ভারত-সার্বিয়া সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয় শঙ্কর সম্প্রতি সার্বিয়া সফর সম্পন্ন করলেন। শ্রী জয় শঙ্কর তাঁর এই সফরে বেলগ্রেডে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী ইভিকা ডাসিক, রাষ্ট্রপতি অ্যালেক্সান্ডার ভুসিক ও সংসদের অধ্যক্ষের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ জড়িত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন। আলোচনায় বহু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ নিয়েও মত বিনিময় হয়। এই আলোচনায় উভয় পক্ষ একবিংশ শতাব্দীর নতুন নতুন ধ্যান ধারণা ও আশা আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনের ওপর জোর দেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সার্বিয়া সফরের অন্যতম অঙ্গ ছিল দুটি দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন।
ভারত-সার্বিয়া সম্পর্কের এক উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। পূর্বতন যুগোস্লাভিয়ার অঙ্গ হিসেবে দুটি দেশ জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন- NAM’এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্র। সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ এই আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরু ও তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি জোশেফ মার্শাল টিটো’র নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ ক’রে থাকে। সে দেশের জন মানসে স্বামী বিবেকানন্দ ও রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের জীবন ও দর্শনের প্রভাব সর্বজন বিদিত।
ভারত ও সার্বিয়ার মধ্যে যুগ প্রাচীন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইতিহাসে অবশ্য শীতল যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে থাকে। জটিল আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে দুটি দেশেরই পররাষ্ট্র নীতিতে অগ্রাধিকারের বিষয়গুলিতে পরিবর্তন ঘটে, যার ফল স্বরূপ দুটি দেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে নিকট প্রতিবেশি দেশ ও শক্তিধর দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক। ফলে বিগত প্রায় ২৫ বছর সময়ে ভারত ও সার্বিয়ার মধ্যে সম্পর্কে কিছুটা শৈথিল্য লক্ষ্য করা যায়।
মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যই ছিল জয়শংকরের সাম্প্রতিক সার্বিয়া সফর। বর্তমানে দুটি দেশেরই জাতীয় স্তরে দ্রুত রূপান্তরণ প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলির অন্যতম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। অনুরূপ ভাবে সার্বিয়াও তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠে অর্থনৈতিক দিক থেকে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে, ও ২০২৫’এর মধ্যে দেশটির ইউরোপীয় সঙ্ঘ-EU’এর সদস্য পদ লাভের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
একবিংশ শতকের বিশ্ব অর্থব্যবস্থার স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার সামনে আজকের বিশ্বে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। অর্থনৈতিক সংরক্ষণবাদ ক্রমশ মাথা চাড়া দিচ্ছে। মূলধন সরবরাহের ওপর নানা শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের জাতীয় নিরাপত্তার সামনে নানা বিপদ ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কে চিরাচরিত কৌশলগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থতিতে ভারত ও সার্বিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে এই সব আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে। এই কারণেই দুটি দেশের রাজনৈতিক নেতৃর্গের মধ্যে এখন এক অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠছে। দুটি দেশ এখন প্রত্যেকেরই মূল জাতীয় স্বার্থকে সমর্থন করছে। বেলগ্রেড জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গকে ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ যেমন পরমাণু সরবরাহ গোষ্ঠী-NSG’তে ভারতের সদস্য পদকে ও রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ –UNSC’তে ভারতের স্থায়ী সদস্য পদের দাবিকে সার্বিয়া সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে ভারতও কসোভো’র একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার বিরুদ্ধে সার্বিয়ার অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে।
সার্বিয়ার ভূ-কৌশলগত অবস্থানও ভারতের পক্ষে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের মধ্যে সংযোগকারী দেশ হিসেবে সার্বিয়া পূর্ব ইউরোপ ও বলকান দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভারতের প্রবেশ পথ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে।
বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বিশেষ উল্লেখযোগ্য না হলেও ভারত সর্বাত্মক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব-RCEP থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবার ফলে সার্বিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দুটি দেশের মধ্যে একাধিক ক্ষেত্রে যেমন, বিনিয়োগ, ওষুধ শিল্প, কৃষি, তথ্য প্রযুক্তি, আয়ুর্বেদ ও যোগ সহ স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রতিরক্ষা ও পর্যটন ক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদন দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে এক নতুন মাত্রা দিতে পারে। বিশ্ব ব্যাংকের সমীক্ষায় সহজে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশের সূচকে ভারত ও সার্বিয়া-দুটি দেশই তালিকায় কয়েক ধাপ উঠে এসেছে। এ ছাড়া দ্বিপাক্ষিক ভিসা প্রক্রিয়া শিথিল করার কারণে দুটি দেশের ব্যবসায়িক মহলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, নতুন দিল্লি ও বেলগ্রেডের মধ্যে এখন ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব গড়ে ওঠার এক মজবুত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন হল রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে দুটি দেশকে পারস্পরিক স্বার্থে এক অভিন্ন লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া। (মূল রচনাঃ-রাজর্ষী রায় )
