ব্রিটেনে নির্বাচন এবং ব্রেক্সিট
২০১৬ সালের ২৩শে জুনের গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত ব্রেক্সিট ঘোষণার পর থেকেই ব্রিটেনে দোলাচল চলছে। এর প্রভাব শুধুমাত্র দুই প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এবং থেরেসা মে’র ওপরেই পড়ে নি, ব্রিটেনকে আরো বেশী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সহ সংকটজনক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত সমঝোতার অনুমোদনের জন্য থেরেসা মে বার বার সংসদের দ্বারস্থ হলেও তাঁর দল কনজারভেটিভ পার্টি তা সমর্থন করে নি। ফলস্বরূপ তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। ২০১৯’এর জুলাই মাসে বরিস জনসন দলের নতুন নেতা তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১৯’এর ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত ব্রিটিশ সংসদের সমর্থন পান নি। ব্রাসেলস এই সময়সীমা ৩ মাস পর্যন্ত বাড়িয়ে ২০২০’র জানুয়ারি করেছে। সংসদে হৈচৈ’এর প্রেক্ষিতে বরিস জনসন ২০১৯’এর ২৪শে অক্টোবর নির্বাচন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন।
ইউরোপীয় অর্থনৈতিক গোষ্ঠী – EECতে ব্রিটেনের যোগদানও নাটকীয় ছিল। ১৯৫৭ সালে EEC’র সূচনা হয়। সেসময় ফরাসী রাষ্ট্রপতি শার্ল দ্য গল ব্রিটেনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন। ব্রিটেন ১৯৭৩ সালে এই গোষ্ঠীতে যোগ দেয়। EEC ১৯৯২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রূপান্তরিত হয়। তবে ব্রিটেন অন্যান্য সদস্য দেশের মতো ইইউ’এর মুদ্রা ইউরো বা অভিন্ন শেংগেন ভিসা ব্যবস্থা গ্রহণ না করে নিজস্ব মুদ্রা ও ভিসা ব্যবস্থা অপরিবর্তিত রাখে। এ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই অন্যান্য সদস্য দেশগুলির সঙ্গে লন্ডনের মতানৈক্য প্রকট হয়েছে। এর ফলে গত এক দশকে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীন রাজনীতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিষয়ে বিরূপ মনোভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতির ফলে দ্বিদলীয় ব্যবস্থা এবং স্থিতিশীল সরকার সহ সংসদীয় গণতন্ত্রের ধাত্রী হিসেবে পরিচিত ব্রিটেনে একাধিক নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করছে। যখন লেবার পার্টি ও কনজার্ভেটিভ পার্টি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে অক্ষম হয়েছে তখন লিবারাল ডেমোক্র্যাট, ব্রেক্সিট পার্টি, ডেমোক্রাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি এবং ইউকে ইন্ডিপেনডেন্স পার্টির মতো দলগুলি সিদ্ধান্ত নির্ধারকের ভূমিকা নিয়েছে। এর সঙ্গে স্কটিশদের স্বাধীনতার দাবি ব্রিটিশ রাজনীতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। গত পাঁচ বছরে ব্রিটেনে তিনবার সাধারণ নির্বাচন হয়েছে। ‘ব্রেক্সিট’ দেশ, রাজনীতি এবং জনগণের বিভেদ সৃষ্টি করছে।
ব্রেক্সিটের বিষয়ে জনগণের স্পষ্ট সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে নির্বাচনের আহ্বান বরিস জনসনের এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। নির্বাচনের ঘোষণার পর থেকেই লেবার দল নেতা জেরমি করবিনের সঙ্গে তাঁর বাকযুদ্ধ চলেছে। ভোটপরবর্তী সমীক্ষা অনুসারে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত আকর্ষণীয় শ্লোগানটি জনগণের মত নির্ধারণে সহায়ক হয়েছে। তবে ২০২০’র ৩১শে জানুয়ারির মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা সম্পূর্ণ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। ব্রিটেনকে ইইউ’এর সঙ্গে সম্পর্কের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখতে হবে। এই জয় জনসনের ব্যক্তিগত জয়। পিছনের সারি থেকে এগিয়ে এসে আজ তিনি সভার নেতা হিসেবে তার মতো করে ব্রেক্সিট বিষয়টিকে উত্থাপন করছেন।
