ভারত স্বচ্ছ পরিবেশের প্রতি সংকল্পবদ্ধ

২রা অক্টোবর জাতীর জনকের সার্ধশততম জন্মবার্ষিকীতে ভারত স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিংগল ইউজ প্লাস্টিক বর্জনের অঙ্গীকার সহ একাধিক স্বচ্ছতা অভিযান চালু করার মাধ্যমে মহাত্মাগান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা বলবৎ না করলেও এই উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ২০২২এর মধ্যে দেশ থেকে সিংগল ইউজ প্লাস্টিক নির্মূলের বিষয়ে দেশের সংকল্পবদ্ধতার প্রতি আবারো জোর দিয়েছেন।

আনুমানিক হিসেবে দেখা গেছে, ভারতে প্রতিবছর ৬২ মিলিয়ন টন আবর্জনা সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে একটা বড় অংশ প্লাস্টিক। স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় অনবরত স্বচ্ছতা অভিযান চালানো এবং বর্জ ব্যবস্থাপনার সুব্যবস্থা সৃষ্টির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার ফলে দেশে যত্রতত্র আবজর্না ফেলা অনেকাংশে কমেছে। কিন্তু এখনও বিশেষ করে থলে, বোতল এবং কাপের মত একক ব্যবহারের প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চালানোর প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, এই সব প্লাস্টিক পদার্থে যে বিষাক্ত উপাদান রয়েছে তা মানব শরীরে প্রবেশ করে ক্যান্সার সহ নানান গুরুতর ব্যধির সৃষ্টি করে।

পরিবেশ দূষনের কারণ এই প্লাস্টিক। সিংগল ইউস প্লাস্টিক জলবায়ু পরিবর্তনকেও প্রতিকূলভাবে প্রভাবিত করছে। গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনের ক্ষেত্রে এর প্রতিকূল প্রভাব রয়েছে। সমীক্ষায় জানা গেছে ২০৫০ সালের মধ্যে মোট কার্বনের ১৩ শতাংশের জন্য দায়ী হবে প্লাস্টিক। বস্তুতপক্ষে, প্লাস্টিক সর্বস্য জীবনশৈলী থেকে উৎপন্ন গ্রীণ হাউস গ্যাস নির্গমন বিশ্বের তামমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে রাখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

থলে, বোতল, স্যাসের মত প্লাস্টিক সামগ্রী নদী, সমুদ্রের মত বিভিন্ন জলাশয়ের পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে, ফলে নদী এবং সমুদ্রের পরিবেশ ব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে। এর একমাত্র প্রতিকার হল প্লাস্টিকের ব্যবহারের ওপর প্রতিবন্ধকতা আরোপ এবং মহাত্মা গান্ধীর ১৫০ তম জন্ম বার্ষিকী পালনের মধ্যে দিয়ে ভারত এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারত আগামী তিন বছরে দেশকে কেবল সিংগল ইউস প্লাস্টিক থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যেই কাজ করছে না, গান্ধীজীর স্বপ্নকে সাকার করতে স্বচ্ছতার প্রতি তার সংকল্পও পালন করে চলেছে। দেশের ৯০ শতাংশ গ্রাম খোলা স্থানে শৌচ কর্ম মুক্ত হয়েছে। গত ৬০ মাসে সারা দেশে ১১কোটি শৌচাগার নির্মিত হয়েছে। এর কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী মোদির, কারণ ২০১৪সালে তাঁর সরকারের সূচনাকাল থেকেই তিনি স্বচ্ছতাকে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ মিশন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। শৌচাগারের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

এক সমীক্ষায় জানা গেছে প্রতিবছর এক লক্ষের বেশি শিশুর মৃত্যু ঘটে অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য বিধির কারণে। বিশ্বের প্রাচীনতম মেডিক্যাল পত্রিকা ল্যান্সেট জানিয়েছে ভারতে মানুষ এবং জন্তু জানোয়ারের মল থেকে উৎপন্ন জলবাহিত দূষণের ফলে সৃষ্ট অপুষ্টি এবং সংক্রমণ ডাইরিয়াজনিত মৃত্যুর বড় কারণ।

মশার বংশবৃদ্ধির সঙ্গে পরিচ্ছন্নতার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে, আর মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া ডেঙ্গুর মত রোগ সৃষ্টি হয় একথা অজানা নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী রোগ ও মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্বচ্ছতার লক্ষ্যে আচরণগত পরিবর্তনের ওপর বার বার জোর দিয়ে আসছেন। স্বচ্ছ ভারত মিশনে নেতৃত্ব দেবার জন্য সম্প্রতি বিল এবং মেলিন্দা গেটস ফাউন্ডেশন শ্রী মোদিকে গ্লোবাল গোলকীপার পুরস্কারে সম্মানিত করেছে।



এই মিশনে লক্ষ লক্ষ ভারতবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর একটি অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। ইউনিসেফ এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে ভারতের এই কর্মসূচির জন্য ৭৫ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং ভারতীয় অর্থনীতিতে ২০ লক্ষ কোটি টাকার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। স্বচ্ছতা কেবল ঈশ্বরীয়ই নয়, বিকাশ এবং ক্ষমতায়নের সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সুস্থ্য এবং সমৃদ্ধ সমাজের বিকাশের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশের গুরুত্ব অনুধাবন ব্যতিরেকে মহাত্মাগান্ধীর প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নিবেদনই যথেষ্ট নয়। (মূল রচনাঃ শংকর কুমার)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?