শিল্প মহাসংঘের আয়োজিত ২৫তম প্রযুক্তি শিখর বৈঠকের সময় এই রাজদম্পতির সফর। নেদারল্যান্ড এই সম্মেলনের অংশীদার। জল, কৃষি খাদ্য এবং স্বাস্থ্যের প্রতি সম্মেলনে আলোকপাত করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করে রাজা ইউলেম আলেক্সান্ডার বলেন, অভিনবত্ব সৃষ্টির সমতুল্য। আন্তর্জাতিক জ্ঞান এবং বিশেষজ্ঞ জ্ঞান একত্রিক করে সকলের জন্য নানান সামাজিক প্রশ্নের সমাধান করাই হল অভিনবত্ব।
সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্তরে, নেদারল্যান্ডে প্রবাসী ভারতীয়র সংখ্যা প্রায় ২৩৫,০০০। ব্রিটেনের পর ইওরোপে এই সংখ্যা সর্বাধিক। ১৫ই অক্টোবর রাজদম্পতি ঐতিহাসিক সাফদারজং টম্বে নেদারল্যান্ডে শিক্ষাগ্রহণকারী ৫০জন ভারতীয় প্রাক্তনীর একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলেন। ইংরাজী মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষার জন্য অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী বর্তমানে নেদারল্যান্ডের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।
মুম্বাইয়ে এই রাজদম্পতি ওলন্দাজ সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারত-ওলন্দাজ সংযোগের চারশো বছরের ঐতিহ্য সংক্রান্ত এক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। কেরালা যাত্রার মাধ্যমে তাঁদের সফরের সমাপ্তি ঘটে। সেখানে তাঁরা মাট্টানচেরীতে ওলন্দাজ প্রাসাদ পরিদর্শন করেন। রাজদম্পতির এই সফরের ফলে ভারত-নেদারল্যান্ড সম্পর্ক আরো মজবুত হবে। (মূল রচনাঃ অধ্যাপক উম্মু সালমা বাভা)
নেদারল্যান্ডের রাজকীয় দম্পতি রাজা উইলেম আলেক্সান্ডার এবং রানী ম্যাক্সিমা পাঁচ দিনের ভারত সফরে আসেন। ২০১৩সালে সিংহাসনে বসার পর রাজা উইলেম আলেক্সান্ডারের এটাই সরকারীভাবে প্রথম ভারত সফর। একজন প্রশিক্ষিত পাইলট হওয়ায় তিনি নিজে বিমান চালিয়ে নিয়ে আসেন ভারতে। নেদারল্যান্ডে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র বিরাজমান এবং অতীতে বর্তমান রাজার মাতা বেট্রিক্স ২০০৭ সালে ভারত সফরে এসেছিলেন।
রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় রাজদম্পতিকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ভারত-নেদারল্যান্ড সম্পর্কের মূল স্তম্ভ বলে উল্লেখ করেন। এর সমর্থনে বলা যায় ১০০টি বেশি ওলন্দাজ কোম্পানী ভারতে কর্মরত। এছাড়া, হেগ, রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসনের জন্য ভারতের দাবী এবং বিভিন্ন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সমর্থন করে আসছে। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ বলেন দৃঢ় ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে দুটি দেশ অভিনবত্ব, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি চালিত এক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। তিনি আরো বলেন স্মার্ট সমাধান, স্মার্ট সিটি, দুষণ হীন জ্বালানী শক্তি, স্টার্ট আপ এবং নতুন যুগের পণ্য সামগ্রী আমাদের নৈকট্য বাড়িয়ে তুলছে। তাছাড়া নদীর পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে ভারত নেদারল্যান্ডের কাছে থেকে অনেক কিছু শিখতে আগ্রহী।
১৯৫৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর প্রথম নেদারল্যান্ড সফরের সময় তাঁর প্রদত্ত ভাষণ উদ্ধৃত করে রাজা উইলেম আলেক্সান্ডার বলেন আমরা সকলে পরস্পরের কাছাকাছি বাস করি। প্রসারিত সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইন ভিত্তিক বিশ্ব শৃংখলা রক্ষায় ভারত ইওরোপীয় গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ায় নেদারল্যান্ড আনন্দিত। রাষ্ট্রসংঘের ধারাবাহিক উন্নয়নের লক্ষ্যের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার তিনি প্রশংসা করেন।
নেদারল্যান্ডস ইওরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পঞ্চম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী এবং চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং ভারতীয় শিল্প মহাসংঘের আয়োজিত ২৫তম প্রযুক্তি শিখর বৈঠকের সময় এই রাজদম্পতির সফর। নেদারল্যান্ড এই সম্মেলনের অংশীদার। জল, কৃষি খাদ্য এবং স্বাস্থ্যের প্রতি সম্মেলনে আলোকপাত করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করে রাজা ইউলেম আলেক্সান্ডার বলেন, অভিনবত্ব সৃষ্টির সমতুল্য। আন্তর্জাতিক জ্ঞান এবং বিশেষজ্ঞ জ্ঞান একত্রিক করে সকলের জন্য নানান সামাজিক প্রশ্নের সমাধান করাই হল অভিনবত্ব।
সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্তরে, নেদারল্যান্ডে প্রবাসী ভারতীয়র সংখ্যা প্রায় ২৩৫,০০০। ব্রিটেনের পর ইওরোপে এই সংখ্যা সর্বাধিক। ১৫ই অক্টোবর রাজদম্পতি ঐতিহাসিক সাফদারজং টম্বে নেদারল্যান্ডে শিক্ষাগ্রহণকারী ৫০জন ভারতীয় প্রাক্তনীর একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলেন। ইংরাজী মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষার জন্য অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী বর্তমানে নেদারল্যান্ডের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।
মুম্বাইয়ে এই রাজদম্পতি ওলন্দাজ সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারত-ওলন্দাজ সংযোগের চারশো বছরের ঐতিহ্য সংক্রান্ত এক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। কেরালা যাত্রার মাধ্যমে তাঁদের সফরের সমাপ্তি ঘটে। সেখানে তাঁরা মাট্টানচেরীতে ওলন্দাজ প্রাসাদ পরিদর্শন করেন। রাজদম্পতির এই সফরের ফলে ভারত-নেদারল্যান্ড সম্পর্ক আরো মজবুত হবে। (মূল রচনাঃ অধ্যাপক উম্মু সালমা বাভা)
Comments
Post a Comment