LPG আমদানির বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ মৌ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস এল পি জি আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত করতে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইল ফলক।

ভারত সরকার উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরায় এল পি জি সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে এই বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে। এথেকে বোঝা যায় যে দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক কতটা আন্তরিক এবং পরস্পরের অসুবিধার মোকাবিলায় উভয় দেশ কতটা সচেষ্ট।

এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে ভারতের সীমান্ত রাজ্যে গ্যাস সরবরাহ সারা বছর ধরে কেবল গ্যাস সরবরাহই সুনিশ্চিতই করবে না, বরং এর ফলে সময় ও পরিবহন ব্যয়ও অনেক কমে যাবে।

বর্তমানে ত্রিপুরায় মেঘালয় বা শিলচর থেকে এল পি জি সরবরাহ হয়ে থাকে এবং তা আসে গুয়াহাটি হয়ে। গুয়াহাটি থেকে পার্বত্য এবং ভূমিধ্বস প্রবণ রাস্তা দিয়ে ৬০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে এল পি জির ট্যাংকার ত্রিপুরা এসে পৌঁছয়। যার ফলে বর্ষাকালে অনেক সময়ই এই অত্যাবশ্যক পণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।

বাংলাদেশ থেকে এল পি জি সরবরাহ শুরু হয়ে গেলে বাংলাদেশের মঙ্গলা বন্দর থেকে পশ্চিম ত্রিপুরায় অবস্থিত ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশনের বোটলিং প্লান্ট পর্যন্ত এই দূরত্ব কমে হবে মাত্র ১২০ কলোমিটার।

শ্রী মোদি এবং শ্রীমতী হাসিনা উভয়েই পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঘনিষ্ট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি জোর দিয়ে বলেন, এই ক্ষেত্রে সাময়িক চ্যালেঞ্জগুলিকে কাটিয়ে উঠতে হবে।

বাংলাদেশের দুটি এল পি জি কোম্পানীর মাধ্যমে এই এল পি জি সরবরাহ করা হবে এবং রাষ্ট্রায়ত্ব ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এই এল পি জি বোতলজাত করে বিক্রি করবে। প্রচুর মাত্রায় এল পি জি সরবরাহ সংক্রান্ত এই সমঝোতা স্মারক পত্র, পূর্ব উপকূলবর্তি এলাকায় জ্বালানী সরবরাহের জন্য ভারতের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ণের দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ভারতের পশ্চিম উপকূলে তেল এবং গ্যাস আমদানির জন্য উন্নত পরিকাঠামো রয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ এই চুক্তির ফলে এই অঞ্চলে গ্যাস এবং জ্বালানী সরবরাহের মাধ্যমে অত্যাবশ্যক পণ্যের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

এল পি জি রপ্তানির ফলে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আয় বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া দুটি দেশের জীবনযাত্রা আরো সহজ হয়ে উঠবে। শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে এই বিষয়টি প্রতি জোর দেন।

বাংলাদেশ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এল পি জি এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানির সুবিধা দিতে এগিয়ে আসে। বাংলাদেশ ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের কাছে মিরশাহার অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০০০ একর জমি বরাদ্দ করেছে। বাংলাদেশ বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক মজবুত করার লক্ষ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য আশুগঞ্জ এবং মঙ্গলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আদর্শ অব্যাহত রেখে আখাউরা হয়ে বাংলাদেশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে রেল সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। ফেনি নদির ওপর সেতু নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে সড়ক যোগাযোগ খুলে যাবে। এর ফলে পারস্পরিক বিকাশ এবং সম্মৃদ্ধির নতুন পথ উন্মুক্ত হবে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এল পি জি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের দৃষ্টান্ত বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ভারত ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে তেল পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বিশেষজ্ঞ জ্ঞান দানের প্রস্তাব দিয়েছে।

ভূতত্ববিদদের মতে বাংলাদেশের একান্ত অর্থনৈতিক সামুদ্রিক অঞ্চলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম গ্যাস এবং তৈল ভান্ডার রয়েছে। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক হাইড্রোকার্বন উৎপাদক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশে সহায়তায় ন্যয্য মূল্যে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ জ্ঞান প্রদানের ক্ষেত্রে ভারত বড় অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মানবতা, পরম্পরা, সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রাণবন্ত অংশীদারিত্ব এবং মত বিনিময়। দুটি দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২০১৮-১৯এ বেড়ে হয়েছে ১০.৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একটি গ্যাস গ্রিড স্থাপনের জন্যও ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে।

লক্ষ্য হল পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে এল এন জি আমদানি করা। সম্প্রতি ভারতে জ্বালনী ব্যবহার দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০৪০ নাগাদ এই হার দ্বিগুণ হয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। দুটি দেশে মধ্যে এই সহযোগিতার ফলে পারস্পরিক আশা আকাঙ্ক্ষার সর্বাধিক বাস্তবায়ন ঘটবে হবে বলে আশা করা যায়। (মূল রচনাঃ দিপংকর চক্রবর্তী)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?