ভারত RCEPর বাইরেঃ জাতীয় স্বার্থ সবচেয়ে উর্ধে
বিভিন্ন দেশ জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সেই স্বার্থের বাস্তবায়নের জন্য আঞ্চলিক নানান গোষ্ঠীতে যোগ দিয়ে থাকে। সাত বছর আগে যখন আঞ্চলিক সর্বাত্মক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব RCEP আলোচনা শুরু হয়, তাদের পূবে তাকানোর নীতি এবং পরবর্তীতে পূবে কাজ করার নীতির প্রেক্ষিতে ভারত স্বাভাবিক ভাবেই এই আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করে। এই গোষ্ঠির উদ্দেশ্য হল একটি আধুনিক, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং সর্বাত্মক আঞ্চলিক গোষ্ঠী গঠন করা এবং প্রতি পর্যায়ে ভারত এই ধরণের ফলাফলের জন্য অনবরত চাপ দিয়ে আসছিল।
পূর্ব এশিয় দেশগুলির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুফল না পাওয়া সত্বেও আঞ্চলিক সদস্যতার আদর্শে ভারত RCEP আলোচনায় প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। আসিয়ান, জাপান এবং কোরিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমান বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এফ টি এ অংশীদারদের কাছ থেকে আমদানি ক্রমশঃ বেড়েছে তবে ভারতের এফ টি এ ব্যবহারের হার খুবই নগন্য, এর মূল কারণ হল বাজারে প্রবেশের জন্য শুল্ক বহির্ভুত প্রতিবন্ধকতা। ভারত আসিয়ানের সঙ্গে বাণিজ্য ও পণ্য চুক্তির আওতায় তাদের শুল্ক বহুলাংশে হ্রাস করেছে কারণ তারা আশা করেছিল পরিষেবা চুক্তিতে তারা বাণিজ্যের এই লোকসান মিটিয়ে নেবে। কিন্তু আসিয়ান সদস্যদের অনীহার ফলে দুর্ভাগ্য বশতঃ পণ্য চুক্তিতে বাণিজ্য কখনও সেইভাবে বৃদ্ধি পায় নি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি RCEP সদস্যদের পণ্য ও পরিষেবা আলোচনায় সংযোগ স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানান। দুর্ভাগ্যবশতঃ কোনো কোনো দেশ তাদের পরিষেবা ক্ষেত্র উন্মুক্ত করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। অথচ তারা পণ্য বাজার উন্মুক্ত করার জন্য ভারতের কাছে দাবী করতে থাকে।
RCEP চুক্তি চূড়ান্ত করার সময় সীমা বার বার সম্প্রসারিত হতে থাকে। প্রাথমিকভাবে আলোচনার জন্য ২০১৪সালের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশের শুল্ক হার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেহেতু RCEP ২০২০ থেকে কার্যকর করার কথা স্থির হয় তাই ভারত অনুরোধ জানায় যে বর্তমান বাস্তবতার প্রতিফলনের জন্য সীমা শুল্ক ছাড়ের ভিত্তি বর্ষ ২০১৯ স্থির করা হোক। অনেক দেশ সেই পরামর্শ স্বীকার করে নি। এদিকে, বিশেষ করে চীনের রপ্তানিতে ভারতীয় বাজার ভরে যায় এবং অভ্যন্তরীণ শিল্পে আশংকার সৃষ্টি হয়। সেই কারণে ভারত স্বয়ং রক্ষাকবচ ব্যবস্থাপনার অনুরোধ জানায় যেখানে আমদানির আধিক্য প্রতিরোধ করতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের সংস্থান রয়েছে। হয়তো ভারতের বৃহদাকার অভ্যন্তরীন বাজারের লোভে বিভিন্ন দেশ এই অনুরোধও স্বীকার করে নি।
এছাড়া ভারত পার্থক্যমূলক শুল্কের অপব্যবহার প্রতিরোধের লক্ষ্যে কঠোর নিয়মের জন্য চাপ দেয়। ভারত ২০ বছর ধরে চীনা পণ্যের শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে রাজী হয়। তবে স্বল্প উন্নয়নশীল দেশগুলি থেকে এই সব পণ্যের অধিকাংশের শুল্ক মুক্ত বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত অসাধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে তাদের অভ্যন্তরীন বাজারের সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থার দাবী জানিয়ে এসেছে। কিন্তু RCEP সদস্যদেশগুলির প্রতিবন্ধকতার জন্য এই দাবীর প্রতি কর্ণপাত করা হয় নি।
RCEP ব্লকের অপেক্ষাকৃত ধনী দেশগুলির চালু করা অন্যান্য ডাব্লু টি ও সংস্থানের ভারতের মত উন্নয়নশীল দেশগুলির ওপর গুরুতর প্রভাব পড়বে।
এই ধরণের অনেক উদ্বেগ ভারতের বাণিজ্য এবং শিল্প মন্ত্রী এবং অন্যান্য RCEP কর্মকর্তারা মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এবং আলোচনা পর্যায়ে একাধিকবার প্রকাশ করেছেন। দুঃখের বিষয় ভারসাম্যযুক্ত ফলাফলের অভাবে ভারত RCEPতে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মূল কারণ হল দেশীয় ক্ষেত্র এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা বাণিজ্যের স্বার্থ রক্ষা করা। তবে RCEP সংক্রান্ত যৌথ নেতাদের বিবৃতিতে ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে যদি নতুন দিল্লীর স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হয় এবং সন্তোষজনকভাবে বকেয়া প্রশ্নগুলির মিমাংসা করা হয় তবে RCEP চুক্তিতে স্বাক্ষরের কথা ভারত বিবেচনা করতে পারে। (মূল রচনাঃ সত্যজিৎ মোহান্তি)