এ বছরের শুরুর দিকে বরিস জনসন ২০১৯’এর মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনে জয়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভারত এবং ব্রিটেন আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। ব্রেক্সিটের প্রেক্ষিতে ব্রিটেনকে বাণিজ্য সম্পর্কগুলিকে নতুনভাবে সাজাতে বা পুণরুজ্জীবিত করতে হবে। এই ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভার্ ব্রিটেনে পড়তে ইচ্ছুক ছাত্রীদের জন্য ভিসা সুবিধা আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেবে। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের সমঝোতার স্বরূপের ওপরেই সেদেশের বাণিজ্যের প্রসারের বিষয়টি নির্ভর করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
( মূল রচনাঃ উম্মু সালমা বাওয়া)
ইউরোপীয় অর্থনৈতিক গোষ্ঠী – EECতে ব্রিটেনের যোগদানও নাটকীয় ছিল। ১৯৫৭ সালে EEC’র সূচনা হয়। সেসময় ফরাসী রাষ্ট্রপতি শার্ল দ্য গল ব্রিটেনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন। ব্রিটেন ১৯৭৩ সালে এই গোষ্ঠীতে যোগ দেয়। EEC ১৯৯২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রূপান্তরিত হয়। তবে ব্রিটেন অন্যান্য সদস্য দেশের মতো ইইউ’এর মুদ্রা ইউরো বা অভিন্ন শেংগেন ভিসা ব্যবস্থা গ্রহণ না করে নিজস্ব মুদ্রা ও ভিসা ব্যবস্থা অপরিবর্তিত রাখে। এ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই অন্যান্য সদস্য দেশগুলির সঙ্গে লন্ডনের মতানৈক্য প্রকট হয়েছে। এর ফলে গত এক দশকে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীন রাজনীতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিষয়ে বিরূপ মনোভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতির ফলে দ্বিদলীয় ব্যবস্থা এবং স্থিতিশীল সরকার সহ সংসদীয় গণতন্ত্রের ধাত্রী হিসেবে পরিচিত ব্রিটেনে একাধিক নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করছে। যখন লেবার পার্টি ও কনজার্ভেটিভ পার্টি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে অক্ষম হয়েছে তখন লিবারাল ডেমোক্র্যাট, ব্রেক্সিট পার্টি, ডেমোক্রাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি এবং ইউকে ইন্ডিপেনডেন্স পার্টির মতো দলগুলি সিদ্ধান্ত নির্ধারকের ভূমিকা নিয়েছে। এর সঙ্গে স্কটিশদের স্বাধীনতার দাবি ব্রিটিশ রাজনীতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। গত পাঁচ বছরে ব্রিটেনে তিনবার সাধারণ নির্বাচন হয়েছে। ‘ব্রেক্সিট’ দেশ, রাজনীতি এবং জনগণের বিভেদ সৃষ্টি করছে।
ব্রেক্সিটের বিষয়ে জনগণের স্পষ্ট সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে নির্বাচনের আহ্বান বরিস জনসনের এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। নির্বাচনের ঘোষণার পর থেকেই লেবার দল নেতা জেরমি করবিনের সঙ্গে তাঁর বাকযুদ্ধ চলেছে। ভোটপরবর্তী সমীক্ষা অনুসারে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত আকর্ষণীয় শ্লোগানটি জনগণের মত নির্ধারণে সহায়ক হয়েছে। তবে ২০২০’র ৩১শে জানুয়ারির মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা সম্পূর্ণ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। ব্রিটেনকে ইইউ’এর সঙ্গে সম্পর্কের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখতে হবে। এই জয় জনসনের ব্যক্তিগত জয়। পিছনের সারি থেকে এগিয়ে এসে আজ তিনি সভার নেতা হিসেবে তার মতো করে ব্রেক্সিট বিষয়টিকে উত্থাপন করছেন।
এ বছরের শুরুর দিকে বরিস জনসন ২০১৯’এর মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনে জয়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভারত এবং ব্রিটেন আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। ব্রেক্সিটের প্রেক্ষিতে ব্রিটেনকে বাণিজ্য সম্পর্কগুলিকে নতুনভাবে সাজাতে বা পুণরুজ্জীবিত করতে হবে। এই ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভার্ ব্রিটেনে পড়তে ইচ্ছুক ছাত্রীদের জন্য ভিসা সুবিধা আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেবে। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের সমঝোতার স্বরূপের ওপরেই সেদেশের বাণিজ্যের প্রসারের বিষয়টি নির্ভর করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
( মূল রচনাঃ উম্মু সালমা বাওয়া)
Comments
Post a Comment