ভারত-সার্বিয়া সম্পর্কের এক উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। পূর্বতন যুগোস্লাভিয়ার অঙ্গ হিসেবে দুটি দেশ জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন- NAM’এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্র। সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ এই আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরু ও তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি জোশেফ মার্শাল টিটো’র নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ ক’রে থাকে। সে দেশের জন মানসে স্বামী বিবেকানন্দ ও রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের জীবন ও দর্শনের প্রভাব সর্বজন বিদিত।
ভারত ও সার্বিয়ার মধ্যে যুগ প্রাচীন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইতিহাসে অবশ্য শীতল যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে থাকে। জটিল আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে দুটি দেশেরই পররাষ্ট্র নীতিতে অগ্রাধিকারের বিষয়গুলিতে পরিবর্তন ঘটে, যার ফল স্বরূপ দুটি দেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে নিকট প্রতিবেশি দেশ ও শক্তিধর দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক। ফলে বিগত প্রায় ২৫ বছর সময়ে ভারত ও সার্বিয়ার মধ্যে সম্পর্কে কিছুটা শৈথিল্য লক্ষ্য করা যায়।
মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যই ছিল জয়শংকরের সাম্প্রতিক সার্বিয়া সফর। বর্তমানে দুটি দেশেরই জাতীয় স্তরে দ্রুত রূপান্তরণ প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলির অন্যতম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। অনুরূপ ভাবে সার্বিয়াও তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠে অর্থনৈতিক দিক থেকে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে, ও ২০২৫’এর মধ্যে দেশটির ইউরোপীয় সঙ্ঘ-EU’এর সদস্য পদ লাভের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
একবিংশ শতকের বিশ্ব অর্থব্যবস্থার স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার সামনে আজকের বিশ্বে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। অর্থনৈতিক সংরক্ষণবাদ ক্রমশ মাথা চাড়া দিচ্ছে। মূলধন সরবরাহের ওপর নানা শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের জাতীয় নিরাপত্তার সামনে নানা বিপদ ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কে চিরাচরিত কৌশলগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থতিতে ভারত ও সার্বিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে এই সব আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে। এই কারণেই দুটি দেশের রাজনৈতিক নেতৃর্গের মধ্যে এখন এক অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠছে। দুটি দেশ এখন প্রত্যেকেরই মূল জাতীয় স্বার্থকে সমর্থন করছে। বেলগ্রেড জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গকে ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ যেমন পরমাণু সরবরাহ গোষ্ঠী-NSG’তে ভারতের সদস্য পদকে ও রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ –UNSC’তে ভারতের স্থায়ী সদস্য পদের দাবিকে সার্বিয়া সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে ভারতও কসোভো’র একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার বিরুদ্ধে সার্বিয়ার অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে।
সার্বিয়ার ভূ-কৌশলগত অবস্থানও ভারতের পক্ষে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের মধ্যে সংযোগকারী দেশ হিসেবে সার্বিয়া পূর্ব ইউরোপ ও বলকান দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভারতের প্রবেশ পথ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে।
বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বিশেষ উল্লেখযোগ্য না হলেও ভারত সর্বাত্মক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব-RCEP থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবার ফলে সার্বিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দুটি দেশের মধ্যে একাধিক ক্ষেত্রে যেমন, বিনিয়োগ, ওষুধ শিল্প, কৃষি, তথ্য প্রযুক্তি, আয়ুর্বেদ ও যোগ সহ স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রতিরক্ষা ও পর্যটন ক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদন দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে এক নতুন মাত্রা দিতে পারে। বিশ্ব ব্যাংকের সমীক্ষায় সহজে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশের সূচকে ভারত ও সার্বিয়া-দুটি দেশই তালিকায় কয়েক ধাপ উঠে এসেছে। এ ছাড়া দ্বিপাক্ষিক ভিসা প্রক্রিয়া শিথিল করার কারণে দুটি দেশের ব্যবসায়িক মহলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, নতুন দিল্লি ও বেলগ্রেডের মধ্যে এখন ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব গড়ে ওঠার এক মজবুত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন হল রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে দুটি দেশকে পারস্পরিক স্বার্থে এক অভিন্ন লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া। (মূল রচনাঃ-রাজর্ষী রায় )
Comments
Post a Comment