পূর্ব এশিয় দেশগুলির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুফল না পাওয়া সত্বেও আঞ্চলিক সদস্যতার আদর্শে ভারত RCEP আলোচনায় প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। আসিয়ান, জাপান এবং কোরিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমান বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এফ টি এ অংশীদারদের কাছ থেকে আমদানি ক্রমশঃ বেড়েছে তবে ভারতের এফ টি এ ব্যবহারের হার খুবই নগন্য, এর মূল কারণ হল বাজারে প্রবেশের জন্য শুল্ক বহির্ভুত প্রতিবন্ধকতা। ভারত আসিয়ানের সঙ্গে বাণিজ্য ও পণ্য চুক্তির আওতায় তাদের শুল্ক বহুলাংশে হ্রাস করেছে কারণ তারা আশা করেছিল পরিষেবা চুক্তিতে তারা বাণিজ্যের এই লোকসান মিটিয়ে নেবে। কিন্তু আসিয়ান সদস্যদের অনীহার ফলে দুর্ভাগ্য বশতঃ পণ্য চুক্তিতে বাণিজ্য কখনও সেইভাবে বৃদ্ধি পায় নি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি RCEP সদস্যদের পণ্য ও পরিষেবা আলোচনায় সংযোগ স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানান। দুর্ভাগ্যবশতঃ কোনো কোনো দেশ তাদের পরিষেবা ক্ষেত্র উন্মুক্ত করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। অথচ তারা পণ্য বাজার উন্মুক্ত করার জন্য ভারতের কাছে দাবী করতে থাকে।
RCEP চুক্তি চূড়ান্ত করার সময় সীমা বার বার সম্প্রসারিত হতে থাকে। প্রাথমিকভাবে আলোচনার জন্য ২০১৪সালের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশের শুল্ক হার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেহেতু RCEP ২০২০ থেকে কার্যকর করার কথা স্থির হয় তাই ভারত অনুরোধ জানায় যে বর্তমান বাস্তবতার প্রতিফলনের জন্য সীমা শুল্ক ছাড়ের ভিত্তি বর্ষ ২০১৯ স্থির করা হোক। অনেক দেশ সেই পরামর্শ স্বীকার করে নি। এদিকে, বিশেষ করে চীনের রপ্তানিতে ভারতীয় বাজার ভরে যায় এবং অভ্যন্তরীণ শিল্পে আশংকার সৃষ্টি হয়। সেই কারণে ভারত স্বয়ং রক্ষাকবচ ব্যবস্থাপনার অনুরোধ জানায় যেখানে আমদানির আধিক্য প্রতিরোধ করতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের সংস্থান রয়েছে। হয়তো ভারতের বৃহদাকার অভ্যন্তরীন বাজারের লোভে বিভিন্ন দেশ এই অনুরোধও স্বীকার করে নি।
এছাড়া ভারত পার্থক্যমূলক শুল্কের অপব্যবহার প্রতিরোধের লক্ষ্যে কঠোর নিয়মের জন্য চাপ দেয়। ভারত ২০ বছর ধরে চীনা পণ্যের শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে রাজী হয়। তবে স্বল্প উন্নয়নশীল দেশগুলি থেকে এই সব পণ্যের অধিকাংশের শুল্ক মুক্ত বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত অসাধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে তাদের অভ্যন্তরীন বাজারের সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থার দাবী জানিয়ে এসেছে। কিন্তু RCEP সদস্যদেশগুলির প্রতিবন্ধকতার জন্য এই দাবীর প্রতি কর্ণপাত করা হয় নি।
RCEP ব্লকের অপেক্ষাকৃত ধনী দেশগুলির চালু করা অন্যান্য ডাব্লু টি ও সংস্থানের ভারতের মত উন্নয়নশীল দেশগুলির ওপর গুরুতর প্রভাব পড়বে।
এই ধরণের অনেক উদ্বেগ ভারতের বাণিজ্য এবং শিল্প মন্ত্রী এবং অন্যান্য RCEP কর্মকর্তারা মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এবং আলোচনা পর্যায়ে একাধিকবার প্রকাশ করেছেন। দুঃখের বিষয় ভারসাম্যযুক্ত ফলাফলের অভাবে ভারত RCEPতে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মূল কারণ হল দেশীয় ক্ষেত্র এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা বাণিজ্যের স্বার্থ রক্ষা করা। তবে RCEP সংক্রান্ত যৌথ নেতাদের বিবৃতিতে ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে যদি নতুন দিল্লীর স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হয় এবং সন্তোষজনকভাবে বকেয়া প্রশ্নগুলির মিমাংসা করা হয় তবে RCEP চুক্তিতে স্বাক্ষরের কথা ভারত বিবেচনা করতে পারে। (মূল রচনাঃ সত্যজিৎ মোহান্তি)
Comments
Post a Comment