RCEP আলোচনায় অটল ভারত

আঞ্চলিক সর্বাত্মক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (RCEP) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত শলাপরামর্শ আসন্ন পূর্ব এশিয়া শিখর বৈঠক, আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন এবং অন্যান্য বৈঠকের আগে সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ২০২০র জুনে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পথ সুগম হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামীমাসের প্রথম দিকে ব্যাংককে পূর্ব এশিয়া শিখর সম্মেলন এবং অন্যান্য বৈঠকে যোগ দেবেন। বৈঠকের আলোচ্য সুচিতে RCEPও প্রাধান্য পাবে।

দশ সদস্যের দক্ষিন-পূর্ব এশিয় দেশগোষ্ঠীর সংগঠন (ASEAN) এবং ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং চীন এই ছ’টি অংশীদারী দেশ নিয়ে RCEPর আলোচনা হয়। ২০১২র নভেম্বর এই গোষ্ঠীর সূত্রপাত। গত সাত বছরে এসিয়ার বিভিন্ন অর্থনীতিকে সম্মিলিত করে আসিয়ানের নেতৃত্বে একাধিক বহুপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে।

সর্বশেষ বৈঠক এসপ্তাহে ব্যাংককে সমাপ্ত হল। আলোচনা চুক্তির ৮০ শতাংশের বেশি সম্পূর্ণ হয়েছে। জানা গেছে আলোচনাকারী দেশসমূহ ২২৫টি চুক্তির মধ্যে ১৮৫টির বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে পণ্য, পরিষেবা এবং বিনিয়োগ এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলিকে মেটাতে সক্ষম।

RCEP আসিয়ান সসদ্যদেশগুলিকে নিয়ে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক আলোচনার মূল স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। RCEP আলচনায় অংশগ্রহণকে ভারতের “পূবে কাজ করার নীত”র একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। RCEP র লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির পক্ষে প্রতিবন্ধকতাহীন বাণিজ্য সম্ভব হবে এবং আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্পর্কে উন্নততর স্থিতিশীলতা আসবে।

তবে, RCEP আলোচনার সন্তোষজনক সিদ্ধান্তের পথে একাধিক জটলতা রয়েছে। মতানৈক্যের প্রধান বিষয় হল বাজারে প্রবেশাধিকার এবং সংরক্ষিত পণ্য। আটটি প্রশ্ন বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। এগুলিতে RCEP আলোচনা চূড়ান্ত হবার আগে মন্ত্রী পর্যায়ে কথাবার্তা হওয়া প্রয়োজন। বিবাদ নিস্পত্তি প্রক্রিয়া, ই-বাণিজ্য, এবং মৌলিক নিয়ম ভারতের পক্ষে উদ্বেগের বিষয় বলে মনে হচ্ছে।

ব্যাংককে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রী পীয়ুষ গোয়েল ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে, এই বৈঠক সফল হয় নি কারণ বেশিরভাগ বকেয়া প্রশ্ন অমিমাংসিত রয়ে গেছে। যৌথ ঘোষণাপত্র নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছনো যায় নি।

ভারত পারস্পরিক সহমতের জন্য অন্যান্য আলোচনাকারীদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে, এথেকে বোঝা যায় যে নতুন দিল্লী ন্যয্য নিয়মভিত্তিক আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির প্রতি তাঁর অটল বিশ্বাসে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ভারতের উদ্বেগের প্রত্যক্ষ কারণ হল ভারতীয় বাজারে চীনের অবাধ প্রবেশের সম্ভাবনা। চীন RCEP চুক্তি দ্রুত সম্পাদনে আগ্রহী কারণ এতে পেইচিং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি বাণিজ্য সংঘাতে ভারতীয় বাজারে বৃহত্তর প্রবেশের মত অধিক সুবিধা পাবে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রের বিধি-নিষেধের ফলে গুরুত্বপূর্ণগুলি ক্ষেত্র চীনের কাছ থেকে সুরক্ষিত রয়েছে কিন্তু RCEP-পরবর্তি সময়ে তা আর থাকবে বলে মনে হয় না। । তাছাড়া চীনের সঙ্গে ভারতের ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। পেইচিং ভারতের উদ্বেগের নিরসনের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতীয় অর্থনীতির উপ-ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে গ্রামীণ জনগণ প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। এই ধরণের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ভারত ডেটা লোকালাইজেশন, মৌলিক নিয়ম এবং আমদানির উর্ধসীমা স্থির করার মত বিষয়গুলিতে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে কোনো দেশ এদেশে সস্তা পণ্য গুদামজাত করতে না পারে।

নতুন দিল্লীর প্রস্তাবিত রক্ষাকবচ সমূহ চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হলে ভারত RCEPতে যোগ দিতে আগ্রহী। এই সব রক্ষা কবচের লক্ষ্য হল প্রান্তিক কৃষক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পসংস্থাগুলির স্বার্থ রক্ষায় ভারতীয় সমাজের দুর্বল শ্রেণীকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো। ভারতের দৃষ্টিভঙ্গীর প্রতি পুনরায় জোর দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী গোয়েল বলেন কোনো রকম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের আগে দেশজ শিল্প এবং ভারতীয় জনগণের সার্থ সুরক্ষিত রাখতে হবে।

ভারত তার জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং বহু-পাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টির জন্য অবিরাম প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। (মূল রচনাঃ রাহুল মিশ্র)

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকার উদ্বেগ

ভারতীয় অর্থনীতি পুনরয়জ্জীবনের দিশায়

হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – প্রহসন না বাস্তব?