তালিবান-মার্কিন আলোচনা শুরু হলেও সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ
বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে এক ধন্যবাদ জ্ঞাপণ সফরের সময় মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের তালিবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার কথা ঘোষনা করার কয়েকদিন পর বুধবার সেই বিমানঘাঁটির বাইরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তালিবানদের এক শক্তিশালী আত্মঘাতি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণ থেকে বোঝা যায় যে শান্তি আলোচনা কতটা অসুবিধা সাপেক্ষ। তালিবান রাজনৈতিক দল মার্কিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকের জন্য যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ঠিক সেই সময় এই গোষ্ঠী কাবুলে নেটোর সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর পর মার্কিন রাষ্ট্রপতি তালিবানদের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রাখেন। তখন থেকেই শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। সেপ্টেম্বরের সমস্যার পর থেকেই তালিবানরা বলে আসছে যে তারা আলোচনার জন্য তৈরি। তারা জানিয়েছে অস্ত্র বিরতির শর্তাদি চূড়ান্ত হলে লড়াইয়ের অবসান হবে। এই বার্তা নিয়ে তারা পেইচিং, মস্কো এবং ইস্লামাবাদ সফর করে।
বিলম্ব সত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তালিবানদের মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই কথাবার্তা পুনরায় শুরু হয়েছে বলে তালিবান মুখপাত্র সুহাইল শাহীন জানিয়েছে। তালিবানরা আফগানিস্তানের নাম ইস্লামিক সাধারণতন্ত্রের পরিবর্তে ইস্লামিক আমীরশাহী করতে চায়। রাষ্ট্রপতি আশরফ গণির নেতৃত্বাধীন বর্তমান আফগানিস্তান সরকার এই বিষয়ে বাধা দেবে কারণ তারা বারবার বলে আসছে যে আফগানিস্তান সরকারের মূল পরিচয়ের সঙ্গে কোনো রকম আপোশ সম্ভব নয়।
তালিবানদের মতে সেপ্টেম্বরে আলোচনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে একাধিক প্রশ্নের মিমাংসা হয়েছে তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হল অস্ত্রবিরতির শর্তাবলী এবং তারপর আফগানিস্তান সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা। আগামী কিছু সপ্তাহ এবং মাসের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কাবুলের সরকারের মধ্যে এই জটিল বিষয়ের নিস্পত্তি করতে হবে।
আর একটি অনভিপ্রেত বিষয় তালিবানরা উত্থাপন করবে, তা হল কাবুল সরকারের মর্যাদা। ২৮শে সেপ্টেম্বর আফগান রাষ্ট্রপতির নির্বাচন হয়, কিন্তু এখনও তার ফলাফল আসে নি। এদিকে, ড. গণির প্রতিদ্বন্দ্বি ড. আবদুল্লা আবদুল্লা আফগানিস্তানে প্রতিবাদ বৈঠক করে গণনায় স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন। নির্বাচন সংক্রান্ত বিবাদের জেরে সম্ভাব্য হিংসা বিস্ফোরক তালিবান-মার্কিন আলোচনাকে আরো জটিল করে তুলবে।
গণি সরকারের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন না থাকলে তালিবান তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। সেক্ষেত্রে তা তালিবানদের পক্ষেই যাবে। বস্তুতপক্ষে তালিবানরা নিজেদের জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে মনে করে। আন্তর্জাতিক স্তরের অনেকেই এমন এক সমাধানের পক্ষপাতি যেখানে তালিবানরা আফগানিস্তানে ক্ষমতার অংগ হবে।
রুশ সূত্র থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে যে ক্ষমতাবন্টন ব্যবস্থায় তালিবানদের অন্তর্ভুক্তি ক্রমশ অনিবার্য হয়ে উঠছে কারণ ইস্লামিক রাষ্ট্র শক্তিগুলি আফগান ভূখন্ডে আসতে শুরু করেছে। আফগান ভূখন্ডে ইস্লামিক রাষ্ট্র শক্তির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ঘটলে সোভিয়েত-পরবর্তী দেশ সমূহের মধ্য এশিয়া এবং চীনের উপদ্রুত শিনজিয়াং প্রদেশে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার এবং উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকায় রাশিয়া এবং চীন উদ্বিগ্ন রয়েছে। আই এস এর কাছ থেকে দীর্ঘ মেয়াদী কোনো সমস্যা এড়াতে রাশিয়া এবং চীন বহু স্তরীয় ক্ষমতা বন্টন ব্যবস্থায় তালিবানদের যোগদানের পক্ষপাতি। মনে হচ্ছে তালিবানরা আফগান সরকারের সঙ্গে অস্ত্র বিরতি ঘোষণা করার পর অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশ আফগানিস্তানের সকল শ্রেণীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা শুরু করবে।
উপযুক্ত শান্তির পরিবেশ না থাকায় আফগানিস্তানে সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে উঠছে। কেউ কেউ আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ ঘোষণা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। প্রাক্তন আফগান রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই তালিবানদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য আফগানিস্তানে একতরফা অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আফগানিস্তানের ঘটনাবলীর প্রতি ভারতকে প্রতিনিয়ত দৃষ্টি রাখতে হবে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত এই দেশ পুনর্গঠনে নতুন দিল্লী সম্পূর্ণরুপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে দেশের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ভারত ১শো কোটি মার্কিন ডলার অর্থ দিচ্ছে।
এখন দেখার বিষয় হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তালিবান এবং আফগানিস্তান সরকারের মত বিভিন্ন অংশীদার সে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কিভাবে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যায়। আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীরা আলোচনায় অগ্রগতির প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখবে বলেই মনে হয়। (মূল
Comments
Post a Comment